জেতার জন্য দরকার ৩০৯, মঞ্চ তৈরি, টিম ইন্ডিয়া কি জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপাবে?

Mysepik Webdesk: সিডনিতে ভারতের সামনে ৪০৭ রানের টার্গেট দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে চতুর্থ দিনের শেষে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯৮ রান। এখনও জয়ের জন্য ৩০৯ রান দরকার। অপরাজিত আছেন অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে ও চেতেশ্বর পুজারা। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) এখন পর্যন্ত ২৮৮ বেশি রান তাড়া করতে পারেনি কোনও দলই। ২০০৬ সালে চতুর্থ ইনিংসে ২ উইকেটে ২৮৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

আরও পড়ুন: বঞ্চনার ক্যাচ তালুবন্দি করার লড়াইয়ে ঋদ্ধিমান

ওপেনার হিসাবে বিদেশের মাটিতে প্রথম অর্ধশতক করার পরে আউট হন রোহিত শর্মা। প্যাট কামিন্সের একটি শর্ট বল পুল করতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়ানো মিশেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়ন ফেরেন রোহিত। ৯৮ বলে ৫২ রান করেছিলেন তিনি। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ১১তম ফিফটি। তিনি পুজার সাথে তৃতীয় উইকেটে ২১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। দ্বিতীয় ইনিংসে জোশ হ্যাজলউড ভারতকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন। ৩১ রানের ব্যক্তিগত স্কোরে শুভমান গিলকে আউট করেন হ্যাজলউড। রোহিত-শুভমানের ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৭১ রান।

উল্লেখ্য যে, এই দুই ভারতীয় গোড়াপত্তনকারী ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসেও ৭০ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। আর দ্বিতীয় ইনিংসেও সফল হল এই জুটি। এটি দেশের বাইরে বিগত ১৪ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে ভারতের প্রথম ৫০+ রানের অংশীদারিত্ব। এর আগে ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বেস্টারেতে ওয়াসিম জাফর ও বীরেন্দ্র সেহওয়াগ ১০৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দু’জনেই ২২.১ ওভার ব্যাট করেছিলেন। একইসঙ্গে উভয় ব্যাটসম্যানই প্রথম ইনিংসে ২৭ ওভার ব্যাট করেছিলেন। ১৬ বছর আগে টিম ইন্ডিয়ার ওপেনাররা ২০ ওভারের বেশি ব্যাট করেছিলেন। ২০০৪/০৫ সালে সেহওয়াগ এবং গৌতম গম্ভীর প্রথম ইনিংসে ২৩.২ ওভার এবং দ্বিতীয় ইনিংসে বেঙ্গালুরুতে ২৩.৪ ওভার ব্যাট করেছিলেন।

৫২ বছর পর টেস্টের উভয় ইনিংসেই ভারতীয় ওপেনাররা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫০+ রান যোগ করেন। এর আগে সিডনিতে অনুষ্ঠিত ১৯৬৮ সালের টেস্টে ফারুক ইঞ্জিনিয়ার এবং আবিদ আলি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে উভয় ইনিংসে প্রথম উইকেটে ৫০+ রান যোগ করেছিলেন।

দ্বিতীয়বারের মতো রোহিত ও শুভমান ভারতের বাইরে কোনও টেস্টে দু’টি ৫০+ রান করেছেন। এর আগে ২০১৮ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে শিখর ধাওয়ান এবং লোকেশ রাহুল প্রথম ইনিংসে ৬০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসেও ৬০ রানের জুটি গড়েছিলেন।

টেস্টে স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার নবম সর্বোচ্চতম রান সংগ্রহকারী হয়েছেন। তিনি পিছনে ফেললেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ডেভিড বুনকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রান করে স্মিথ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি এখনও পর্যন্ত ৭৬টি টেস্টে ৭৪৯৯ রান করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন রিকি পন্টিং। তিনি ১৬৮ টেস্টে ১৩,৩৭৮ রান করেছেন। উল্লেখ্য যে, স্মিথ এদিন রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ হন।

আরও পড়ুন: জয় দিয়েই আই লিগ শুরু মহামেডানের

তৃতীয় উইকেটের লাবুশানে এবং স্মিথ ২২৪ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন। লাবুশানে তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের দশম ফিফটি করেছেন। ১১৮ বলে ৭৩ রানে আউট হন তিনি। সাইনির বলে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে অনবদ্য ক্যাচ তালুবন্দি করেন পরিবর্ত হিসেবে নামা ঋদ্ধিমান সাহা। এদিন ভারতীয় এই উইকেটরক্ষক চারটি ক্যাচ নেন। অনবদ্য কিপিং করলেও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে এই চারটি ক্যাচ যুক্ত হবে না। লাবুশানে প্রথম ইনিংসে ৯১ রান করেছিলেন। সাইনি এরপর ম্যাথিউ ওয়েডকে (৪) সাজঘরে পাঠান। সাইনি তাঁর অভিষেক টেস্টে এখন পর্যন্ত ৪ উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ইনিংসেও তিনি দু’টি উইকেট নিয়েছিলেন।

স্মিথ এবং লাবুশানে ভারতের বিপক্ষে একই টেস্টে দু’টি ইনিংসে ১০০+ রানের জুটি গড়ে রেকর্ড গড়েন। এর আগে ২০০৫/০৬ সালে পাকিস্তানের ইউনূস খান ও মহম্মদ ইউসুফ ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত টেস্টে প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০+ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। একইসঙ্গে ১৯৮২ সালে শ্রীলঙ্কার রায় লুক ডায়াস এবং দিলীপ মেন্ডিস চেন্নাই টেস্টের তৃতীয় উইকেটে উভয় ইনিংসে ১০০+ রান করেছিলেন।

স্মিথ এ পর্যন্ত ১১ বার উভয় ইনিংসে ৫০+ রান করেছেন। বিশ্বের ৫ম ব্যাটসম্যান হিসাবে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার রিকি পন্টিং সর্বাধিক ১৫ বার করেছেন উভয় ইনিংসেই ৫০+ রান করেছেন। উল্লেখ্য যে, তৃতীয় টেস্টের আগে স্মিথ এই সিরিজে ১, ১*, ০, ৮ রান করেছিলেন।

তবে টিম ইন্ডিয়া কিন্তু যথেষ্ট মুশকিলে রয়েছে। ম্যাচ জিততে গেলে পঞ্চম দিনে এখনও দরকার ৩০৯ রান। তার ওপর প্রথম ইনিংসে চোট পেয়ে বসে আছেন জাদেজা এবং পন্থ। অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার বাঁ-হাতের আঙুলে একটি ফ্র্যাকচার রয়েছে। মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, এই টেস্টে তিনি ব্যাট করতে আসবেন না। ১৫ জানুয়ারি থেকে ব্রিসবেনে চতুর্থ এবং শেষ টেস্টেও প্রথম এগারোয় খেলা হবে না তাঁর। তবে টিম ইন্ডিয়ার ভক্তদের জন্য সুসংবাদও রয়েছে। ঋষভ পন্থের কনুইয়ের আঘাত গুরুতর নয়। তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে আসতে পারেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের প্রস্তুতি: ভারতীয় জুনিয়র মহিলা হকি দলের চিলি সফর

আগামীকাল ২/৯৮ অবস্থায় পঞ্চম দিন শুরু করবে ভারত। সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার আরও ৩০৯ রান। তবে সেই লক্ষ্যকে বহুদূর মনে হচ্ছে। তার ওপর চতুর্থ দিন গিল এবং রোহিতের উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছে ভারত। তাই রাহানেরা জেতার লক্ষ্যে ঝাঁপাবেন নাকি ড্রয়ের লক্ষ্যে, তা নিয়ে তাঁরা থিঙ্কট্যাঙ্কের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পাবে মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *