করোনার আবহে সংক্রমণ আটকাতে বদলে দেওয়া হচ্ছে ট্রেনের এসি কামরার প্রযুক্তি

Mysepik Webdesk: করোনার জেরে বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রার ধরণ। তারই অঙ্গ হিসেবে এবার বদলে যেতে চলেছে দূরপাল্লার ট্রেনের বাতালুকূল (এসি) কোচগুলির প্রযুক্তি। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের রেল মন্ত্রক। সংক্রমণ রুখতে এবার বড়োসড়ো রদবদল ঘটানো হচ্ছে ট্রেনের এসি কামরার ক্ষেত্রে। এসি ট্রেনে সেন্ট্রালাইজড এসি থাকার ফলে ঠান্ডা হাওয়া ট্রেনের মধ্যেই ঘোরে। এর ফলে ট্রেনের মধ্যে একজনের থেকে অন্যজনের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সেক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়ানোর হাত থেকে বাঁচতে অপারেশন থিয়েটারের মতো এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা করার কথা ভাবছেন রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল।

আরও পড়ুন: নিউ মার্কেটে ইউকো ব্যাঙ্কের ভল্ট কেটে ডাকাতির চেষ্টা

এক্ষেত্রে বাইরে থেকে হাওয়া পাম্প করে ট্রেনের ভেতরে ঢোকানোর ব্যবস্থা থাকবে। ট্রেনের কোচের মাথায় RMPU সিস্টেম বসিয়ে কোচের ভেতরে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৬ থেকে ১৮ বার অতিরিক্ত টাটকা বাতাস পাম্প করে বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকানোর ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে এসি কোচের ভেতরে সাধারণত ৬ থেকে ৮ বার বাইরের বাতাস পাম্প করে ঢোকানো হয়। এতে কোচের ভেতর প্রায় ৮০ শতাংশ রি-সার্কুলেটেড বাতাস থাকে। এতে ওই কোচে কোনও করোনা রোগী থাকলে তার নিশ্বাসের সঙ্গে ভাইরাস অন্য যাত্রীর শরীরেও প্রবেশ করতে পারে। এক্ষেত্রে টাটকা বাতাস কোচের ভেতরে বেশিমাত্রায় প্রবেশ করলে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

আরও পড়ুন: মর্মান্তিক! করোনা আক্রান্ত হয়ে বিয়ের দু’দিন পরেই মৃত বর, সংক্রমিত বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা আরও ১০০ জন

সাধারণত এসি ট্রেনের ভেতরের তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রিতে স্থির করা থাকে। তবে এক্ষেত্রে যেহেতু বারে বারে বেশি হাওয়া বাইরে থেকে পাম্প করে ঢোকানো হবে সেহেতু সেই বাতাসকে ঠান্ডা করতে এসি চালানোর খরচ বেশি লাগবে। তাই খরচ আগের মতো রাখার জন্য তাপমাত্রা বাড়িয়ে করা হবে ২৫ ডিগ্রী। তার ফলে এসি চালাতে আর অতিরিক্ত শক্তির খরচ হবে না। রেলের পক্ষ থেকে জানা গেছে, যাত্রীদের সুরক্ষাই ভারতীয় রেলের কাছে অগ্রগণ্য। তাই ট্রেনে সফর করতে গিয়ে কোনও যাত্রী যাতে সংক্রমিত হয়ে না পড়েন, সেই বিষয়ে সদা সতর্ক থাকবে ভারতীয় রেল।

Facebook Twitter Print Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *