মঙ্গলের পর এবার শুক্রগ্রহ অভিযানে নাসা

Mysepik Webdesk: আগেই মঙ্গলপৃষ্ঠে মঙ্গলযান পাঠিয়েছে নাসা। এবার নাসার গবেষণার লক্ষ শুক্রগ্রহ। গ্রহটির পরিবেশ ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে ২০২৮ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দু’টি অভিযান পরিচালনা করা হবে। এমনটাই জানানো হয়েছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার পক্ষ থেকে। এই প্রসঙ্গে নাসার প্রশাসক বিল নেলসন বলেন, “৩০ বছরেরও বেশি সময়ে অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে, শুক্রে কোনও অভিযান চালানো হয়নি। এবার নাসার শুক্র অভিযানের মাধ্যমে আমরা গ্রহটিকে আরও ভাল করে খতিয়ে দেখার সুযোগ পাব।”

আরও পড়ুন: মঙ্গলের মাটিতে ঘোরাঘুরি করছে চিনা রোভার

শুক্রগ্রহ নিয়ে এখনও পর্যন্ত দু’টি অভিযানের কথা জনিয়েছে নাসা। নাসা জানিয়েছে, তাদের মধ্যে প্রথম অভিযানটি হবে শুক্র গ্রহের পরিবেশ সম্পর্কে জানার জন্য এবং অপরটি হবে গ্রহটির ভূপৃষ্ঠের মানচিত্র তৈরি করার জন্য। নাসার দাবি, শুক্র পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী গ্রহ হওয়ার কারণে ওই গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর অনেক মিল রয়েছে। সেখানকার তাপমাত্রা পৃথিবীর চেয়ে বেশি হলেও তা স্থিতিশীল। তাপমাত্রা প্রায় ৪৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৮৬৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) কাছাকাছি। এমনকি কয়েকশো বছর আগে সেখানে জল থাকলেও থাকতে পারে। তবে বর্তমানে ওই গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিষাক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে সেটি একটি মৃতপ্রায় গ্রহে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর চেয়ে অন্তত ৯০ গুণ বেশি দূষিত হয়ে উঠেছে শুক্রের পরিবেশ।

আরও পড়ুন: মঙ্গলগ্রহের প্রথম ছবি তুলে পাঠাল চিনা রোভার তিয়ানওয়েন-১

প্রসঙ্গত, শুক্রগ্রহে ১৯৯০ সালে নাসার সর্বশেষ অভিযান সংগঠিত হয়েছিল। ওই অভিযানে পাঠানো নভোযানের নাম ছিল ম্যাগেলান। এরপর ইউরোপ এবং জাপানের বেশ কয়েকটি মহাকাশযান ওই গ্রহটির কক্ষপথ পরিভ্রমণ করেছে। এবার শুক্রে নাসা যে দুটি অভিযান পরিচালনা করবে তার প্রথম ধাপের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডাভিঞ্চিপ্লাস’। নাসার এই অভিযানে গ্রহটির বায়ুমন্ডল সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার পাশাপাশি এর গঠন ও বিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। এই মিশনে গ্রহটির ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যর প্রথম ছবিও পাঠানো হবে, যা বিশ্লেষণ করে গ্রহটিতে প্লেট টেকটনিক আছে কিনা তা জানা সম্ভব হবে। অন্যদিকে নাসার দ্বিতীয় অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভেরিটাস’ মিশন। এই মিশনে শুক্রের ভূমির গঠন বা ভূতাত্ত্বিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং বর্তমানে সেখানে জলের উৎস রয়েছে কিনা বা অতীতে তরল জলের কোনও অস্তিত্ব ছিল কিনা তা জানান চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি পৃথিবীর মতো গ্রহটিতে কোনও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা ভূমিকম্পের মতো ঘটে চলেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *