একটি অপূর্ব ইনিংসের অপমৃত্যু

West Indies

মনিরুল ইসলাম (বাংলাদেশ)

আমার কাছে ক্রিকেট খেলাটা সিনেমার নাটকের চেয়ে বেশি নাটকীয় মনে হয়। কেউ হারে, কেউ জিতে। এটা চিরন্তন সত্য কথা। কিন্তু কিছু কিছু পরাজয় মানতে খুব কষ্ট হয়। যে পরাজয়ের কাটা দাগ সহজে কাটিয়ে উঠে না। টিকে থেকে যায় যুগ থেকে যুগান্তর।

আরও পড়ুন: অবসর নিলেন ‘ডেড ম্যান’ দ্য আন্ডারটেকার

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চের দৃশ্য কি স্মৃতিপটে ভেসে উঠে? ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোককে কী তুলোধুনো করেছিলেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। টানা চার বলে চার ছক্কা হাঁকিয়ে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডকে। তাঁর সেদিনকার দানবীয় ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরেছিল। বিজয়ের ছন্দে নেচে, গেয়ে মতোয়ারা হয়েছে। সে ইনিংসের পর রাতারাতি খ্যাতির চূড়ায় উঠে গেলেন ব্রেথওয়েট। বিশ্বের আনাচে-কানাচে তাঁর অবিশ্বাস্য কীর্তির গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল।

ব্যাট হাতে আরেকটি নয়া কীর্তির গল্প লিখতে বসেছিলেন ইংল্যান্ডের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। গত বছর আজকের এই দিনে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বিপক্ষে একাই ব্যাটিংয়ের তাণ্ডব চালিয়েছেন ব্রেথওয়েট। কিন্তু নিয়তি আর অনুকূলে ছিল না। ভাগ্যলিপি তাঁর হয়ে কথা বলেনি। সেদিন তিনি ট্র্যাজিক হিরো বনে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ২২ জুন: আজকের দিনেই গতবছর বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক বাংলার পেসার মহম্মদ শামি

নিউজিল্যান্ডের উদীয়মান অলরাউন্ডার জিমি নিশামের করা ৪৯তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারির সীমানার আগে বোল্টের অসাধারণ ক্যাচে আউট হয়ে যান ব্রেথওয়েট। তখন জয়ের জন্য দরকার মাত্র ৫ রান। তীরে এসে ডুবে গেল জয়ের মিশন। তখুনি ঝলমলে ইনিংসের অপমৃত্যু ঘটে যায়। অথচ সে ম্যাচটি ক্যারিবিয়ানদের আরেকটি জয়ের সফল প্রদর্শনী হত। কিন্ত শেষমেশ উত্তেজনার পারদে ঠাসা ম্যাচে কিউরা ৫ রানের জয় লাভ করে।

অন্যদিকে, ম্যাচের ট্র্যাজিক হিরো দীর্ঘদেহী ব্রেথওয়েট হাঁটু গেড়ে বসে; অঝরে দুই চোখ থেকে অবিরাম জলের ফোঁটা ঝরিয়ে যাচ্ছেন। তিক্ত, হৃদয়ভাঙা ম্যাচের যন্ত্রণার দহন মনের ভেতরটা যেন খানখান করে দিচ্ছে। পাশ থেকে নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা মাথায় সান্ত্বনার হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। সে কী নয়নাভিরাম দৃশ্য! ক্রিকেট খেলা যে ভদ্র লোকের খেলা, তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ বোধহয় এর চেয়ে বেশি কিছু ছিল না।

তবুও আপামর ক্রিকেট জনতা সে অমর ইনিংসটির কথা ভোলেনি। বাইশ গজে কার্লোস ব্রেথওয়েটের বুক চিতিয়ে লড়াকু ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল আবালবৃদ্ধবনিতা। তাঁর বীরত্বগাথা গল্পের কথা পত্র-পত্রিকায় লেখালেখিতে ছয়লাপ ছিল। এখনও সে দাপুটে ইনিংসটির গল্পকথা সজীব আছে। যতদিন বিশ্বে ক্রিকেটের সাম্রাজ্য টিকে থাকবে, ততদিন বার্থওয়েটের ইনিংসটির কথা অবিনশ্বর থাকবে।

Facebook Twitter Print Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *