বছর পঁয়তাল্লিশ পরে, চুনীবাবুর তীর্থপতির ট্রফি-ঘরে…

Tirthapati

ড. মাল্যবান চট্টোপাধ্যায়

”প্রথম স্কুলে যাবার দিন প্রথমবার ফেল
প্রথম ছুটি হাওড়া থেকে ছেলেবেলার রেল
প্রথম খেলা লেকের মাঠে প্রথম ফুটবল
মান্না-পিকে-চুনীর ছবি বিরাট সম্বল।”
— কবীর সুমন, ১৯৯৪ (প্রথম সবকিছু)

এই গানটিকে রেখে চিরবিদায় নিয়েছেন চুনী গোস্বামী। মোহনবাগান রত্ন বলেই যাঁকে আমরা চিনি। মোহনবাগনী তকমার সঙ্গে তাঁর আরেকটা পরিচয় হল তিনি দক্ষিণ কলকাতার তীর্থপতি ইনস্টিটিউশনের ছাত্র ছিলেন। যার সঙ্গে জুড়ে আছে চুনী গোস্বামীর নামি খেলোয়াড় হয়ে ওঠার শুরুটা।

আরও পড়ুন: বব ডিলানের কণ্ঠে এবার জর্জ ফ্লয়েড

খেলার মাঠের গুরু-শিষ্য

আজকের দিনে চুনী গোস্বামী থাকলে তিনি খুশি হতেন একটা অতীতের খবর জেনে। আজ থেকে ঠিক ৪৫ বছর আগে খবরের কাগজে উঠেছিল তাঁর স্কুলের নাম, স্কুল জিতেছিল ক্রিকেট ট্রফি। সেই ট্রফি জয়ে জুড়েছিলেন না চুনী, কিন্তু জুড়েছিল একটা ঐতিহ্য, যে ঐতিহ্য বাংলাকে দিয়েছিল শুধু চুনী নয়, আরও অনেক খেলোয়াড়।

এই ঐতিহ্যের হাত ধরেই এই স্কুল থেকে শুধু একা চুনী গোস্বামীই নন, এসেছেন একঝাঁক ময়দান কাপানো খেলোয়াড়। স্কুলের সঙ্গেই জুড়েছিল খেলা আর শরীরচর্চা। খেলাধুলায় মোহনবাগান ক্লাবের নিমু বসু, সি আর দাশ, রবীন গুহ এই স্কুলের প্রাক্তনী। আবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সুনীল ভট্টাচার্য, প্রশান্ত পোদ্দারও এখানকার প্রাক্তন ছাত্র। চুনীর সূত্রে খোঁজা যাক সেই ঐতিহ্যকে, যার সঙ্গে জুড়ে আছে এই বছর পঁয়তাল্লিশ দিনের মাহাত্ম্য।

কয়েকজন বিদ্যানুরাগী মানুষের আগ্রহে ১৯৩২ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্কুল। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জিতেন্দ্রলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, গণেশচন্দ্র চক্রবর্তী, গোপাল চট্টোপাধ্যায়, গিরীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। প্রথমে এই স্কুলের নাম রাখা হয় অভয়চরণ ইনস্টিটিউশন। কিন্তু পরে স্থানীয় বাসিন্দা পারিজাত দেবীর অনুরোধে তাঁর অকালপ্রয়াত পুত্র তীর্থপতির নামে স্কুলের নামকরণ করা হয় তীর্থপতি ইনস্টিটিউশন।

আরও পড়ুন: বঙ্কিমচন্দ্র ও বাঙালি পাঠকসমাজ

স্কুলের মূল প্রবেশদ্বার

এই স্কুল আর তাঁর উল্টোদিকের দেশপ্রিয় পার্কের সঙ্গে জুড়ে আছে অনেক খেলোয়াড়ের ক্রীড়াস্মৃতি। এই সেই পার্ক, যেখানে একবার পুজোতে বিশালাকার দুর্গা দর্শন করতে নেমে পড়েছিল কলকাতা, সেই ভিড়ে পা মিলিয়েছিলেন ভিনরাজ্যের পর্যটকরাও। সেই পার্কের মাটিতে যে ভারতের ক্রীড়া জগতের একজন প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিও নেমেছিলেন, তা সেই মানুষজন জানতে হয়তো পারেননি। এই দেব দর্শনের ঘটনাকে আধার করে ২০১৯-তে হয়েছিল ‘অসুর’ সিনেমা, তা দেখেও হয়তো অনেকেই বোঝেননি এই পার্কের ক্রীড়া মাহাত্ম্য। স্কুলের অনেক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও হয় এখানে। ছাত্র হিসেবে এই পার্কের মাঠের কসরত করেছি আমরা অনেকেই। এই পার্কের সঙ্গেই যে জুড়ে আছে অনেক স্কুলের অনেক সফল ক্রীড়ামোদীর পরিশ্রমের ঘাম, তা আমাদের অনেকরই অজানা ছিল। যেখানে আজও বিকেলে অনেকেই কসরতের খোঁজে ভিড় জমান। একই স্কুলে পড়তেন তিনি আর তাঁর তিন বছরের বড় দাদা মানিক গোস্বামী। স্কুল, দেশপ্রিয় পার্ক আর বল পেটানো এ নিয়ে শোনা যাক চুনী গোস্বামীর জবানি—

“ছোটবেলা থেকেই খেলার উপর আমার ভীষণ আগ্রহ। আমরা থাকতাম বালিগঞ্জের ডোভার লেনে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট কোয়ার্টার্সে। সুযোগ পেলেই পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে বল পেটা পেটি শুরু করে দিতাম। আস্তে আস্তে আমরা বড় হতে লাগলাম। বলের সাইজও বড় হতে লাগল। দাদা ও আমি পড়তাম তীর্থপতি ইনস্টিটিউশন। স্কুলের পরে এবং ছুটির দিনে সকালে সকালে বল নিয়ে চলে যেতাম দেশপ্রিয় পার্কে, দল ভাগাভাগি করে খেলতে। অল্পদিনের মধ্যে স্কুলে স্কুলে এবং পাড়ায় আমরা ‘মানিক-চুনী’ নামে পরিচিত হয়ে উঠলাম।”— (খেলতে খেলতে, চুনী গোস্বামী। পৃষ্ঠা-২৯)

স্কুলের অন্দরমহল… এখানেই এককালে হেঁটে বেড়াতেন কৈশোরের চুনীবাবু আর আজ হাঁটেন তাঁর উত্তরসূরিরা

তাঁর এই ভালোবাসার কথা জানতেন তাঁর সঙ্গে ক্লাস থ্রি থেকে পড়া বিশিষ্ট সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। তিনিও এই স্কুলেরই প্রাক্তনী। সংবাদপত্রে তিনি লিখেছিলেন তাঁর সেই স্মৃতিকথা। উঠে এসেছিল তাঁদের বন্ধুত্বের কথা। ভাবতে শিহরিত লাগে ছাত্র হিসেবে স্কুলের জামা গায়ে ওই পার্কে গেছি আমরাও। খেলেছি স্কুলের বার্ষিক প্রতিযোগিতাতে। দেশপ্রিয় পার্কে ক্রীড়াবিদের মূর্তি কেন নেই, তা নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামাইনি আগে। ইতিহাসের পাতা উল্টোতে গিয়ে এখন মনে হয়, এই মানুষটি ও তাঁর গুরুর যুগল-মূর্তি বোধহয় দাবি করে দেশপ্রিয় পার্ক। অন্তত এটা জানানোর আজ বড় দরকার যে এই পার্কের দেব-আরাধনার সঙ্গে সঙ্গেই বহুকাল ধরেই হয়ে আসছে ক্রীড়াশিল্পের আরাধনা। শিহরণের বাকি ছিল আরও। আমার স্কুলের এই বিশিষ্ট প্রাক্তনীর প্রয়াণের পরে তাঁর স্মৃতিকথা পড়তে বসে চমকে উঠি আরও, যখন জানতে পারি এই সেই দেশপ্রিয় পার্ক যেখানে চুনী গোস্বামীকে খুঁজে বের করেছিলেন তাঁর গুরু বলাইদাস চ্যাটার্জি (সেকালের মোহনবাগান ক্লাবের অন্যতম কোচিং অভিভাবক)।

লকডাউনের জন্য আজ অনেক খেলার মাঠে তালা কোথাও বা আংশিক তালা। চুনী গোস্বামীর গুরুকেও পড়তে হয়েছিল এরকম বিপাকে। তখন তাঁর সহায় হয়েছিল এই দেশপ্রিয় পার্ক। তিনি এই মাঠেই বসে বসে নজর রাখতেন তরুণদের খেলায়। এখানেই খুঁজতে এসেছিলেন হীরা-পান্না আর এখানেই পেয়ে যান তিনি আগামীর চুনীকে—

“আগেই লিখেছি এটা। ১৯৪৬ সালের কথা। ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সময়কার ঘটনা। তখন ময়দানে খেলা বন্ধ ছিল বলে বলাইদা দেশপ্রিয় পার্কে বসে তার সন্ধানী দৃষ্টি দিয়ে ছোট ছেলেদের খেলা দেখতেন। খুঁজতেন আগামী দিনের খেলোয়াড়।

স্কুলবাড়ি

বলাইদার সঙ্গে সেই আমার প্রথম পরিচয় এবং বলতে গেলে সেই দিন থেকে চুনী গোস্বামীর খেলোয়াড় জীবনের সূচনা।”— (‘খেলতে খেলতে’, চুনী গোস্বামী। পৃষ্ঠা-৩১)

এত গেল পার্কের কথা, ময়দানের গুরুর কথা। যার সূত্রে চুনী আসতেন দেশপ্রিয় পার্কে, সেই পার্কের উল্টো দিকে আজও ইতিহাস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল বাড়ির গল্পে আসা যাক এবার। দাদা আর ভাই একত্রে পড়তেন, খেলতে যেতেন সুযোগ পেলেই। কিন্তু স্কুলের মধ্যেও একজন ছিলেন, যার নজর থাকত সারাদিন বল পেটানোর মতলব আঁটা এই ছেলেটিকে নজরে রাখার জন্য। তিনি স্কুলের গেম টিচার, তাঁর কথা শোনা যাক তাঁর জবানীতেই—

”আমি পড়তাম বালিগঞ্জের তীর্থপতি ইনস্টিটিউশনে। শিবদাস ব্যানার্জি শুধু স্কুলের গেম-টিচারই ছিলেন না, বাড়িতেও আমাকে এবং দাদাকে পড়াতেন। খেলাধুলোর সঙ্গে নানাভাবে জড়িত ছিলেন। প্রথম জীবনে ছিলেন কালীঘাট চৈতালি সংঘের পরিচালক। পরবর্তী জীবনে ভবানীপুর ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক হয়েছিলেন এবং স্কুলের কাজের সঙ্গেই ক্রীড়া সাংবাদিক বৃত্তি বেছে নিয়েছিলেন। পরে হয়েছিলেন বসুমতী পত্রিকার ক্রীডা সম্পাদক। … আমাদের বড় ভালোবাসতেন। খেলাধুলায় যাতে উন্নতি করতে পারি সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন। নিজেও ছিলেন খেলা-পাগল মানুষ। আমাদের স্কুল জীবনে বলাই দার মতো তিনি ছিলেন অন্যতম শুভানুধ্যায়ী ও অভিভাবকের মত।”— (খেলতে খেলতে, চুনী গোস্বামী। পৃষ্ঠা-৩৭)

২৬ জুন, ১৯৭৫-এর যুগান্তরে শিরোনামে চুনীবাবুর স্কুল

২০২০ সালে ৩০ এপ্রিল তিনি যখন প্রয়াত হলেন, তখন দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। তাই শেষযাত্রায় আড়ম্বর ছিল না মোটেই। নভি কাপাডিয়া যথার্থই বলেছেন— “সময়ের অদ্ভুত পরিহাস। লকডাউনের জন্য ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার চুনী গোস্বামী তাঁর মৃত্যু পরবর্তী যথাযথ মান, সম্মান, মর্যাদা— কিছুই পেলেন না। খেলোয়াড়ি জীবনে যে গার্ড অফ অনার পেয়ে মাঠ ছাড়তেন, তার ছিটেফোঁটাও তাঁর মৃত্যুসন্ধ্যায় তিনি পাননি। এই অতিমারি না হলে আমরা দেখতে পেতাম কাতারে কাতারে মানুষ, যুবা-বৃদ্ধ, বয়স নির্বিশেষে কলকাতার রাস্তায়, ময়দানে এবং মোহনবাগান ক্লাবের সামনে তাদের ফুটবলের উপদেবতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমাচ্ছেন।”— (mysepik.com-এ প্রকাশিত)

এবার আসা যাক ৪৫ পেরনো মাহাত্ম্যের কথায়। ১৯৭৫ সালের জুন মাসের শেষের এই ক’দিনের মধ্যেই চুনী গোস্বামীর স্কুলের ক্রিকেট টিম জিতেছিল স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। জুন মাসের ২৬ থেকে ২৯ তারিখ অবধি পর পর এই স্কুলের নাম উঠে এসেছিল এক ধারাবিবরণীতে। আজকের দিনের কোটি টাকার আইপিএল নয়, বরং সেকালে সংবাদপত্রে বেশি বেশি করে গুরুত্ব পেয়েছিল স্কুলের খেলার বিবরণী। অন্তত এই বিবরণ সেই কথাই বলে। এই সব খেলা যে খুবই জনপ্রিয় ছিল, তা সংবাদমাধ্যমে এই খেলার রোজকার আপডেটের দিকেই নজর দিলে বোঝা যায়। ২৬ তারিখ যুগান্তর পত্রিকার তিন নম্বর পাতা উল্টালে দেখ যাবে জ্বলজ্বল করছে একটি খবরের শিরোনাম, ‘ফাইনালে পার্ক ও তীর্থপতি’। খবরটিতে বলা হয়েছিল যে, গ্রীষ্মকালীন স্কুল প্রতিযোগিতায় ফাইনালে উঠেছে পার্ক ইনস্টিটিউশন ও তীর্থপতি ইনস্টিটিউশন। সেকালের ক্রিকেট বলতে ছিল টেস্ট খেলা। একাধিক দিনের খেলার ব্যাপার। তাই পরের দিন ২৬ তারিখের খেলার খবরটি আবার বেরিয়েছিল ২৭ তারিখে একইভাবে তিন নম্বর পাতায়। সেদিন খেলাটি শুরু হবার কথা বলা হয় ইডেন উদ্যানে। এভাবেই বোধ হয় চুনীর পায়ের বল ব্যাটে পড়ে চলে গেল ইডেনে। ২৭ তারিখ কি হয়েছিল? তাঁর জন্য আবার চোখ রাখতে হয় পরের দিনের কাগজে। ২৮ তারিখের খবর বলে, ২৭-এ টসে জিতেছিল তীর্থপতি ইনস্টিটিউশন এবং পার্ক ইনস্টিটিউশনকে তাঁরা ব্যাট করতে পাঠায়। দিনের শেষে পার্ক ইনস্টিটিউশন করে এক উইকেটে ৪৬। আর ২৮ তারিখের খবরে উঠে এসেছিল ২৯-এর কাগজে। সেদিন বৃষ্টির জন্য খেলা হয়নি আর। যুগ্মভাবে জয়ী হয় দুই স্কুল। পার্ক ইনস্টিটিউশন নয়, প্রথম ছয় মাস ট্রফি ছিল তীর্থপতি ইনস্টিটিউশনের ট্রফি ঘরেই। অর্থাৎ আজকের দিনে স্কুলের ট্রফিঘরে একটা নুতন ট্রফির জায়গা হয়েই গিয়েছিল ১৯৭৫ সালে।

২৭ জুন, ১৯৭৫-এর যুগান্তর, পাতার উপরের দিকে একবারে ডানদিকে রয়েছে স্কুলের খবর

একে মাহাত্ম্য বলাই শ্রেয়। দু’টো সরকারি স্কুল আর তাদের বাচ্চাদের খেলার খবর এতটা গুরুত্ব পাওয়া বেশ ব্যতিক্রমী। ভারতের ক্রিকেটের প্রচারের রমরমার শুরুর ক্ষেত্রে ১৯৮৩-কে এক ল্যান্ড মার্ক বলা হয় বটে। কিন্তু চুনীবাবুর স্কুল সেই প্রচারের গ্ল্যামার এনে দিয়েছিল স্কুল ক্রিকেটের জন্য ১৯৮৩-এর আগেই। প্রশ্ন হল এ কোন জাদুতে হয়েছিল? আসলে এই স্কুলের একটা ধারা ছিল খেলার জগতে। চুনীবাবুর প্রস্থানের পর থেকে ১৯৭৫ সালের এই খবরের আগেকার সময়ের মধ্যেও স্কুল অনেক খেলায় অংশ নিয়েছিল। সব সাফল্যের কথা হয়তো কাগজে মিলবে না, মিলবে স্মৃতির আলাপে। ১৯৬৮ সালে দক্ষিণ কলকাতার জেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট জিতেছিল এই স্কুল। এই জয়ের কথা বলতে বলতে আজও আবেগময় হন সেই টিমের অন্যতম সদস্য বিধান চক্রবর্তী। সে দলের অধিনায়ক ছিলেন স্বপন রায়। সেই জয় এসেছিল রুমটা একাদেমিকে হারিয়ে।

২৮ জুন, ১৯৭৫-এর যুগান্তরের পাতায় চলেছে স্কুলের সেই খেলার খবর

এই ধারা আজও রয়েছে। বিশ শতকের আশির দশকে এই স্কুলে আসেন নববাবু (নবকুমার মুখার্জী), তিনিও গেমস টিচারই ছিলেন। আমরা তাঁকে পেয়েছিলাম ছাত্রকালে। তিনি ছাত্রদের বলতেন যোগাসনের কথা। বর্তমানে এই স্কুলের গেমসের টিচার হয়েছেন শ্রী চন্দন নস্কর। তিনিও আগ্রহী স্কুলের খেলার সাফল্যকে ধরে রাখতে। ২০১৭ সালেই এই স্কুল অনূর্ধ্ব-১৪ সুব্রত কাপের ডিস্ট্রিক, ক্লাস্টার ও রাজ্য চ্যাম্পিয়ন হয়। এর পরে তারা ন্যাশনাল সুব্রত কাপে অংশ নিয়েছিল দিল্লি গিয়ে। এই ব্যাপারে অন্যতম সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক শ্রী প্রসেনজিৎ ঘোষ মহাশয় ও পরবর্তীকালে ২০১৭-এর মধ্যভাগে স্কুলে কাজে যোগ দেওয়া প্রধানশিক্ষক শ্রী বিভাস ঘোষ মহাশয়। এমনটাই ২০১৭ সালের সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে বলেন স্কুলের বর্তমান গেমস টিচার শ্রী চন্দন নস্কর মহাশয়। এর পাশাপাশি ২০১৮ সালে ও ২০১৯ সালে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আয়োজিত বিবেকানন্দ কাপে স্কুলের ফুটবল টিমের ছিল আলোকময় উপস্থিতি। শুধু ফুটবল নয় ক্রিকেটেও এই স্কুলের অংশগ্রহণ যে আজও বেশ গুরুত্ববহ, তা উল্লেখ করেছেন স্কুলের বাংলার শিক্ষক আলোক বর্ধন মহাশয় তাঁর স্মৃতির ঝুলি থেকে। সিএবি-র আয়োজনে অনূর্ধ্ব-১৫’র মেয়র কাপে ২০১৫-২০১৬ সালে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল স্কুলের ছেলে ঋত্বিক সিনহা। সে একাই করেছিল ৩৮৩ রান। বর্তমানে এই স্কুলের প্রাক্তনী সংসদ ও গেমস টিচারের সহযোগিতায় স্কুলের ছেলেদের জন্য হয় ক্রিকেট ক্যাম্প। এ বছর যা লকডাউনের জন্যে বন্ধ।

২৯ জুন, ১৯৭৫ সালের যুগান্তরের খবর। ২৮ তারিখে ট্রফি যুগ্ম জয়ের খবর ছিল এটি

একবিংশ শতকে চুনী গোস্বামীর উত্তরসূরিরা এভাবেই নাম রেখে চলেছেন স্কুলের, ধরে রেখেছেন এক ঐতিহ্যকে। আর এই ঐতিহ্যকে আরও মজবুত করতে আজকের দিনে জরুরি স্কুলের উল্টো দিকে দেশপ্রিয় পার্কে চুনী গোস্বামী ও তাঁর গুরু বলাইদাস চ্যাটার্জির যুগল মূর্তি স্থাপন… যে পার্ক আর উল্টো দিকের স্কুলবাড়ি থেকে ভারত পেয়েছিল ইতিহাস গড়ার একাধিক কারিগরকে।

কৃতজ্ঞতা ও তথ্য সহায়তা

স্কুলের মাস্টারমশাই— শ্রী নবকুমার মুখার্জী (স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত গেম টিচার), শ্রী প্রসেনজিৎ ঘোষ (ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য), শ্রী আলোক বর্ধন (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য) এবং স্কুলের বর্তমান তরুণ গেম টিচার শ্রী চন্দন নস্কর।

(চুনী গোস্বামী তাঁর ক্রীড়াশিক্ষককে গেম টিচারই বলেছেন, তাই এই লেখায় স্কুলের ক্রীড়াশিক্ষকদের ‘গেম টিচার’ই বলা হল।)

২০১৮ সালে বিবেকানন্দ কাপের পরে টিম তীর্থপতি

স্কুলের প্রাক্তনী— শ্রী বিধান চক্রবর্তী (১৯৬০-এর দশকের ছাত্র এবং ১৯৬৮ সালের স্কুলের বিজয়ী ক্রিকেট টিমের সদস্য ও স্কুলের প্রাক্তনী সংসদের অন্যতম সক্রিয় সদস্য)।

ট্রফির ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা

২০১৮ সালের বিবেকানন্দ টুর্নামেন্টের শেষে ট্রফি-সমেত স্কুলের গ্রুপ ফোটোর ছবিটি দিয়েছেন স্কুলের বর্তমান গেম টিচার শ্রী চন্দন নস্কর মহাশয়।

এ ছাড়াও তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন ক্রীড়াসাহিত্য গবেষক ড. পারমিতা রায়।

● লেখক তীর্থপতি ইনস্টিটিউশন এর প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমানে আসানসোল গার্লস কলেজের ইতিহাসে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

Facebook Twitter Print Whatsapp

11 comments

  • বাহ্, চুনি গোস্বামী এর সম্পর্কে অনেক না জানা কথা জানতে পারলাম। লেখাটি খুব সমৃদ্ধ।

  • Subhashis Das

    লেখনী খুব সুন্দর। এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে গর্ব অনুভব করি।

  • AMIT KUMAR DHALI

    Ami eai school er ex-student hoye garbito. Aaj school er na jana anek katha jante parlam.
    Thanks to the writer. Amit Kumar Dhali (1982-1997)

  • Biva Bhattacharya

    খুব ভালো লিখেছ ,তথ্যসমৃদ্ধ লেখা

  • Debashis Majumder

    Khub Bhalo laglo. Very Nice article

  • এই ধরনের লেখা আরো চাই। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র হিসাবেও কত কিছু জানতামনা। এইসব ঘটনা শেয়ার না করলে চিরকালের মতো হারিয়ে যাবে।

  • Bidyut Kumar Basu

    অনবদ্য লেখা।প্রাক্তন ছাত্র হয়েও কত কিভহু জানতাম না।বলতে ইচ্ছে করে৷ ” কত অজানারে জানাইলে তুমি… “।

  • Ami aii school ar ex student. Ami amar school ke niye gorbito ❤️❤️

  • অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ

  • Aniruddha Basu

    লেখাটা পড়ে যারপরনাই আনন্দিত হলাম। আমি ও প্রাক্তন ছাত্র এবং অবশ্যই প্রাক্তনী সংসদের সাথে যুক্ত। আমাদের ফেসবুক পেজ আছে Tirthapati Praktoni Friends নামে। সেখানে লেখাটা পোস্ট করতে পারেন।

  • Surajit chanda

    Sob ta pore buker bamdik tay ekta byatha onubhob korchi…ektadom chapa kanna achre porte chaiche ..amr school Tirthapati….Ami ekjo Tirthapatian…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *