লকডাউনের মাঝেই গ্রেপ্তার তৃণমূলের ৪ হেভিওয়েট নেতা, বিক্ষোভ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়, সংক্রমণের আশঙ্কা

Mysepik Webdesk: সিবিআই আবারও বাংলার নারদ মামলার তদন্তকে ত্বরান্বিত করেছে। সোমবার তদন্ত সংস্থা বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালায়। এরপরেই তৃণমূল সরকারের চার মন্ত্রী— ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: নারদ মামলায় গ্রেফতার ফিরহাদ-মদন-শোভন-সুব্রত, নিজাম প্যালেসে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী

নারদকাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য, CBI-এর হাতে 'আটক' ফিরহাদ-মদন-শোভন-সুব্রত!

এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে আবারও কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবাংলা সরকারের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার নিয়েছে। তাঁর মন্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই অফিসে পৌঁছে যান। সূত্রের খবর, সূত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রী সিবিআই আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেভাবে বেআইনি ভাবে এই চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁকেও গ্রেপ্তার করতে হবে। নয়তো তিনি সিবিআই দপ্তর থেকে বেরোবেন না। তাঁর আইনজীবী বলেছিলেন যে, মন্ত্রী ও বিধায়কদের বিনা নোটিশে গ্রেপ্তার করা যায় না। এদিকে খবর হল, নিজাম প্যালেসে তুলে নিয়ে গিয়ে অ্যারেস্ট মেমোতে সই করানো হয় চার নেতা-মন্ত্রীকে।

আরও পড়ুন: বিশিষ্ট সাংবাদিক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত

अपने मंत्री और विधायक से पूछताछ के बाद मुख्यमंत्री ममता बनर्जी CBI दफ्तर पहुंची।

এই চার নেতাকে আদালতে হাজির করা হবে। এই চার নেতার পুলিশি হেফাজত চাইবে সিবিআই। ২০১৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে নারদ নিউজ পোর্টাল দ্বারা টেপ প্রকাশ করা হয়েছিল। এই স্টিং অপারেশনের পরে দাবি করা হয়েছিল যে, টেপগুলি ২০১৪ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল। এতে তৃণমূলের মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদের উদ্ধৃত করে ডামি সংস্থাগুলি থেকে নগদ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এই মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছেছিল। হাইকোর্ট ২০১৭ সালে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, এই গ্রেপ্তারির পর রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। নিজাম প্যালেসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের সমর্থকরা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের খবর আসছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটিতে টায়ার জ্বালিয়ে তৃণমূল কর্মীদের অবরোধের কথা প্রকাশ্যে আসে। মদন মিত্রর গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে বিটি রোডে কামারহাটিতেও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। হুগলির আরামবাগ-কলকাতা রাজ্য সড়কের গৌরহাটি মোড়ে পথ অবরোধ হয়। ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে আসানসোল হটন মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে তৃণমূল কর্মীরা অবরোধ করেন। লকডাউন পরিস্থিতিকে এই চার হেভিওয়েট নেতাকে গ্রেপ্তারি কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ মানুষ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছেই।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *