নেপালের সবচেয়ে বিপজ্জনক শৃঙ্গ লবুচে জয় করলেন অনিতা কুণ্ডু

Anita Kundu

Mysepik Webdesk: ১২ বছর ধরে পর্বত আরোহণের মতো অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় পর্বতারোহী অনিতা কুণ্ডু আরও একটি সাফল্য অর্জন করেছেন। অনিতা কুণ্ডু নেপালের সবচেয়ে বিপজ্জনক শিখর লবুচে জয় করে নিয়েছেন। এই পর্বতের উচ্চতা ৬ হাজার ১১৯ মিটার। অনিতা অবিচ্ছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টা আরোহণ করার পর এই শিখরে তিরঙ্গা উত্তোলন করেছেন। আরোহণের সময় তুষারপাত অব্যাহত থাকলেও অনিতা এই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে সফল হন।

অনিতা এখন মাউন্ট লোৎসের উদ্দেশে অভিযান শুরু করবে, যার উচ্চতা ৮৫১৬ মিটার। এই উচ্চতা প্রায় মাউন্ট এভারেস্টের সমান। অনিতার সহকর্মী রমেশ জানিয়েছিলেন যে, বিশ্বে ৮০০০-এরও বেশি উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ রয়েছে। সাতটি সামিট অভিযানের পরে অনিতা ১৪টি শৃঙ্গেও অভিযান করবেন। অনিতা ১৪টি উঁচু চূড়ার মধ্যে দু’টিতে ইতিমধ্যেই আরোহণ করেছেন। তিনি এরপর তৃতীয় শিখর আরোহণ করবেন।

অনিতা ১২ বছর ধরে মাউন্টেইনরিং করেছেন, ৩ বার মাউন্ট এভারেস্ট, অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শিখর ভিনসন ম্যাসিফ, আফ্রিকার সর্বোচ্চ শিখর কিলিমঞ্জারো, দক্ষিণ আমেরিকার অ্যাকনকাগুয়া, অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ কার্সটেনস পিরামিড, উত্তরাখণ্ডের মাউন্ট রুদুগাইরায় আরোহণ করেছিলেন। উত্তর আমেরিকার দেনালিতেও তিনি আরোহণ করেছিলেন। মাউন্ট এভারেস্টের মতো নেপালের মানসলু (৮১৬৫ মিটার)-ও জয়লাভ করেছে অনিতা। এই কৃতিত্বের জন্য অনিতা তেনজিং নর্গে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

অনিতা কুণ্ডু হরিয়ানার হিসার জেলার ফরিদপুর নামক এক গ্রামের বাসিন্দা। অনিতা কাবাডি পছন্দ করতেন। সেই কারণে তিনি ৫ম শ্রেণি থেকেই কাবাডি খেলতে শুরু করেছিলেন। তবে এই শখ দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারেনি তিনি। ২০০১ সালে বাবার মৃত্যুর পরে অনিতা কাবাডি খেলা ছেড়ে দেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য অনিতা চাকরিও অনুসন্ধান করেছিলেন।

তিনি তাঁর চার বোন-ভাইয়ের মধ্যে বড়। অনিতার ছোট দুই বোন বিবাহিত। অনিতার পড়াশোনা হিসার থেকে। তিনি জাট কলেজ থেকে বিএ করেন। এরপরে তিনি বেসরকারি ইনস্টিটিউট থেকে এমএ করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর ২০০৮ সালে তিনি হরিয়ানা পুলিশে কনস্টেবল হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *