দীর্ঘ লকডাউন কাটিয়ে নদিয়ার শান্তিপুরে একঝাঁক নামিদামি সংস্থা হাজির তাদের পসরা নিয়ে

নদিয়া, ২১ অক্টোবর: অতিমারি পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বের ব্যবসায়িক মানচিত্র তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নতুন করে বিনিয়োগের কথা এই মুহূর্তে চিন্তা করছেন না শিল্পপতি থেকে শুরু করে ছোটো দোকানদাররাও। কিন্তু নাদিয়ার শান্তিপুরে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ল। এই লকডাউনের মধ্যেও শান্তিপুরে একটিমাত্র বহুতল আবাসন থাকলেও পরপর দুটি বহুতল আবাসন তৈরি হয়েছে। এর আগে ভিমার্ট শপিং মল চালু হলেও রিলায়েন্সের মতো সংস্থাগুলি তাদের স্টোর বানানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে শান্তিপুরে।

আরও পড়ুন: পুজো মণ্ডপে নিষিদ্ধ অঞ্জলি-সিঁদুর খেলা: হাইকোর্ট

পিটার ইংল্যান্ড, হফম্যান, রেমন্ড, সিটি বাজারের মতোই নামিদামি প্রতিষ্ঠানও তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছে। মিও আমোরে, ক্যাথলিন, আমুল, সুগার এন্ড স্পাইসের মতো প্যাকেট বন্দি কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি, বার্গার ,পিৎজা, হটডগ, স্যান্ডউইচ সহ বিভিন্ন রকম স্ন্যাক্সের বিপুল সমাহার এখন থেকে শান্তিপুর অধিবাসীদের হাতের মুঠোয়। দু-এক জনের বাড়ি শান্তিপুরে হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি কলকাতা থেকে এসেও ব্যবসায়িরা মূলধন বিনিয়োগ করেছেন এই শান্তিপুরে।

আরও পড়ুন: পুজোর মুখে কেমন আছেন শান্তিপুর, কৃষ্ণনগরের শোলাশিল্পীরা?

ইদানিং দেখা গিয়েছে যেখানে সামান্য দামের ধোসা, ইডলি বা যেকোনো ভিন রাজ্যের খাওয়ারের অভাব বোধ করত শান্তিপুর, সেখানে এখন এই অভাব অনেকটাই কেটেছে। বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট সচ্ছল থাকলেও অভ্যাসগত কারণে খাদ্য রসিকরাও বিমুখ ছিলেন এতদিন। ভৌগোলিক কারণে ভাগীরথী নদীর প্রান্তে অবস্থিত হওয়ার জন্যই হয়ত শান্তিপুরের উপর দিয়ে বিভিন্ন জেলা, রাজ্যের যাওয়ার অসুবিধার কারণেই এতও পুরনো তাঁত শাড়ি এবং বহু তথ্যসমৃদ্ধ বহু প্রাচীন শহর আজও হয়ে উঠতে পারিনি ঝকঝকে তকতকে। তবে সরকারিভাবে কালনা নৃসিংহপুর ব্রীজ ঘোষিত হওয়ার পরই কি নড়েচড়ে বসেছে ব্যবসায়ী মহল? করোনা পরিস্থিতি অনেক কিছু কেড়ে নিলেও এবার পুজোয় বিষন্ন মনের অবসাদ কাটাতে কিছুটা হলেও স্বস্তির অক্সিজেন যোগাবে বলেই মনে করেন অনেকে।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *