‘চলে গেছে দিন তবু আলো রয়ে গেছে’— চলে যাওয়ার ৩৪ বছর পরে আজও আলোকিত কিশোর কুমার

শুভ্রাংশু রায়

করোনা পরিস্থিতিজনিত কারণে মুখে মাস্ক এঁটে পুজোমণ্ডপে অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পরে পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে মোবাইল স্ক্রিনে চোখ আটকে গেল। ফেসবুক জানিয়ে দিল, আজই সেই দিন। ১৩ অক্টোবর। আজকের তারিখেই ১৯৮৭ সালে কিশোর কুমার ওরফে আভাস কুমার গাঙ্গুলি ইহলোক ত্যাগ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজের একটি পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল।

আরও পড়ুন: পুজোর গান এবং ‘বাজনা গান’

সেটি ছিল সম্ভবত ১৪ অক্টোবর, সালটা অবশ্যই ১৯৮৭। পুজোর ছুটি মা-বাবার সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলাম বেনারস। ছিলাম বেনারসের পাড়ে ধর্মশালায়। সকালের  খবরের কাগজে আসতেই ধর্মশালার ম্যানেজার ‘ইয়ে কেয়া অর্নথ হো গিয়া’ বলে মাথায় হাত দিয়ে বসলেন। জানতে পারলাম প্রয়াত হয়েছেন কিশোর কুমার। বয়স সবে দশ ছুঁলেও জানা হয়ে গিয়েছিল কে কিশোর কুমার। বিকেলে বাবার সঙ্গে  বেরিয়ে দেখলাম বেনারসের পানমশলা বিক্রেতারা সেদিন সন্ধ্যায় সব দোকানে পানমশলা বিক্রি সেদিনের জন্য বন্ধ করে দিলেন। বেশ কিছু দোকানে শাটার অর্ধেক নেমে গেল। বেনারসের একজন ব্যবসায়ী বাবাকে বলেছিলেন মনে আছে, “কিশোরজি কি খাইকে পান বানারস ওয়ালা-কে চলতে হামরা মশলা কা ইতনা নাম হুয়া থা। ও আজ চল বসে তো হাম ক্যায়সে কারবার জারি রাখে।”

আরও পড়ুন: ‘জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা’, ‘গোলন্দাজ’-এ এক ব্রিটিশ মিলিটারি ফুটবলারের ভূমিকায় অভিনয় করা খেলোয়াড় ডগলাসের পোস্ট

তখন বুঝিনি এ কত বড় স্বীকৃতি। এখন বুঝি আর ভাবি কিশোর কুমার কোনও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাননি। কিন্তু এত বড় মানুষের সম্মান যাঁর মেলে, তাঁর রাষ্ট্রীয় সম্মানে কি যায় আসে। তাই এত বছর পরেও তিনিই রাজার আসনে বিদ্যমান। আজও তাঁর গান পুজো প্যান্ডেলে হইহই করে বাজে। রিমিক্স গানেও যাবতীয় যন্ত্রের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যায় তাঁর পুরুষালি কণ্ঠস্বর। তাঁর ঘরানা অনুসরণ করে আজ মুম্বই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত বেশ কিছু গায়ক। তাই ১৩ অক্টোবর যেন বারবার কিশোর কুমারের চলে যাওয়ার বেদনাকে ছাপিয়ে আমাদের মধ্যে তাঁর রয়ে যাওয়াকেই প্রবলভাবে মনে করিয়ে দেয়। হ্যাঁ, বেশ প্রবলভাবেই।

লেখক সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত

Facebook Twitter Email Whatsapp

5 comments

  • চমৎকার লেখা — পুরোনো স্মৃতি যেন এক লহমায় হাত ধরাধরি করে উঠে এল। লেখক শুভ্রাংশু রায়কে অশেষ ধন্যবাদ।

  • চমৎকার লেখা।

  • Nabaneeta Basu

    খুব ভাল লাগল পড়ে। আর সত্যিই শিল্পী অমর।

  • Paramita Ghosh

    পিতা মারা গেলে সন্তানরা কিভাবে তাদের লাভ খুঁজবে তারপর , সত্যিই অজানা ছিল ঘটনাটা, ভীষন সুন্দর

  • গানে গানে আজও তিনি আমাদেরই মাঝে অমর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *