Latest News

Popular Posts

ট্রেন দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বেড়েছে বিকানেরের গঙ্গাশহরে, কী বলছেন যাত্রীরা?

ট্রেন দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বেড়েছে বিকানেরের গঙ্গাশহরে, কী বলছেন যাত্রীরা?

Mysepik Webdesk:  জলপাইগুড়ি এবং ময়নাগুড়ির মাঝের এক জায়গায় লাইনচ্যুত হয়েছে বিকানের এক্সপ্রেস। গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল ট্রেনটি। দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪৫ আহত হয়েছেন। ট্রেনে রাজস্থানের ৮৭২ জন ছিলেন। NWR PRO শশীকিরণের মতে, ৩০৮ জন যাত্রী বিকানের থেকে এবং ৫৬৪ জন যাত্রী জয়পুর থেকে উঠেছিলেন। ট্রেনের যাত্রী গঙ্গাশহরের বাসিন্দা এম. কে. জৈনের সঙ্গে কথা বলেছিল এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তিনি জানান, ট্রেন চলছিল। এমন সময় আচমকা ঝাঁকুনি হয়। লোকজন সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল। পেছনের বগিতে ছিলেন বলে প্রাণে বেঁচে যান জৈন।

বিকানের থেকে গুয়াহাটির যাচ্ছিলেন তিনি। জৈন বলেন, ‘নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ট্রেন তখন ছেড়ে দিয়েছে। বিকেল প্রায় ৫টা। এমন সময় হঠাৎ ট্রেনটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দেয়। শুরু হল চিৎকার। আমাদের বগি অনেক পিছনে ছিল। তাই উল্টে যায়নি। বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখি, ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। বগিগুলি একটির উপরে আরেকটি উঠে গিয়েছিল। আমরা একই বগিতে ৪০ থেকে ৫০ জন ছিলাম। সবাই নিরাপদভাবে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। বাইরে থেকে চিৎকারের শব্দ আসছিল। কত মানুষ যে মারা গেছে আর আহত হয়েছেন!’

আরও পড়ুন: রাজ্যে সামান্য বাড়লো কোভিড গ্রাফ, বাড়লো মৃত্যুও

রূপচাঁদ শেঠিয়া এবং তাঁর স্ত্রী সুশীলা শেঠিয়াও বিকানের থেকে গুয়াহাটি যাচ্ছিলেন। তাঁদের কথায়, ‘আমরা সন্ধ্যায় বিশ্রাম করছিলাম। হঠাৎ একের পর এক চার-পাঁচটি ধাক্কা লাগে। আমরা সামলে ওঠার আগেই সবকিছু শান্ত হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর বাইরে গিয়ে দেখি, হইচই হচ্ছে। আমরা এখনও আমাদের বগিতে রয়েছি। আছেন একজন সিনিয়র সিটিজেন। বেশি হাঁটাচলা করতে পারেন না। অন্য লোকও আছে। সামান্য আঘাত আছে। তবে গুরুতর কিছু নয়। কেউ বলছেন ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়েছে, আবার কেউ বলছেন মাঝপথ থেকে কোচগুলো খুলে গেছে। আমরা ভাগ্যবান যে আমরা বেঁচে গেছি।’

মের্তা রোড থেকে ট্রেনযাত্রী বসন্ত দাস বলেন, ‘আমি S4-এ চড়েছিলাম। এতে সামনের অধিকাংশ কোচ উল্টে যায়। আমার বন্ধু S13-এ ছিল। সেই বগি উল্টে গিয়েছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমার বন্ধু আহত হয়নি।’ বসন্ত দাস জানালেন, অসমে যেতে হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে কোনও যাত্রীকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কোচ কেটে আহতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপুর ঘোষণা রেলের

বিকানের থেকে ৩০৮ জন যাত্রী উঠেছিলেন, যার মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী দুর্ঘটনার আগে স্টেশনে নেমেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বিকানের থেকে ট্রেনে ১৯১ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় কতজন নিহত হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনায় ট্রেনের ১২টি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকানেরের বিপুল সংখ্যক মানুষ গুয়াহাটিতে বাস করেন। এমন পরিস্থিতিতে বিকানের এক্সপ্রেসের প্রতিটি কোচে যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি। বিকানের থেকে পটনা ও গুয়াহাটিগামী মানুষও এই ট্রেনে যাতায়াত করেন।

দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বেড়েছে বিকানেরের গঙ্গাশহরে। এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষই থাকেন গুয়াহাটিতে। ব্যবসায়ী পোখরাজ চোপড়া বলেন, ‘এই গাড়িতে বিকানেরের অনেক মানুষ রয়েছেন। আমরা তাদের খোঁজ করার চেষ্টা করছি। বিকানের ছাড়াও নোখা থেকেও কিছু লোক এই গাড়িতে উঠেছেন।’ জানা গিয়েছে, এই ট্রেনের প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী বিকানের, নোখা এবং নাগৌরের। অধিকাংশ মানুষ বাস করে বাঙ্গাই গ্রামে। এছাড়াও বিকানের এবং নোখার বাসিন্দারা ধুমগুড়ি, ময়নাগুড়ি এবং দামোলিতে বাস করেন।

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *