দু’টি হাত ছাড়াই প্যারালিম্পিকে টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় এক জীবনযোদ্ধা

Mysepik Webdesk: মিশরের ডামিয়েটা শহরের ছোট্ট একটি গ্রামের নাম কাফর সাদ আল-বাসাদ। এই গ্রামেরই এক বাসিন্দার নাম ইব্রাহিম হামদাতৌ। তিনি দশ জনের একজন। এবার টোকিওয় অংশ নিয়েছেন প্যারালিম্পিকে। মানুষটি টেবিল টেনিস র‍্যাকেট ধরে রাখেন মুখ দিয়ে। এবং নিপুণভাবে পা দিয়ে সার্ভ করেন পায়ের সাহায্য নিয়ে অদ্ভুত এক কৌশলে। টোকিওয় এখন চলছে প্যারালিম্পিক। এখানে অংশ নেওয়া ক্রীড়াবিদরা অনুপ্রেরণার উৎস। দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে জীবনের সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে ওঠা যায়, তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই ক্রীড়াবিদরা। এমনই একজন প্যারালিম্পিয়ান হলেন মিশরের ইব্রাহিম হামদাতৌ, যিনি টেবিল টেনিস খেলায় তাঁর দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ১০ বছর বয়সে হামদাতু একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় তাঁর দু’টি হাত হারিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: প্যারালিম্পিক: টেবিল টেনিসে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছলেন ভারতের ভাবিনা প্যাটেল

একটি সাক্ষাৎকারে ৪৮ বছরের হামদাতৌ জানিয়েছিলেন যে, বন্ধুর পরামর্শে তাঁর জীবন নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করেছিল। বন্ধু বলেছিল, ‘এমন কিছু করা উচিত যা সে করতে পারে।’ এই কথাই হামদাতৌর মনে ইচ্ছা এবং সংকল্প তৈরি করেছিল। হামদাতৌর কথায়, তিনি কাছে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে তাঁর দু’টি কাছে হাত না থাকলেও তিনি টেবিল টেনিসের মতো একটি খেলা অনুশীলন করতে পারেন। এই লৌহকঠিন মানসিকতাই তাঁকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারালিম্পিয়ান বানিয়েছে। হামদাতৌ রুপোর পদকও জিতেছিলেন। দু’টি রুপোর পদক জিতেছিলেন ২০১১ এবং ২০১৩ সালের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নশিপে এবং আরও একটি রুপো পেয়েছিলেন ২০১৩-র মিশর ওপেনে।

আরও পড়ুন: জ্যাভলিন নিয়ে চলে গিয়েছিলেন পাক জ্যাভলার নাদিম, নীরজের কথার বিকৃতি করায় নেটিজেনদের জবাব ভারতীয় জ্যাভলারের

দুর্ঘটনার পর হামদাতৌ প্রায় এক বছর পর্যন্ত রাত্রি ছাড়া বাড়ি থেকে বের হননি। কারণ মানুষ তাঁকে দেখে দয়া ও সহানুভূতি দেখাত। তা তিনি পছন্দ করতেন না। একবছর পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠেন হামদাতৌ। তিনি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা শুরু করেছিলেন। এরপর টেবিল টেনিসের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তাঁর। শেষপর্যন্ত এই আগ্রহই পরিণত হয় প্রবল জেদে। সেখান থেকে আজ তিনি প্যারালিম্পিকে পৌঁছেছেন। এই প্যারালিম্পিয়ান ২০১৬ সালে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এই ফলাফল তাঁকে রিওতে তাঁর প্রথম অলিম্পিক গেমসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে সাহায্য করেছিল।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *