মহা-সিন্ধুর জন্মদিনে

PV Sindhu

ইন্দ্রজিৎ মেঘ

— What the language is thine o sea?
— The language of eternal question.
— The language is thine, o sky?
— The language of eternal silence.

এই সমুদ্রেরই সমার্থক শব্দ সিন্ধু। আর ভারতীয় কন্যা সিন্ধুর ২৫তম জন্মদিন আজ। অলিম্পিককে ক্রীড়াজগতের ‘মহাকুম্ভ’ বলা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতার ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে যে দুই ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় পদক জিতেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন পুসারলা ভেঙ্কট সিন্ধু, যিনি পিভি সিন্ধু নামে বিশ্বখ্যাত। সিন্ধু ভারতের প্রথম মহিলা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়, যিনি অলিম্পিকে রুপোর পদক জিতেছেন। ১৯৯৫ সালের ৫ জুলাই হায়দরাবাদে জন্মানো এই ট্যালেন্টেড শাটলার ৮ বছর বয়সে প্রথমবার তাঁর হাতে র‌্যাকেটটি ধরেছিলেন। তার পর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এবং সাফল্যের সিঁড়িতে চড়ে চলেছেন।

আরও পড়ুন: আমার ফোরহ্যান্ড শট কেমন ছিল, ফেডেরারকে জিজ্ঞসা শচীনের

P.V. Sindhu talks importance of family and coaches in her journey ...

তিনি ২১ সেপ্টেম্বর ২০১২-তে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন রাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ২০ ব্যাডমিন্টনে জায়গা করে নেন। এর পরে তিনি শীর্ষ দশে পৌঁছেছেন। সিন্ধুর বাবা পি ভি রামন্না এবং মা বিজয়া জাতীয় স্তরের ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। খেলায় অসামান্য অবদানের জন্য পি ভি রমন্না ২০০২ সালে অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, মহিলা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে থাকা সিন্ধুর বড় বোন দিব্যা জাতীয় স্তরে হ্যান্ডবলের খেলোয়াড় ছিলেন। তবে পরে তিনি ডাক্তারিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সুতরাং এ কথা বলা যায় যে, খেলাধুলা ছিল তাঁর রক্তে, যা তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে। তিনি ভারতের সবথেকে কম বয়সি মহিলা খেলোয়াড়, যিনি অলিম্পিকে রুপোর পদক জেতেন।

PV Sindhu looks to snap run of early exits at French Open – Mysuru ...

পি ভি সিন্ধু প্র্যাকটিসের জন্য প্রতিদিন ৫৬ কিলোমিটার দূরে যেতেন। ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে যাওয়ার জন্য তিনি প্রতিদিন দিবাগত রাত তিনটায় উঠে পড়তেন। ট্রেনিং ক্লাস শুরু হত সকাল সাড়ে। ট্রেনিং শেষে তিনি সকাল সাড়ে আটটায় স্কুলে যেতেন। তবে এখন গোপীচাঁদের অ্যাকাডেমি সিন্ধুর বাড়ি থেকে কয়েক মিনিট দূরে। সিন্ধু প্রথমে সেকেন্দ্রাবাদে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে সংকেত প্রকৌশল ও টেলিযোগাযোগ ইনস্টিটিউটের ব্যাডমিন্টন কোর্টে মেহবুব আলির কাছে খেলার প্রারম্ভিক শিক্ষা নেন। পরেই তিনি পুল্লেলা গোপীচাঁদের ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি যোগ দেন। যদিও সিন্ধুর কর্মজীবন সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে ‘দ্য হিন্দু’-র এক সংবাদদাতা লিখেছিলেন: “সত্য যে তাঁর বাসভবন থেকে ৫৬ কিমি দূরত্বে তিনি দৈনিক কোচিং ক্যাম্পের সঠিক সময় পৌঁছে যেতেন। একজন ভালো ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হবার জন্য তাঁর প্রয়োজনীয় কঠোর পরিশ্রম এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন ছিল এটা।” গোপীচাঁদকে একসময় বলতে শোনা গিয়েছিল, “সিন্ধুর খেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য তাঁর মনোভাব এবং হার না মানা মানসিকতা।”

আরও পড়ুন: ফিট ইন্ডিয়া ক্যাম্পেইন: জয়-পরাজয় নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করা উচিত নয়, পি ভি সিন্ধু

PV Sindhu flaunts in traditional attire for Kerala government ...

তাঁর প্রথম অফিসিয়াল টুর্নামেন্টটি ছিল ৫ম সার্ভো অল ইন্ডিয়া র‌্যাঙ্কিং চ্যাম্পিয়নশিপ। সিন্ধু এই টুর্নামেন্টের অনূর্ধ্ব-১০ বিভাগে অংশ নিয়েছিল। এর পরে, তিনি পুণেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৩ ক্যাটাগরিতে সাব জুনিয়র ন্যাশনাল এবং অল ইন্ডিয়া র‌্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের ডাবল শিরোপা জিতেছিলেন। সিন্ধু ভারতে অনুষ্ঠিত ৫১তম জাতীয় স্কুল গেমসে সোনা জিতেছিলেন। তিনি অনূর্ধ্ব-১৪ ক্যাটাগরিতেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

PV Sindhu, only Indian among Forbes world's highest-paid female ...

সিন্ধু ২০০৯ সালে সাব জুনিয়র এশিয়ান ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেনিসে পা রাখেন। নিজের অভিষেক আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপেই তিনি জিতে নিয়েছিলেন প্রথম ব্রোঞ্জের মেডেল। ২০১০ সালে সিন্ধু ইরান আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন চ্যালেঞ্জ এবং জুনিয়র ওয়ার্ল্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের (মেক্সিকো) কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে সফল হয়েছিলেন। ১৭ বছর বয়সে, তিনি এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন।

PV Sindhu Family | Parents & Sister | Everything You Need to Know

২০১৩ ও ২০১৪ সালে সিন্ধু বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে টানা দু’টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে টানা দু’বার পদক জেতা প্রথম ভারতীয় শাটলার তিনি। এই সম্মানজনক প্রতিযোগিতায় সিন্ধু দু’টি রুপোর পদক (২০১৭, ২০১৮) জিতেছেন। ২০১৬, সিন্ধুর কেরিয়ারের এক দুর্দান্ত বছর ছিল। তিনি রিও অলিম্পিকে রৌপ্যপদক জিতেছিলেন ওই বছরেই। সিন্ধু ২০১৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে জাপানের নোজমি ওকুহারাকে ২১-১৯, ২১-১০ ব্যবধানে পরাজিত করে নারীদের ব্যাডমিন্টন সিঙ্গল ইভেন্টে রৌপ্যপদক নিশ্চিত করেন। ২০১৩, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০২০-তে তিনি পেয়েছেন যথাক্রমে অর্জুন পুরস্কার, পদ্মশ্রী পুরস্কার, রাজীব গান্ধি খেলরত্ন পুরস্কার এবং পদ্মভূষণ।

Badminton: PV Sindhu Reveals How She Overcame Final Phobia To Win ...

সিন্ধু জানান, তিনি কখনও ভাবেননি যে তাঁর পড়াশোনা ব্যাডমিন্টনের জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ”আমি আগে এটি মজা হিসাবে খেলতাম। আমার বাবা-মা, যাঁরা ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন তাঁরা আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন। তাঁরা আমাকে বলতেন যে, ‘তোমার এই খেলাটি উপভোগ করা উচিত এবং হার-জিতের কথা ভেবো না।’ পড়াশোনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা আপনাকে পড়াশোনায় ভালো করতে সহায়তা করে।” কথায় আছে, গ্রেট থিংস নেভার কাম ফ্রম কমফোর্ট জোন্স … সিন্ধুর জীবন অনেকটা এমনই।

Pvsindhu (@Pvsindhu1) | Twitter

বিঃদ্রঃ শুরুর ইংরেজি উক্তিটি রবীন্দ্রনাথের ‘Stray Birds’ থেকে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *