রোনাল্ডো যেন ‘ফ্যান্টাসি হিরো’, ম্যাচ জিতিয়ে বললেন ‘চাপে ছিলাম’

Mysepik Webdesk: ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হোম গ্রাউন্ড ওল্ড ট্রাফোর্ডের চারদিকে তখন গগনভেদি ‘রোনাল্ডো… রোনাল্ডো’ চিৎকার। দর্শকদের এই কান ফাটানো চিৎকারের মধ্যেই ১২ বছর পর তাঁর পুরনো ক্লাব ম্যান ইউ’র হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে নামলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। একযুগ পর মাঠে নেমেই দর্শকদের দিলখুস করে দিলেন তিনি। করলেন দু-দু’টি গোল। ‘রেড ডেভিল’রা ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল নিউক্যাসল ইউনাইটেড এফসি-কে। এভাবেই রোনাল্ডোর আগমনে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এখনও পর্যন্ত চারটি ম্যাচে তৃতীয় জয় নিয়ে ৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে এলো।

আরও পড়ুন: বহু রেকর্ড গড়ে ইউএস ওপেন খেতাব ১৮ বছরের এমা রাডুকানুর

নিজের পছন্দের ৭ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন রোনাল্ডো। শুরু থেকেই সিআর সেভেনকে বেশ তরতাজা লাগছিল। প্রথম মিনিট থেকেই নিউক্যাসল ইউনাইটেডের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে ‘রেড ডেভিল’রা। প্রথমার্ধের শেষে (৪৫+২) নিউক্যাসেল গোলপোস্টের দিকে লক্ষ্য করে দুর্দান্ত শট নেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মেসন গ্রিনউড। নিউক্যাসল গোলরক্ষক ফ্রেডি উডম্যান বলটি তালুবন্দি করতে পারেননি, ফসকে যায়। ফিরতি বল চলে আসে সুযোগসন্ধানী রোনাল্ডোর কাছে। লুজ বল পেয়ে গোল করতে কোনও ভুল করেননি ক্রিশ্চিয়ানো। এইভাবে দীর্ঘ ১২ পর ম্যান ইউ’র হয়ে মাঠে নেমেই গোল পেয়ে যান এই পর্তুগিজ স্টার। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ম্যান ইউ’র পক্ষে ১-০ অবস্থায়।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডারকে নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা নামিবিয়ার

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরে নিউক্যাসেল। ৫৬ মিনিটে জ্যাভিয়ার ম্যানকুইলো স্কোর লাইন ১-১ করেন। যদিও তাঁদের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬২ মিনিটে রোনাল্ডো আরও একটি গোল করে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন ম্যান ইউ’কে। রোনাল্ডোর এই গোলের পর রেড ডেভিলরা আরও চাঙ্গা হয়ে ওঠেন। ৮০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজ দূরপাল্লার শটে অসামান্য একটি গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান। পল পগবার পাসে গোলপোস্ট থেকে ২৫ মিটার দূরের এই গোলার মতো শটটির কোনও ঠিকানা পাননি বিপক্ষ গোলরক্ষক। ডানদিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি তিনি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে (৯০+২) জেসি লিঙ্গার্ড-এর গোলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ম্যান ইউ। খেলার চূড়ান্ত ফলাফলও তাই থাকে।

আরও পড়ুন: টি-২০ বিশ্বকাপ, ক্যারিবিয়ান দল ঘোষণায় চমক

প্রত্যাবর্তনের এই ম্যাচে জয়ের পর রোনাল্ডো বলেন, “সত্যি কথা বলতে কী ম্যাচের আগে খুবই চাপে ছিলাম আমি। শুক্রবার রাত থেকেই মনে হচ্ছিল ফের একবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে আমি এই দলের যোগ্য কিনা। সমর্থকদের চিৎকার মাঠে নামার পর থেকে আরও চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। তবে ভাবিনি যে, দু’টো গোল করে ফেলব। ভালো খেলতে চেয়েছিলাম। নিজের মধ্যে চাপ থাকলেও কাউকে বুঝতে দিইনি। সমর্থকদের খুশি করতে পেরে গর্বিত।” গর্বিত হবেনই বা কেন, তিনিই তো ম্যান ইউ’র ‘ফ্যান্টাসি হিরো’।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *