আইসিসি বোর্ডের সভা: প্রসঙ্গ শীর্ষ পদের জন্য সৌরভ গাঙ্গুলির নোমিনেশন

ইন্দ্রজিৎ মেঘ

বাংলার ‘মহারাজ’ কি বিসিসিআইয়ের পর আইসিসি-র মসনদে বসতে চলেছেন? এ জল্পনা এখন সর্বত্র। বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার সভাপতি পদের জন্য সৌরভ গাঙ্গুলি যে যোগ্য, এ কথা জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি প্রাক্তন অধিনায়ক ডেভিড গাওয়ার কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক গ্রাহাম স্মিথ। এদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি বোর্ড সভা করেছে। এতে আইসিসি সভাপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ঐকমত্য হতে পারেনি তারা। আইসিসি আশা করেছে যে, আগামী সপ্তাহে আবার এই বৈঠক হওয়ার পরে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।

আইসিসির বর্তমান সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরের কার্যকাল মে মাসে শেষ হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, আইসিসি তাঁর মেয়াদ বাড়াতে চায় না। সেই কারণেই নতুন সভাপতি কে হবেন এবং সভাপতি নিয়োগের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আইসিসি বোর্ড আলোচনা করেছিল। আইসিসি-র এক সদস্য বলেছেন, “বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আমি নিশ্চিত যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সমস্ত বিষয়ে এখনও একমত হওয়া যায়নি এবং আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠক করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

ইংল্যান্ড বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস আইসিসির নতুন সভাপতির পদের জন্য প্রথম সারিতে রয়েছেন। এছাড়াও বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলিকেও একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিসিসিআই ইতিমধ্যে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, গাঙ্গুলি আইসিসির প্রেসিডেন্টের পদে আবেদনের মুডে আছেন। একইসঙ্গে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানিও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন।

গত সপ্তাহে বিসিসিআইয়ের একজন প্রবীণ কর্মকর্তা বলেছিলেন, “আমি মনে করি যে মনোহর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। তিনি তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। ইংল্যান্ড বোর্ডের সভাপতি কলিন গ্রেভস এখনও এই পদে দৌড়ে রয়েছেন। সৌরভ গাঙ্গুলি প্রার্থী না হলে বিসিসিআইও গ্রেভসকে সমর্থন করবে। যদি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে গাঙ্গুলিও মনোনয়ন দেবেন এবং লড়াই রোমাঞ্চকর হবে।”

২০১৬ সালে প্রথমবারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শশাঙ্ক মনোহর। ২০১৬ সালের মে মাসে আইসিসির প্রথম স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তারপর তিনি ব্যক্তিগত কারণে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে ২০১৮ সালে তিনি ২ বছরের মেয়াদে পুনরায় সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তবে বেশ কিছু কারণে শশাঙ্ক মনোহরের ওপর বিরক্ত বিসিসিআই। আইসিসি-তে মনোহরের আমলে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যে কারণে বিসিসিআই ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আর্ল এডিংসের নেতৃত্বে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যেখানে ছিল না কোনও ভারতের প্রতিনিধি। এই বিষয়টি বিসিসিআই কর্মকর্তাদের অবাক করে দিয়েছে। নাগপুর-স্থিত আইনজীবী শশাঙ্ক মনোহর এবং বিসিসিআই বহু মামলায় মুখোমুখি হয়েছে। বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের সঙ্গে মনোহরের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ কারণেই বিরোধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, সিএবি-র পর বিসিআইয়ের মসনদে বসে সৌরভ যথেষ্ট সফলভাবেই তাঁর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁর ইমেজও যথেষ্ট ভালো। ক্রিকেটে দেশ তাঁর নেতৃত্ব গুণে অনেক বৈতরণি পার করেছে। ক্ষুরধার মস্তিষ্কের জন্য সৌরভের জবাব নেই। সেই কারণেই অনেকেই মনে করছেন আইসিসি প্রেসিডেন্ট হলে সেই ভূমিকাতেও দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন সৌরভ। তাই সৌরভ গাঙ্গুলি মনোনয়নপত্র জমা দিলে পাশা বদলে যেতেই পারে।

Facebook Twitter Print Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *