বাপকা বেটা: প্রসঙ্গ ফুটবল মাঠে পারফরম্যান্স

International Father's Day

ইন্দ্রজিৎ মেঘ

যদিও ফুটবলে বিভিন্ন পথ এক হয়ে মেশে। তবুও এটি মাঝেমাঝেই একটি পারিবারিক খেলার মতো, যা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। অনেক বিখ্যাত ফুটবলারের ছেলেরা তাঁদের বাবার পদক্ষেপে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বেশ সফলও হয়েছেন। আজ আন্তর্জাতিক বাবা দিবস (International Father’s Day)-এ এমন পাঁচজন সফল পিতা-পুত্র জুটির সঙ্গে আজ পরিচয় করাব, যাঁরা ফুটবল মাঠে দুর্দান্ত রেকর্ড অর্জন করেছেন।

তিন প্রজন্ম স্পেনের হয়ে খেলেছেন

বর্তমানে চেলসি এবং স্পেনের হয়ে খেলা মার্কেস অ্যালোনসোর দাদু মার্কিতোস রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৫৮টি ম্যাচ খেলে পাঁচটি ইউরোপীয় কাপ জিতেছিলেন। ১৯৮২ সালে আটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে বার্সেলোনায় আসার সময় স্পেনীয় ফুটবলে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফার প্লেয়ার হয়েছিলেন মার্কিতোসের ছেলে মার্কোস অ্যালোনসো। অন্যদিকে, চেলসির হয়ে খেলা অ্যালোনসো ডিফেন্সে খেলার সময় বাবার গোলস্কোরিং রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। চেলসির হয়ে খেলা ১০৬ ম্যাচে ১৯ গোল করেছেন।

আরও পড়ুন: রোগ হলে ওষুধ খাওয়ার চেয়ে যে ওষুধে রোগ হবেই না তা হল যোগ

আউবামেয়াং ও তাঁর বাবা

এখনকার চেলসি ফরোয়ার্ড পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াংয়ের বাবা পিয়েরে আউবামেয়াং একজন ডিফেন্ডার ছিলেন। তিনি তাঁর ক্লাব কেরিয়ারে ৪০০-রও বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন। ২০১৮-র জানুয়ারিতে আর্সেনাল পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াংকে ক্লাবের রেকর্ড মূল্য ৭৮ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনেছিল। ২০১৩-২০১৮ পর্যন্ত তিনি খেলেছিলেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে। ১৪৪ ম্যাচে ৯৮টি গোল করেছিলেন ডর্টমুন্ডের জার্সি গায়ে। তাঁর এই পারফরম্যান্স ফুটবল জগতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। আর্সেনালের জার্সি গায়েও তিনি যথেষ্ট উজ্জ্বল। আর্সেনালের জার্সি গায়ে চাপিয়ে তিনি ৭৭ ম্যাচে ৪৯টি গোল করেছেন।

আরও পড়ুন: বিশ্ব সংগীত দিবস: স্মরণে বড়ে গোলাম আলি

পিতা-পুত্র আইয়্যাক্সের হয়ে খেলছেন

প্রাক্তন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ফুটবলার ডেইলি ব্লাইন্ড বর্তমানে তাঁর হোম ক্লাব আইয়্যাক্সের হয়ে খেলছেন। ব্লাইন্ডের বাবা ডেনি ব্লাইন্ড আইয়্যাক্সের হয়ে খেলতে গিয়ে ৩৭২ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউইএফএ উইনার্স কাপ, উয়েফা কাপ এবং উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিলেন। অন্যদিকে, ডেইলি ব্লাইন্ড তাঁর বাবার চেয়ে নেদারল্যান্ডসের হয়ে বেশি খেলেছেন এবং ক্লাব পর্যায়ে তাঁর রেকর্ডটিও বেশ ভালো।

বিশ্বকাপ জয়ী বাবার ছেলে

ব্রাজিলের হয়ে ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ মাজনিও তাঁর ক্লাব কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময় স্পেন এবং ইতালিতে কাটিয়েছিলেন। তাঁর পুত্র থিয়াগো এবং রাফিনিয়া বার্সেলোনার হয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। বর্তমানে রাফিনিয়া বার্সেলোনা এবং থিয়াগো বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলছেন। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ফুটবলে থিয়াগো স্পেনের হয়ে এবং ব্রাজিলের হয়ে খেলেন রাফিনিয়া।

গোলকিপার বাবার গোলকিপার ছেলে

মিগুয়েল রেইনা বার্সেলোনা এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে তাঁর ছেলে পেপে তিনটি আলাদা ক্লাবের জন্য ১০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন। কেরিয়ারে লিভারপুলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ২৮৫ ম্যাচ খেলেছিলেন পেপে। পেপে এবং মিগুয়েল দু’জনেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বিজিতের দলে। তবে স্পেনের হয়ে একটি বিশ্বকাপ এবং দু’টি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন পেপে।

Facebook Twitter Print Whatsapp

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *