একটি দৌড় এবং ষাট বছরের আক্ষেপ

শুভ্রাংশু রায়

রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা পরিচালিত ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ ছবির কাহিনির সূত্রপাত ঘটেছে একটি বিশেষ মুহূর্তে। ৬ সেপ্টেম্বর,১৯৬০। রোম অলিম্পিকে মিলখার জীবনের সেই ঐতিহাসিক দৌড়। তবে কেবলমাত্র মিলখার জীবনের ক্ষেত্রে নয় অলিম্পিকের ইতিহাসেও ১৯৬০-এ রোমে ৪০০ মিটারের দৌড় ভীষণভাবে ঐতিহাসিক। সেবার ভারতের বিখ্যাত দৌড়বীর মিলখা সিং অলিম্পিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন, সময় ছিল ৪৫.৬ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে আগের অলিম্পিক রেকর্ড ছিল জামাইকান দৌড়বীর ভিনসেন্ট জর্জ রূদেন (৪৫.৯ সেকেন্ড)-এর। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মিলখা সিংই কিন্তু এখনও পর্যন্ত একমাত্র ভারতীয় আাথলিট, যিনি অলিম্পিক রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু তবু মিলখা সিংয়ের কপালে অলিম্পিক মেডেল জোটেনি। কারণ সেই দৌড়ে মিলখার সামনে থাকা তিন প্রতিযোগীও— আমেরিকান ওটিস ডেভিস (৪৪.৯), জার্মান কার্ল কফম্যান (৪৪.৯), দক্ষিণ আফ্রিকান ম্যালকম স্পেন্স (৪৫.৫) অলিম্পিক রেকর্ড ভেঙে ভিট্রি স্ট্যান্ডে উঠেছিলেন। মিলখার কপালে জুটেছিল চতুর্থ স্থান। দ্য গ্লোরিয়াস ফোর্থ।

আরও পড়ুন: প্রথম কয়েকটা ম্যাচ মিস করলেও রায়না এবছরই সিএসকে-তে ফিরবে: দীপ দাশগুপ্ত

যদিও এই দৌড়ে একটি বিশেষ ঘটনা মিলখা সিং এবং ভারতীয় অলিম্পিক ইতিহাসের সঙ্গে মিশে যায়, পরবর্তীকালে যা প্রায় লোকগাথায় পরিণত হয়েছে। সেই ঘটনাটি হল যে, ৪০০ মিটারের সেই দৌড় চলাকালীন মিলখা সিংয়ের পিছন ফিরে তাকানো, যার সুবাদে মিলখার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁকে অতিক্রম করে যান। সেই বিখ্যাত ৪০০ মিটার রেস দিয়েই ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ সিনেমার শুরু। স্টার্টারের গুলির শব্দে ছয় নম্বর লেন থেকে ইন্ডিয়া লেখা ১৭১ নম্বর জার্সি গায়ে মাথায় ঝুঁটি বাঁধা মিলখা সিং তিরবেগে ছিটকে বেরিয়ে যান।

পর্দায় তখন দেশ-বিদেশের নানা ধারাভাষ্যকার রেসের গতি প্রকৃতি নিয়ে ভাষ্য দিয়ে চলেছেন। হঠাৎ ট্ট্যাকের পাশ থেকে মিলখার উদ্দেশ্যে তাঁর কোচ বলে ওঠেন ‘ভাগ মিলখা ভাগ’। ব্যস পর্দায় আচমকা অন্ধকার নেমে আসে। দেখা যায় চেক জামা পরিহিত ১২/১৩ বছরের এক শিখ বালক নদীর পাড় ধরে প্রাণভয়ে ছুটে চলেছে।

দাঙ্গায় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আক্রান্ত মিলখা সিংয়ের বাবা তাঁর বালক পুত্রকে পালানোর নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তু ভাগ মিলখা তু ভাগ’। সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে বালক মিলখা (অবশ্যই বলতে হবে বেশ ভালো অভিনয় করেছে শিশু শিল্পী যবতেজ সিং) কাদা পথ ধরে দৌড়তে থাকে।

আর পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে তাড়া করে আসা ঘোড়ায় চড়া সেই কালো পোশাকের ঘাতক দাঙ্গাবাজকে। তারপর হঠাৎ আবার পর্দায় দেখা যায় রোম অলিম্পিকের সেই দৌড়। টানটান উত্তেজনায় দর্শক দেখতে পায় মিলখা পিছনে তাকিয়ে ফেলেছেন বলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁকে পিছনে ফেলে মেডেল জিতে নিলেন। চুরমার হয়ে গেল মিলখা সিং আর ভারতবাসীর অলিম্পিক মেডেলের স্বপ্ন। আর পর্দায় দেখা গেল পুরনো খবরের কাগজের কিছু কাটিংয়ের কোলাজ, যা মিলখার ব্যর্থতার খবর বহন করছে।


এই ঐতিহাসিক দৌড় আজ ষাট বছরে পা দিল। সেদিনের সেই আক্ষেপ কিন্তু আজও ভারতবাসী ভুলতে পারেনি। পারেননি স্বয়ং মিলখা সিং-ও। এত বছর পরেও কোনও পুরুষ ভারতীয় দৌড়বীরের পক্ষে মিলখার রেকর্ড ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। ‘৮৪-তে পি টি ঊষা সেই চতুর্থ স্থানেই আটকে রইলেন।

লেখক সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

8 comments

  • শ্রাবন্তী মণ্ডল

    Excellent

  • Debashis Majumder

    Excellent Article. Tobe ei eki akkhep PT Usha, Dipa Karmakar and Abhinava Bindra r khetreo roye gelo (Jodio Bindra ekbar shooting e sona jitechhen kintu aar ekbaar hole aaro bhalo logto.) Ei 4th place er geroy Indian Football Team o atke giyechhilo 1956 e Melbourne. Tobe nishandehe Milkha Singh er tai sabcheye close.

  • Dipak Kumar Bose

    Excellent historic run and very good explanation of losing the medal by a whisker.

  • Amrita Basu Roy Chowdhury

    An excellent piece of writing presented with historical flavour.

  • A heart-tearing news almost drowned in oblivion has been nicely presented like a good food served with proper garnishing.

  • Sri Nabarun Chakraborty

    Milkha is proud of India. His name was not so famous to young generations before releasing the movie ‘Bhag Milkha Bhag’. This movie which was based on his biography. After that not only the young but also the senior generation called up this great runner of India.
    Milkha Singh is a great name in the history of the sports of India.
    We all proud of him. No one couldn’t break his record as an Indian in Olympic sports till today.

  • নবনীতা বসু

    চমকপ্রদ।

  • Fantastic run of Milkha at Rome 1960 Olympic.
    We all Indian are PROUD for Milkha Singh.
    Particularly Athletes & Coaches.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *