কোপা ফাইনালে নান্দনিক ব্রাজিল

Brazil

Mysepik Webdesk: ফুটবল সম্রাট কিছুদিন আগে নিজের একটা ম্যাচ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, সেনেগালের বিরুদ্ধে কোনও একটি ম্যাচে তাঁর মুহুর্মুহু আক্রমণের দাপটে সেনেগাল গোলকিপারকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল আফ্রিকার জায়ান্ট কিলার দলটির কোচ। পেলে গোল করার পর সেনেগালের গোলকিপার রীতিমতো কেঁদে ফেলেছিলেন। কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে পেরুর বিরুদ্ধেও তেমন কিছু হতে পারত নেইমার, রিচারলিশন, পাকুয়েটাদের আক্রমণের ঝাঁঝে। পেরুর গোলকিপার ব্রাজিল ফুটবলারদের বোমাবর্ষণের সামনে পড়লেন। সেনেগাল গোলকিপারকে পেলেদের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। পেরু গোলকিপার পেড্রো গলেসের ক্ষেত্রে তেমনটা হল না। লুই ফিলিপ স্কোলারি একসময় ব্রাজিলের ফর্মেশন বারবার চেঞ্জ করে প্রতিপক্ষ দলকে গোলকধাঁধায় ঘোরাতেন। নেইমারদের তিতে স্যার পূর্বসূরির পদাঙ্কই অনুসরণ করলেন।

আরও পড়ুন: মারাদোনা কি পৌঁছবেন এবারের ইউরো ফাইনালে?

কোয়ার্টার ফাইনালে যে ফর্মেশনে দলকে খেলিয়েছিলেন, তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ফর্মেশনে খেলালেন পেরুর বিরুদ্ধে। ইতালি কোচ রবার্তো মানচিনির স্টাইলে কোনও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার রাখলেন না। নেইমারকেই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার কাম উইথড্রোল ফরওয়ার্ড হিসেবে খেলিয়ে আক্রমণের গতিপ্রকৃতি বুঝতে দিতে চাইলেন না পেরুর ফুটবলারদের। কোয়ার্টারে লাল কার্ড দেখায় গ্যাব্রিয়েল জেসুস ছিলেন না এই ম্যাচে। প্রথম একাদশে সুযোগ পেলেন পাকুয়েটা। কখনও ডান দিক দিয়ে পাকুয়েটা উঠছেন, তো কখনও বাঁ-দিক দিয়ে উঠলেন এভারটন। রিচারলিশনের কাজটা অনেক সহজ করে দিচ্ছিলেন এই দুই ফুটবলার। শুরু থেকেই পেরুর বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝড় তুলল ব্রাজিল। কিন্তু একটার পর একটা গোল মিস করে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। ১০ মিনিটে পাকুয়েটার থেকে বল পান রিচারলিশন। একটা মাইনাস করেন। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে উঠে এসেছিলেন নেইমার। সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন গোলের। মারলেন ক্রসবারের উপর দিয়ে।

আরও পড়ুন: এবার সেমিফাইনালেই ব্রাজিলের বিজয়রথ থামাতে পারবেন কি এক আর্জেন্টিনিয়ান?

এরপর সেট পিস থেকে একটা দারুণ গোল মিস করলেন রিচারলিসন। তাঁর ও নেইমারের কম্বিনেশন মাঝেমাঝেই দারুণভাবে বিব্রত করছিল পেরুর ডিফেন্সকে। অসাধারণ স্কিলের নমুনা দেখালেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। প্রথমার্ধটা দাঁড়াতেই পারল না পেরু। ৩৪ মিনিটে সেন্টার হাফ থেকে আগুয়ান নেইমারকে বল বাড়ান ফ্রেড। দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে এগিয়ে পেরুর বক্সে দুই ডিফেন্ডারকে অসাধারণ স্কিলে ডজ করে মাইনাস করলে পাকুয়েটা বাঁ-পায়ে অসাধারণ গোল করে গেলেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল পেরু। কিন্তু ব্রাজিলের গতিতে আটকে যাচ্ছিলেন পেরুর ফুটবলাররা। মাঝমাঠ থেকে পেরুর ফুটবলারদের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠতে শুরু করেছিল ব্রাজিল। লাভ হচ্ছিল না। ব্রাজিল কোচ তিতে তুলে নিলেন রিচারলিসনকে। নামালেন ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে। কিছুটা থমকে থাকা ব্রাজিলের গতি বাড়ল তরুণ ভিনিসিয়াস নামাতে। পাকুয়েটা নেইমার তাঁর সঙ্গে পাস খেলতে খেলতে ভিনিসিয়াস শেষ পনেরোটা মিনিট ত্রস্ত করে রাখলেন পেরুর ডিফেন্সকে। যদিও ব্রাজিল আর গোল করতে পারেনি। ১-০ গোলে জিতে প্রত্যাশামতোই কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠে গেল ব্রাজিল।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *