অদিতি অশোক: মেডেল না জিতেও যিনি ইতিহাসে স্থান করে নিলেন

শুভ্রাংশু রায়

যখন কেউ অলিম্পিকের ব্যক্তিগত  ইভেন্টে পডিয়াম ফিনিশিং থেকে খুব কাছ থেকে ফিরে আসা  ভারতীয় অলিম্পিয়ানদের গল্প শোনায়, তখন যে নামগুলি সহজেই মনে আসে, সেগুলি হল মিলখা সিং (১৯৬০ রোম অলিম্পিক), পিটি ঊষা (১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক), জয়দীপ কর্মকার  (২০১২ লন্ডন অলিম্পিক), অভিনব বিন্দ্রা এবং দীপা কর্মকার (২০১৬ রিও অলিম্পিক)। এবারে বেশ ক’টি নাম যোগ হল। অদিতি অশোক তার মধ্যে অন্যতম। টোকিও অলিম্পিক ২০২০-তে অদিতি অশোকের পারফরম্যান্স, বিশেষত পুরো ইভেন্ট জুড়ে তাঁর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার কারণে  আশা করা যায় দীর্ঘ সময় ধরে অলিম্পিকপ্রেমীদের মনে তিনি রয়ে যাবে। এটি ছিল অদিতির দ্বিতীয় অলিম্পিক। রিওতে ১৮ বছর বয়সে   দেশের প্রথম মহিলা গল্ফার হিসেবে তিনি অলিম্পিকে নেমে ছিলেন। টোকিওতে  চারদিন ধরে চলা গল্ফের চারটি রাউন্ডে প্রথম দিনের পর থেকেই অদিতি ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে একটু একটু করে আশা বাড়িয়েছেন এবং প্রত্যেক দিন তাঁর ইভেন্টটি নিয়ে উৎসাহ দেখানোর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: ৪১ বছর পরে হকিতে মেডেল এলো ভারতের: এখন প্রশ্ন একটা না দু’টি?

শেষ দিনে সারা ভারত খুঁজলে বেশ কয়েক হাজার এমনকী লাখ ভারতীয়কে খুঁজে পাওয়া যেতেই পারে যাঁরা জীবনে প্রথমবার গলফের কোনও ইভেন্ট টিভির পর্দায় বা মোবাইল স্ক্রিনে সরাসরি দেখলেন। বলে রাখা ভালো যে, মহিলাদের গল্ফ কখনও ভারত সরকারের টার্গেট পোডিয়াম অলিম্পিক স্কিমের (টিওপিএস) অংশ ছিল না। তবে আমরা আশাবাদী হতেই পারি অদিতির এই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের পরে এটির পরিবর্তন ঘটানো হবে। সর্বোপরি, কয়েক মাস আগেও কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। গল্ফের মতো খেলায় শারীরিক সক্ষমতা প্রশ্নটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই অসুস্থতার পর্ব কাটিয়ে তিনি যে পারফরম্যান্স করলেন টোকিওর মাটিতে, তা নিঃসন্দেহে তাঁকে একটি বড় হাততালির প্রাপক করে তোলে।

আরও পড়ুন: মেডেল জয়ের নেপথ্য নায়ক ‘ওয়ারেবল টেকনলজি’

যে দেশের অধিকাংশ মানুষ এমনকী ক্রীড়া সাংবাদিকদের বেশ বড় অংশ গল্ফ খেলাটির নিয়ম সম্পর্কে সড়গড় নন, সেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করে মেডেলের এত কাছাকাছি পৌঁছনো, সত্যিই এই কৃতিত্ব কতখানি তার পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, একজনের কথা সত্যিই উল্লেখ করতে হয় তিনি হলেন অদিতির মা, মিসেস ম্যাশ অশোক। টোকিওতে তিনি মেয়ের জন্য সারাক্ষণ ক্যাডির ভূমিকা পালন করে গেলেন। কিছু প্রশংসা মনে হয় ওনারও প্রাপ্য। গল্ফের ঐতিহ্য আমাদের দেশে অনেক পুরনো, ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য মিশে আছে। কে জানে আগামী অলিম্পিকে এই ইভেন্টে হয়তো ভারতের পদক চলে আসতে পারে। তবে সে যাই হোক, বেঙ্গালুরু নিবাসী ২৩ বছরের অদিতি অশোক যে ভারত জুড়ে গলফ খেলাকে সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীর মনে পৌঁছে দিতে পারলেন এবারের অলিম্পিকের আসরে তাঁর করা পারফরম্যান্সের মাধ্যমে, সেটাই মনে হয় অদিতি অশোকের সবথেকে বড় কৃতিত্ব।

লেখক সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *