‘ফেয়ার কী করে লাভলি হয়ে গেল তা আজও বুঝতে পারেননি’, বিপাশা বসু

Mysepik Webdesk: সম্প্রতি ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপন নিয়ে বেশ বিতর্ক ছড়িয়েছে। এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বর্ণবৈষম্যকেই প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশ্ন উঠেছে। এবারে ভারতের ইউনিলিভার (Unilever) কোম্পানির ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’ ক্রিম ‘ফেয়ার’ কথাটি চিরতরে বিদায় নিতে চলেছে। গায়ের রং ফর্সা হলেই তিনি সুন্দরী, আর কালো হলে নয়, এই ধারণা থেকে মুক্তি পেতেই এমন সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন: আমির খানের সহ অভিনেতা পেট চালাতে এখন সবজি বিক্রি করছেন !

এ দেশে চিরকালই ফর্সা মেয়েদের কদর বেশি। আজও দেশে খবরের কাগজ গুলিতে বিয়ের জন্যে পাত্রী খোঁজা হয় সুন্দরী ও গায়ের রং ফর্সা এই শর্তে। কালো মেয়েরা নাকি ভালো চাকরি পায়না, কালো মেয়েদের নাকি এ দেশে বিয়েও হয় না। এই ধারণা শুধু সাধারণ মানুষের নয়, এই দলে রয়েছেন সেলিব্রিটিরাও। সম্প্রতি এমনটাই নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন বলিউডের বং বিউটি অভিনেত্রী বিপাশা বসু (Bipasha Basu)।

বেশ কয়েক বছর আগে তাঁরই এক সহকর্মী তাঁকে ‘কালি বিল্লি’ বলে ডেকেছিলেন। সেই সময় তিনি চুপ থাকলেও এখন তিনি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। বিপাশা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ছোট থেকে, সেই ছোট থেকে বোনের সঙ্গে আমাকে তুলনা করে বলা হত, সোনির থেকে বনি অনেক কালো না? আমার আত্মীয় পরিজনরা একই কথা বলত। আমি অনেকটা তার মতো দেখতে। আমি কেন জানি না তবে আমি যখন ছোট ছিলাম তখন দূর সম্পর্কের আত্মীয়রা কেন এটি নিয়ে আলোচনা করত।’ ছোট্ট বনি মুম্বই এল। সুপারমডেল প্রতিযোগিতায় বিপাশা ছিনিয়ে নিল প্রথম স্থান। তারপর বিপাশা ভেবেছিলেন এ বার হয়তো তাঁর গুণের কদর হবে। পরের দিনই খবরের কাগজে বড় বড় করে ছাপা হল, ‘ডাস্কি গার্ল ফ্রম কলকাতা ইজ দ্য উইনার’। অর্থাৎ, কলকাতার কালো মেয়েই বিজয়ী। পরিশ্রমী নয়, সুন্দরী নয়, তাঁর নামের আগে শোভা পেতে লাগল ‘কালো’ শব্দটি।

আরও পড়ুন: ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপন করতে রাজি হননি সুশান্ত

https://www.instagram.com/p/CB4iGuCjjlE/?utm_source=ig_web_copy_link

এই বিপাশায় এক সময়ে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছে দর্শকদের। সালটা ২০০৩-০৪ সেই সময়ে তাঁর সেক্স অ্যাপিল হিল্লোল তুলেছে বক্সঅফিসে। জিসম, রাজ, আজনাবি, রেস একের পর এক হিট। বিপাশা তখন বলিউডের এক নম্বর নায়িকা। কিন্তু তাতে কি ? তারপরেও মিডিয়া বড় বড় করে ছেপে দিল তাঁর গায়ের র‌ংই তাঁর এত সেক্সি হওয়ার ইউএসপি।

সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে ফর্সা করে দেওয়ার দাবি করা ব্র্যান্ডগুলো কোটি কোটি টাকার অফার নিয়ে দৌঁড়ে এসেছিলো বিপাশার কাছে। কিন্তু তাদের সেই অফার হেলায় উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। দেশের বেশির ভাগ মানুষের গায়ের রং যেখানে কালো সেখানে ফেয়ার কী করে লাভলি হয়ে গেল তা আজও বুঝতে পারেননি বিপাশা। তবে ইউনিলিভারের এই পদক্ষেপে উচ্ছ্বসিত দেশ। তাহলে এবার কি সুন্দরের সংজ্ঞা পালটাবে ?

Facebook Twitter Print Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *