১১৭ বছর বাদে রিয়ালে ‘অস্প্যানিশ’ অধিনায়ক, নতুন অধিনায়ক মার্সেলো

সায়ন ঘোষ

দীর্ঘ ষোলো বছরের যাত্রা শেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়বার ঘোষণা করেছেন মাদ্রিদ রক্ষণের স্তম্ভ সের্জিও র‍্যামোস। তিনি রিয়ালের অধিনায়কও ছিলেন। তাঁর পরিবর্তে রিয়ালের অধিনায়ক হচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান লেফটব্যাক মার্সেলো। ১১৭ বছর বাদে কোনও বিদেশি রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: দেশ, সীমান্ত এবং মিলখা সিংয়ের রূপকথা

সের্জিও র‍্যামোস

রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০২ সালের ৬ মার্চ। ইংলিশ শব্দ ‘রয়্যাল’ থেকে এসেছে রিয়াল শব্দটি। যার অর্থ রাজকীয়। তৎকালীন স্পেনের রাজা দ্বাদশ আলফানসো রিয়াল মাদ্রিদের বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ দলের প্রথম অধিনায়ক ছিলেন আইরিশ ফুটবলার জনসন আর্থুর। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক গোলটি করেছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদের তৃতীয় অধিনায়ক ছিলেন গুয়াতেমালার ফুটবলার ফ্রেডরিকো রিভুয়েল্টো। ১৯০৪ সালে রিয়ালের অধিনায়ক ছিলেন। তারপর রিয়াল মাদ্রিদে কোনও বিদেশি ফুটবলার অধিনায়ক হননি। ফের ১১৭ বছর বাদে রিয়াল কোনও বিদেশি ফুটবলারকে অধিনায়কত্ব দিল। অবশ্য এর মাঝে ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ পর্যন্ত অধিনায়ক ছিলেন হোসে রমন সাউটো হুর্তাদো। সাউটো ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা প্রথম মেক্সিকান ফুটবলার। কিন্তু সাউটো পরবর্তীকালে স্পেনের নাগরিক হন। তাই সাউটোকে বিদেশি ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়নি। যদিও মার্সেলোর স্প্যানিশ নাগরিকত্ব আছে। তারপরও মার্সেলোকে বিদেশি ফুটবলার হিসেবে ধরা হয়, কারণ মার্সেলোর দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এবং মার্সেলো নিজের জন্মভূমি ব্রাজিলের হয়েই খেলছেন। তাই ১১৭ বছর বাদে ‘অস্প্যানিশ’ অধিনায়ক হলেন মার্সেলো।

আরও পড়ুন: কপিল দেব ১৭৫:৩৮, ইতিহাস থেকে ক্রিকেট রূপকথা

মার্সেলো ভিয়েরা

রিয়াল মাদ্রিদ দলের অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয় তাঁকেই, যিনি রিয়ালের হয়ে সবচেয়ে বেশিদিন খেলেছেন। বর্তমান রিয়াল দলে মার্সেলোই সবচেয়ে সিনিয়র ফুটবলার, যিনি ২০০৭ থেকে প্রায় ১৪ বছর রিয়ালের হয়ে খেলে চলেছেন। তবে রিয়ালের অধিনায়ক নির্বাচনের এই নীতিকে বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন হোসে মরিনহো। তাঁর সময়ে তিনি দলের সবচেয়ে সিনিয়র ফুটবলার ইকের ক্যাসিয়াসকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে অধিনায়ক করবার পক্ষে ছিলেন, যা রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজমেন্ট মেনে নেয়নি। রিয়ালের অধিনায়ক হয়েছিলেন অনেক প্রথিতযশা খেলোয়াড়, যেমন— সান্তিয়াগো বার্নাব্যু দে ইয়েস্তে, ফ্রান্সিসকো জেন্টো, ফার্নান্দো হিয়েরো, রাউল, ইকের ক্যাসিয়াস ইত্যাদি। আবার অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় রিয়ালের অধিনায়ক হবার সুযোগ পাননি, যেমন— আলফ্রেডো ডি স্টেপানে, ফেরেঙ্ক পুসকাস, ভিনসেন্ট ডেল বক্সি, রোনাল্ডো, জিনেদিন জিদান, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো রিয়াল মাদ্রিদ গ্রেটরা।

আরও পড়ুন: লিয়েন্ডার পেজ ৪৮: এক ইতিহাসের মুখোমুখি

রিয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হলেন ম্যানুয়েল স্যাঞ্চেজ। ম্যানুয়েল স্যাঞ্চেজের নেতৃত্বে রিয়াল সর্বোচ্চ ১৯টি ট্রফি জিতেছিল, যার মধ্যে ৫টি লা লিগা ও ২টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগও ছিল। ম্যানুয়েল মুনোজ ও সদ্য প্রাক্তন অধিনায়ক সের্জিও র‍্যামোস, এই দু’জনেই অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার রেকর্ড গড়েছিলেন। মুনোজ শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নয়, সঙ্গে টানা ৪টি লা লিগাও জেতেন অধিনায়ক হিসেবে। অন্যদিকে, ইকের ক্যাসিয়াসের নেতৃত্বেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগা জিতেছিল রিয়াল। রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে না পারলেও দু’বার লা লিগা জিতেছিল। রাউল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৭৪১টি ম্যাচ খেলবার রেকর্ডও গড়েছিলেন।

আরও পড়ুন: জ্যাঙ্গো, র‍্যাম্বো আর ফুটবল

বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ দলের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেঞ্জেমা, যিনি মার্সেলোর পর দলের সবচেয়ে সিনিয়র ফুটবলার। মার্সেলো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা লেফটব্যাক, যিনি রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণ করতে পটু। তিনি রিয়ালের হয়ে ৫২৮ ম্যাচে ৩৮টি গোল ও ১০১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। সের্জিও র‍্যামোস রিয়ালের সেরা পাঁচ অধিনায়কের একজন। র‍্যামোস ২০০৫ থেকে ২০২১ পর্যন্ত রিয়ালের রক্ষণভাগকে নেতৃত্বে দিয়েছেন। ৬৭১ ম্যাচে ১০১টি গোলের মালিক সের্জিও র‍্যামোস রিয়ালকে অধিনায়ক হিসেবে ১২টি ট্রফি জিতিয়েছেন। এহেন র‍্যামোসের ছেড়ে যাওয়া মাদ্রিদ দলকে পুনরায় ট্রফি জেতানোই বড় চ্যালেঞ্জ মার্সেলোর কাছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *