লাদাখে ভারত-চিন সংঘাতে মৃত তিন চিনা কমান্ডার, অবশেষে স্বীকার চিনের

Mysepik Webdesk: গালওয়ান সংঘাতের পর কেটে গেছে এক সপ্তাহ। অবশেষে তিন সেনাকর্তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করল চিন সরকার। সীমান্তে সেনা সংঘাত কমাতে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক করছেন দু’দেশের শীর্ষস্থানীয় সেনাকর্তারা। সেই বৈঠকেই এই প্রসঙ্গ স্বীকার করে নিয়েছে চিনের সামরিক বাহিনী। ১৫ জুনের পর ভারতের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, গালওয়ান সংঘাতে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহীদ হয়েছেন। অথচ এতদিন পর্যন্ত এই নিয়ে মুখ খোলেনি বেজিং (Bejing)।

আরও পড়ুন: ঐতিহাসিক রথযাত্রার কারণে পুরীতে আজ রাত ৯টা থেকে আগামীকাল দুপুর ২টো পর্যন্ত শাটডাউন ঘোষণা

ঠিক কি হয়েছিল ঐদিন সীমান্তে? গোটা ঘটনাটি তুলে ধরেছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। তারা জানিয়েছে, ঐদিন বিকেলে ভারতীয় সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা শাইয়ক এবং গালওয়ান নদীর (Galwan River) সংযোগস্থলে y পয়েন্টে পৌঁছান যেখানে চিন সেনাদের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। চিন সেনারা যাতে ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্ট থেকে তাদের নজরধারী পোস্ট সরিয়ে নেয়, সেই বিষয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। একটি নজরদারি দলকেও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় বিষয়টি নিশ্চিত করতে। ওই সময় চিনের নজরদারি পোস্টে ১০ -১২ জন চিন সেনা ছিল। সেইমত কথাবার্তা বলার পর ওই পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয় ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে। সেই কাজ তারা না করলে ভারতীয় সেনার নজরদারি দলটি সঙ্গে সঙ্গে খবর দিতে নিজেদের ইউনিটে ফিরে আসে। এরপর ১৬ বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে ৫০ জন সেনা জওয়ানের একটি দল ঘটনাস্থলে যান এবং চিন সেনাদের সেই স্থান ত্যাগ করতে বলেন।

আরও পড়ুন: মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে দুবার কেঁপে উঠল মিজোরাম, যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী

ভারতীয় সেনার নজরদারি দলটি ফিরে আসার ফাঁকেই সেখানে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ চিন সেনা জড়ো করে ফেলে তারা। এরপরেই তারা ভারতীয় সেনাদের দেখেই নজরদারি পোস্টের পাশে উঁচু জায়গা থেকে ভারতীয় সেনাদের লক্ষ করে পাথর ছুড়তে থাকে। প্রথমেই আক্রমণ করা হয় কর্নেল সন্তোষ বাবু এবং হাবিলদার পালানির উপরে। সন্তোষ বাবুকে আহত হতে দেখে ভারতীয় সেনা ঝাঁপিয়ে পরে চিন সেনাদের দিকে। সংখ্যায় বেশি থাকায় প্রথম দিকে ভারতীয় সেনা ঠিক সুবিধা করতে পারে নি। প্রায় তিনঘন্টা ধরে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলার পর ঘটনাস্থলেই চিনা বাহিনীর একাধিক সেনা মৃত অথবা গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েছিল।

আরও পড়ুন: চুক্তি লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের গুলির পাল্টা জবাবে বিধ্বস্ত পাক রেঞ্জার্সদের একাধিক চৌকি (ভিডিও)

পরেরদিন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে চিন সেনাদের মৃতদেহ ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। ততক্ষনে অবশ্য চিন সেনাদের ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেনা সূত্রে দাবি দু’দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তির খেলাপ করে ওই পোস্ট তৈরি করেছিল চিন। প্রতিপক্ষের থেকে সংখ্যায় কম হলেও বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানরা চিনা সেনাদের পোস্ট সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

Facebook Twitter Print Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *