আহমদাবাদ এখন নিজেকে একটি ক্রীড়া শহর হিসাবে স্বীকৃতি দেবে: অমিত শাহ

Mysepik Webdesk: বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম মোতেরা এখন নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম হিসাবে পরিচিত হবে। বুধবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ উদ্বোধন করলেন ১.৩২ লক্ষ দর্শকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট মাঠের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, অমিত শাহ গান্ধিনগর থেকে লোকসভার সদস্য। এই স্টেডিয়ামটি তাঁর নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেননি। মোতেরা স্টেডিয়ামের প্রথম অফিসিয়াল নাম ছিল সরদার প্যাটেল স্টেডিয়াম। এখন নতুন স্পোর্টস কমপ্লেক্সটির নামকরণ করা হবে সরদার প্যাটেলের নামে।

আরও পড়ুন: ১.৩২ লক্ষ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ

অমিত শাহ বলেন, “আহমদাবাদ এখন নিজেকে একটি ক্রীড়া শহর হিসাবে স্বীকৃতি দেবে। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদিজি এই স্বপ্ন দেখেছিলেন।” বিশ্বের বৃহত্তম স্পোর্টস কমপ্লেক্সটিও মোতেরা স্টেডিয়ামের কাছে ২৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে। এর নামকরণ করা হবে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল স্পোর্টস কমপ্লেক্স।

এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, “সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের নামে স্পোর্টস সেন্টার তৈরি করা হবে। খেলোয়াড় এবং তাঁদের কোচের জন্য থাকার ব্যবস্থা থাকবে। ৩ হাজার খেলোয়াড় একসঙ্গে ট্রেনিং নিতে সক্ষম হবে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত সূচিত হচ্ছে এই স্টেডিয়ামটির। এটি আমার সংসদীয় এলাকা এবং আমি এখানে এই বড় কাজটি করতে পেরে আনন্দিত। সরদার প্যাটেল স্পোর্টস কমপ্লেক্সটি ২৩০ একর জমিতে নির্মিত হবে। এ ছাড়াও আলাদা একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সও নির্মিত হবে ১৮ একর জায়গায়। স্পোর্টস কমপ্লেক্স , স্টেডিয়াম, নারায়ণপুরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সটি ২৩৩ একর জায়গার মধ্যে নির্মিত হচ্ছে। আহমদাবাদ ৬ মাসের মধ্যে কোনও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত থাকবে, সে এশিয়াড, কমনওয়েলথ বা অলিম্পিক হোক। আহমদাবাদ স্পোর্টস সিটি হিসাবে পরিচিত হবে।”

আরও পড়ুন: বার্সেলোনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড মেসির, রয়েছেন রোনাল্ডোর থেকে একধাপ দূরে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “মোদিজি যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যে আমাদের দু’টি বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত। খেলাধুলা এবং সামরিক ক্ষেত্রে নিয়োগ। মোদিজি এটি শুরু করেছিলেন এবং আজ সেনা নিয়োগের কোটা খালি নেই। স্টেডিয়ামে আসার সময় তিনি বলেছিলেন যে, গুজরাতে যা কিছু নির্মিত হবে তা বিশ্বের বৃহত্তম হবে। ১ লাখ ৩২ হাজার ক্রিকেটপ্রেমী একসঙ্গে এই স্টেডিয়ামে বসে ক্রিকেট উপভোগ করতে পারবেন এমন স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া স্টেডিয়ামটির নাম নরেন্দ্র মোদি ক্রিকেট স্টেডিয়াম।”

তিনি বলেন, “এমনকী যদি মোতেরায় দিনে দু’টি ম্যাচ খেলতে হয়, তাও সম্ভব। বৃষ্টি হলেও ম্যাচটি আধঘণ্টার মধ্যে শুরু হতে পারবে। এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে। প্লেয়ারের ছায়া মাটিতে পড়বে না। ৪০% থেকে ৫০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এখানে বিশ্বের বৃহত্তম এবং উচ্চ প্রযুক্তির মিডিয়া রুম রয়েছে। বিআরটিএস, মেট্রোও পৌঁছতে চলেছে, মা নর্মদাও রিভার ফ্রন্টের সম্প্রসারণ শেষ হওয়ার পরে এখানে শান্তি সরবরাহ করবে।”

“নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ভিতরে আলাদা গেমের ব্যবস্থা রয়েছে। খেলোয়াড় এবং কোচরা থাকতে পারবেন। খেলার মাঠ নেই এমন ৬৫০টি স্কুল এর সঙ্গে যুক্ত হবে। না খেললে কীভাবে জিততে শিখবে বাচ্চারা? না খেললে কীভাবে বিজয়ের চেতনা জন্মাবে? এই শিশুরা সপ্তাহে একবার বাসে আসবে, সারাদিন খেলবে এবং খাবে। এর পরে তাদের বাসে করে নিরাপদে ফেরত পাঠানো হবে”, বলেন অমিত শাহ।

তাছাড়াও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের জন্য ৫০ হাজার দর্শকের ক্ষমতা সম্পন্ন একটি স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে এবং ফুটবল। ১৫০০০ মানুষের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামটিও নির্মিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি উদ্বোধন করবেন। যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন তাঁদের নামে হবে স্টাডিয়ামগুলির নাম। এতে শিশুরাও অনুপ্রাণিত হবে। ৩ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হবে, ১২ হাজার ৫০০ শিশু সহ কোচিং করতে সক্ষম হবেন। ১২ হাজার গাড়ি এবং ৩৫ হাজার দু’চাকার গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *