করোনার কাছে হার মানলেন ইরাকের ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি আহমেদ রাধি

Mysepik Webdesk: ১৯৮৬-র বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশ মেক্সিকো। শক্তিশালী বেলজিয়ামের সঙ্গে খেলতে নামবে ইরাক। এবং এবং এবং… ইরাক ফুটবলে একপ্রকার বিপ্লব ঘটিয়ে গোল করলেন তিনি। আহমেদ রাধি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে করা তাঁর গোল ইতিহাস সৃষ্টি করলেও বেলজিয়াম ম্যাচটি জিতেছিল ২-১ গোলে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির এই ফুটবলার মাঠে একক দক্ষতায় দলকে জিতিয়েছেন বহু ম্যাচ। কিন্তু করোনার কাছে জীবনযুদ্ধে হার মানলেন ইরাকের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

আরও পড়ুন: চলে গেলে রঞ্জির সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি

মৃত্যুকালে রাধির বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। গত সপ্তাহে করোনা টেস্টের পর কোভিড-১৯ পজিটিভ হন রাধি। বাগদাদের স্থানীয় এক হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে, বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর থেকে তিনি আবার অসুস্থতা বোধ করেন। পুনর্বার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। তবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন না রাধি। পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে তাঁকে জর্ডনে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু সমস্ত আশাকে হত করে রবিবার মারা যান ইরাক ফুটবলের এই কিংবদন্তি।

ইরাকের হয়ে ১২১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬২টি গোল করেছেন রাধি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে করা সেই গোলটিই ছিল সেরার সেরা। তিনি এশিয়ার সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৮৮ সালে। তিনিই একমাত্র ইরাকীয়, যিনি এই সম্মান পেয়েছিলেন। ১৯৯৯-এ এশিয়ার শতাব্দী সেরা ফুটবলারদের তালিকায় নবম স্থানে ছিলেন তিনি। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিকেও। ‘৮৪ ও ‘৮৮ ইরাকের গালফ কাপ বিজয়ে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন রাধি।

আরও পড়ুন: বাপকা বেটা: প্রসঙ্গ ফুটবল মাঠে পারফরম্যান্স

২০০৬ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের কথা সবারই জানা। সেই সময় সপরিবারে জর্ডনের রাজধানী আম্মানে চলে আসেন রাধি। পরের বছরেই ইরাকে ফিরে রাজনীতিতে অভিষেক ঘটান। যদিও ২০১৪ এবং ২০১৮-র নির্বাচনে হার স্বীকার করেন তিনি।

Facebook Twitter Print Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *