সেরাম অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৫, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে উঠে এলো ঘটনার ভয়াবহতা

Mysepik Webdesk: বৃহস্পতিবার ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে অগ্নিকাণ্ডে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এঁরা সকলেই ঠিকাদার শ্রমিক। তাঁরা সেখানে কাজ করতে এসেছিলেন। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী এই ইনস্টিটিউটের মাঞ্জারি প্ল্যান্টের (এম ৩) পঞ্চম তলায় আগুন লেগেছিল। আগুনও চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। বিসিজি ভ্যাকসিন এই প্ল্যান্টে তৈরি করা হয়। এই বিল্ডিংটি কোভিশিল্ডের উৎপাদন এবং স্টোরেজ ইউনিট থেকে দূরে। এখন আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া উত্তরপ্রদেশের সুধাংশু কুমার এক প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমকে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফের পাক-জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিলো ভারতীয় সেনা, গুলির লড়াইয়ে খতম তিন জঙ্গি

উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের বাসিন্দা সুধাংশু বলেন, “আমরা বিল্ডিংয়ের চার তলায় ছিলাম। প্রতিদিনের মতো দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎই দেখতে পেলাম ধোঁয়া। আমরা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিৎকার শুরু হয়ে গেল। চারপাশে তখন আগুন জ্বলছে। আমাদের সুপারভাইজার বিপিন সরোজ আমাদের বাঁচাতে এসে চিৎকার করলেন যে, এখান থেকে চলে যাও, আগুন সিঁড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। আমরা ৮ জন ছিলাম। চার তলা থেকে ৬ জন লাফিয়েছিল। আমাদের জীবন রক্ষা পায়। তবে সন্ধ্যা ৬টা অবধি আমাদের সুপারভাইজারকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইলও বন্ধ ছিল। আমরা আশঙ্কিত। পরে খবর এলো যে, তিনি আর নেই। আমাদের সতর্ক করার পরে আগুন তাঁকে গ্রাস করেছে। জীবন হারান তিনি।”

আরও পড়ুন: কালকা মেলের নাম পরিবর্তন হয়ে ‘নেতাজি এক্সপ্রেস’, ঘোষণা কেন্দ্রের

সুধাংশু বলেছিলেন, “আমরা যখন মূল ফটকের কাছে এসেছিলাম তখন আমরা জানতে পারলাম যে বিপিন এবং রামশঙ্কর বিল্ডিংয়ে আটকা পড়ে আছেন। তাঁদের সঙ্গে তখন কী হচ্ছিল, আমরা তা জানতাম না। ভেতর থেকেও কোনও খবর পাচ্ছিলাম না। রাত ৯টার দিকে আমাদের জানানো হয় যে, তাঁরা দু’জনেই প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা সকলেই প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। যাঁরা জীবন হারিয়েছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে এখন ফোন আসছে। আমরা এখানে গত দেড় মাস ধরে ইন্সুলেশনের কাজ করছিলাম।”

আরও পড়ুন: ড্রোনের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে ভারতে অস্ত্র পাচারের ছক বানচাল করল নিরাপত্তারক্ষীরা

বেলা তিনটের দিকে ইনস্টিটিউটে আগুন লাগে। সুধাংশু তাঁর সঙ্গীদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন রাত ৯টায় অর্থাৎ ৬ ঘণ্টা পরে। প্রশাসন তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে, ইউপি এবং পুণের ২ জন এবং বিহারের ১ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার বিষয়টি জানা গিয়েছে। পুণের মেয়র মুরলীধর মোহোল বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের পরে ৫০০ মানুষকে প্ল্যান্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই প্ল্যান্ট পাঁচ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। এতে এখনও অনেক কাজ চলছে। আগুন লাগার কারণ এখনও পরিষ্কার হয়নি। ওয়েল্ডিংয়ের কাজ এখান চলছে। হয়তো শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।”

যে ক্যাম্পাসে আগুন লেগেছে তার প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের কয়েক কোটি ডোজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই ইউনিটটি সিল করে দেওয়া হয়েছিল। বেশিরভাগ প্ল্যান্ট ওয়ার্কারদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেডের দু’টি গাড়ি এখানে রয়েছে।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *