২৪৯ বছরের পুরনো শান্তিপুরের ডাবরে পাড়া বুড়ো বারোয়ারি

তিরুপতি চক্রবর্তী

বহু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক সুরধনী গঙ্গার তীরবর্তী জনপদ হল শান্তিপুর। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুরধনী ১৯২২ সালের আগে মূল গঙ্গার উৎসমুখ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন এই জনপদ বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতির পীঠস্থান ও বিখ্যাত তাঁত শিল্পের সূতিকাগার। আর ক’টা দিন পরেই দুর্গাপুজো। বৈষ্ণবতীর্থ শান্তিপুর কিন্তু পিছিয়ে নেই শারদ উৎসবে। এখানে বিভিন্ন পারিবারিক প্রাচীন দুর্গাপুজো যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস সংবলিত কিছু বারোয়ারি।

আরও পড়ুন: দুর্গোৎসবে সাঁওতালরা পুজো করেন মহিষাসুরকে

ছবি সৌমেন দাস

এই পর্বে আমরা প্রথমেই দেখব শান্তিপুরের দ্বিতীয় প্রাচীন বারোয়ারি— ডাবরে পাড়া বারোয়ারি। প্রায় ২৪৯ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাস নিয়ে আজও সেখানে পূজিত হন মা দুর্গা। তবে কথিত আছে, এই পাড়ার দুর্গাই শান্তিপুর শহরতলির প্রথম বা আদি বারোয়ারি পুজো। আগে সাত/আটটি পাড়ার অধিবাসীরা মিলে এই পুজো করতেন। এই পাড়ার বাসিন্দারা নিজেরাই এই পুজোর সব আয়োজন নিজের হাতে করেন। পরে যার যার নিজপাড়ায় পুজো শুরু হলেও বুড়ো বারোয়ারির পুজোয় এতটুকু ভাটা পড়েনি।

ছবি লেখক

আরও পড়ুন: স্মৃতির ভেলায় চড়ে বাঁকুড়ার বড়চাতরা গ্রামের দুর্গাপুজো

মূলত তন্তজীবী প্রধান এই পাড়ার অধিবাসীরা মিলে আজ ও এই দুর্গা আরাধনা করে আসছেন। এই পূজোয় নবমীর দিন আজও ইলিশ মাছ দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়৷ এবং এই বারোয়ারির দেবীমূর্তিটিই এই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় দেবীমূর্তি। মূর্তিটি এখন বংশ পরম্পরায় প্রখ্যাত শিল্পী প্রদীপ পাল নির্মাণ করেন। তাঁর পিতা অজিত পাল প্রথম এই তিন পুতুলের একচালার দেবীমূর্তিটি বানান৷ তবে এবার করোনা আবহে সব বিধি মেনে আয়োজিত হতে চলেছে ডাবরে পাড়া বুড়ো বারোয়ারির পুজো।

ছবি সমন্বয় কুণ্ডু
Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *