অনুশোচনা

তাজিন আহম্মেদ

—শোনো তুমি তোমার ওই যকের ধন পেপার গুলো বিদায় করবে না কি আমিই কিছু একটা ব্যবস্থা করব?

—তোমার ওই এক ঝামেলা, রবিবার এলেই তোমার মাথার পোকাটা নড়ে ওঠে। বেটা রহমতটাও যে কোথায় মরল!

—শোনো ওই রহমতের মালা জপা বন্ধ করে যাকে পাবে, তাকেই এই পেপারগুলো দিয়ে দয়া করে ঘরটাকে একটু আবর্জনা মুক্ত করো।

‘রহমত’ হল সেই পেপারওয়ালা, যে গত দুই তিন বছর ধরে প্রতি দুই তিন মাস অন্তর হৃদয়বাবুর বাড়ি থেকে পুরনো পেপার কিনে নিয়ে যায়। আসলে হৃদয়বাবুর এক অভ্যাস আছে, তিনি যাঁকে পছন্দ করেন বা যে তাঁর কথামতো চলে, শুধু তাঁর কাছে থেকেই জিনিস নেওয়া-দেওয়া করতে ভালোবাসেন। যেমন তাঁর সবজি বাজারে নির্দিষ্ট সবজিওয়ালা, ফলের বাজারে নির্দিষ্ট ফলওয়ালা, নির্দিষ্ট জায়গায় মাছ-মাংস, এমনকী নির্দিষ্ট দোকানের রেশনও অর্থাৎ আমরা যাকে বলি মুদিখানা। এ-অভ্যাস তাঁর বহুদিনের। সেই বিয়ের আগে থেকেই। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন— “আরে জানো না এরা সকলেই খুবই বিশ্বস্ত, আমাকে দেখা মাত্রই বলে দেয় বাবু এই জিনিসগুলো নিয়ে যান, খুব ভালো হবে আর ওগুলো নেবেন না ওগুলো আপনার মনের মতো হবে না।”

এ শুনে তার বাবা বলতেন— “হ্যাঁ বাবা তুমি এই বাবুতেই কাবু হয়ে যাও। এতে যে দামগুলো বেশি নিচ্ছে সে তো বোঝো না।”

যাইহোক এই রহমত গত তিন মাস হল, তার কোনও দেখা নেই। এমনকী ফোন করলেও সুইচ অফ দেখায়। এখন তো আবার মানে আধুনিক এই জনজীবনে প্রতি জনে জনে ফোন। এই পরিষেবা থেকে কেউ দূরে নেই। তবে এই পরিষেবা সকলে যেমন সহজেই নিয়ে নেয়, তেমনি একটা পরিষেবা থেকে অন্য পরিষেবায় যেতেও বেশি সময় নেয় না। তাই আগের পরিষেবাটা বন্ধ দেখানো এমন কিছু নতুন খবর নয়। যে অভ্যাস তাঁর অতিপ্রিয় রহমতেরও আছে।

সে যাই হোক, রহমতের এই বহুদিন ধরে না আসাটা হৃদয়বাবুর স্ত্রীকে বড্ড বেশি বিরক্ত করে তুলেছে। কারণ তাঁর বাড়িতে এখন পুরনো পেপারের পাহাড় জমেছে। আসলে তিনি তাঁর বাড়ির যে-স্থানে এই পুরোনো পেপারগুলো রাখেন, সে প্রায় পূর্ণ। এ-দিকে তাঁর কর্তাও অন্য কাউকে ডাকবেন না। তিনি তাঁর ওই অতিপ্রিয় রহমতের জন্যই অপেক্ষা করবেন। আসলে আর কিছু না, বাজারে অন্যান্যরা যা দাম দেয়, এই রহমত তার থেকে এক দুই টাকা বেশি দাম দেয়। ওই যে, ওই নিয়ম অনুযায়ী, যে হৃদয়বাবুর কথামতো চলবে সেই তাঁর প্রিয় হয়ে উঠবে। তাঁর স্ত্রী কতবার বলেছেন— “আরে ছাড়ো তো ওই এক দুই টাকাতে কতই বা আর বেশি হয়?”

উনি উত্তরে বলেন— “তুমি চুপ করো আমি মাসে মাসে কত টাকা দিয়ে এই পেপার কিনি তার কিছুটা তো এখান থেকে তুলব। আর তা-ছাড়া ও বড় ভালো লোক।”

এমনই দেখতে দেখতে আরও একটা মাস কেটে গেল কিন্তু রহমতের আর দেখা মেলে না। রহমতকে হৃদয়বাবু বলেই রেখেছেন— “তুমি আসলে রবিবার সকাল আটটা থেকে দশটার মধ্যে চলে আসবে। কারণ তার পরে হয়তো আমরা না-ও থাকতে পারি। আর অন্য দিন আসলে আমাদের ভীষণ তাড়া থাকে। ছেলের স্কুল আমার অফিস।”

হৃদয়বাবুর স্ত্রী এই সমস্ত কাজগুলো করতে একদম পছন্দ করেন না, তাই এই সমস্ত কাজ হৃদয়বাবুকেই করতে হয়। 

এখন রহমতের না আসাটা মোটামুটি মাস চারেকের কাছাকাছি। এ-দিকে হৃদয়বাবুর স্ত্রীও আর ধৈর্য ধরতে পারছেন না। তিনি কর্তাকে বলেই দিলেন— “তুমি এই সমস্ত আবর্জনা বিদায় না দিলে আমি সমস্ত পেপার মাসিকে দিয়ে নীচে ফেলে দেব।” 

এখন তিনি কথাগুলো শুধু মুখেই বললেন না সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত পেপার বের করে নিয়ে এসে সদর দরজার সামনে এমন একটা জায়গায় রাখলেন যাতে আসতে যেতে সবার নজরে আসে। আর গিন্নির এই সমস্ত কার্যকলাপ দেখে কর্তা বেশ ভালোভাবেই বুঝে গেলেন লক্ষণ খারাপ। তিনিও বেশ বিরক্ত হলেন তবে গিন্নির উপর সরাসরি রাগ না দেখিয়ে ওই পেপারওয়ালা রহমতকেই দোষারোপ করতে লাগলেন— “হতভাগা হতছাড়া কি মরে গেল নাকি? বেটার বড্ড মোটামি হয়েছে। বেটা জানে এই জায়গাটা তো তার বাঁধাই আছে, সে যখনই আসবে পেয়েই যাবে। এ-দোষটা অবশ্য আমারই। আমি ওকে ছাড়া আর কাউকে দিই-না বলেই এই মোটামি। দাঁড়া বেটা তোর এই মোটামি আমি বন্ধ করছি। তুই বেটা মর। আমি আজকেই কাউকে ডেকে আনছি।”

তিনি বাজারের থলিটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। সাধারণত কোথাও বেরোনোর সময় হাতে ঘড়ি এবং ফোনটা নিয়েই বেরোন। কিন্তু আজ ও দু’টো ছাড়াই বেরিয়ে পড়লেন। তা দেখে তাঁর স্ত্রী বুঝলেন, আজ উনি খুব ক্ষেপে গেছেন এখন আর পিছন থেকে ডেকে অশান্তি না বাড়ানোই ভালো। তাই তিনি চুপ করে রইলেন। মোটামুটি ঘণ্টাখানেক পর হৃদয়বাবু বাজার করে বাড়ি ফিরলেন। এসেই নিয়মমাফিক রান্নাঘরে বাজারের থলিটা রেখে বসবার ঘরে সোফার উপর বসে মেয়েকে এক গ্লাস জল দিতে বললেন। পেপারগুলো তখনও আগের অবস্থাতেই রাখা ছিল। তিনি একবার সেদিকে তাকিয়ে স্ত্রীর মুখের দিকে লক্ষ করতে লাগলেন। স্ত্রী কিছু বলছেন না দেখে নিজে থেকেই বলতে লাগলেন— “হতভাগা পেপারওয়ালাগুলো নিজেদের কী ভাবছে বলো তো? একটা বেটা যদি ঠিকঠাক দাম বলে! তুমি এ-সপ্তাহটা এগুলো ঢুকিয়ে রাখো আমি পরের সপ্তাহে একটা ব্যবস্থা করে দেবই। আর তার মধ্যে ও হতভাগা যদি এসে যায় তো ভালো কথা, না হলে মরবে।”

হৃদয়বাবুর এও এক বদ অভ্যাস আছে। কারও উপর রাগ হলে তাকে বারবার হতভাগা, মর এই সব নানান কুশব্দ ব্যবহার করতে থাকেন। তবে এই সব শুধুমাত্র বদভ্যাসের কারণেই বলতে থাকেন। ওই যাকে বলে মুদ্রাদোষ। তাঁর স্ত্রী এ-কথা খুব ভালো করেই বুঝতেন। আর সেই জন্য স্বামীকে বহুবার টুকেওছেন এবং সাবধানও করেছেন। বহুভাবে বোঝানোরও চেষ্টা করেছেন, এটা ঠিক নয়। হৃদয়বাবুও ঠান্ডা মাথায় থাকলে বোঝেন এবং ‘আর বলব না’ বলতে থাকেন। কিন্তু রেগে গেলেই সব ভুলে আবার আগের মতোই একই কথার পুনরাবৃত্তি চলতে থাকে। তাই তাঁর স্ত্রী এবারও আবার বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। কারণ তিনি ভাবলেন, এখন যদি বলতে যায় তবে হিতে বিপরীতই হবে। কারণ উনি এমনিতেই রেগে আছেন। আর এই রাগের মাথায় যে কথাটা দুই-তিনবার বলেছেন সেটা কমপক্ষে বারদশেকে পৌঁছে যাবে। তার থেকে এই মুহূর্তে কিছু না বলাটাই ভালো।

তবে এ-সপ্তাহেও পেপারগুলোর কোনও গতি হল না। এমনি করে অপেক্ষা করতে করতে আরও গোটা দু’য়েক সপ্তাহ কেটে গেল। কিন্তু রহমতের কোনও দেখা মিলল না। এখন হৃদয়বাবুর স্ত্রীও ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেলেন। তিনি কর্তাকে সরাসরি বললেন— “শোনো আজ দশটার মধ্যে যদি এই পেপারের ব্যবস্থা না করো, তবে কাজের মাসি আসলেই তাকে সঙ্গে করে গলির মধ্যে যে পেপারের দোকানটা আছে সেখানে আমি নিজে গিয়ে এই পেপারগুলো দিয়ে আসব। গিন্নির এই ভাবমূর্তি দেখে কর্তা বুঝলেন তিনি আজ যেভাবে রেগে আছেন, তাতে এখন তাঁকে আর আটকানো যাবে না। তাই আর কথা না বাড়িয়ে ফোনটা হাতে করে বাইরে বেরিয়ে গেলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর একজন পেপারওয়ালাকে সঙ্গে করে বাড়ি ফিরলেন। বাড়িতে ঢুকেই যেখানে পেপারগুলো থাকে, সেখান থেকে পেপারগুলো বের করে সদর দরজার সামনে রাখলেন এবং একটা চেয়ার টেনে তার সামনে বসলেন যেমনটা সবসময় করেন। পেপারওয়ালাও তার দাড়িপাল্লা বের করে পেপারগুলো ওজন করতে শুরু করল।”

হৃদয়বাবু মাঝেমধ্যে বলতে থাকলেন— “ঠিক করে ওজন করো পাল্লাটা এ-দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে, আরে ও-দিকে দু-চারটে পেপার কম করো, তুমি তো উপরটা এমন করে ধরে আছ এতে তো ওজনই ঠিকমতো হচ্ছে না।”

এই সব কথা তিনি অবশ্য রহমতকেও বলতেন। এই নতুন পেপারওয়ালাকে আবার মাঝেমধ্যে এও বলতে থাকলেন— “আমার মনের মতো করে কাজটা করলে এবার থেকে পেপারগুলো তোমাকেই দেব। আমার আগের পেপারওয়ালাটা কেন আসছে না জানি না, এতদিন ধরে ওকেই তো দিতাম আর এতদিন ধরে ওর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম, এত পেপার দেখে বুঝতেই পারছ। বেটা মনে হচ্ছে উধাও হয়ে গেল। ফোন করলে সুইচ অফ দেখায়। আরে হতভাগা ফোন যদি বন্ধ রাখবি তাহলে নম্বর দেওয়া কেন? এখন মর যেমন মোটামি করা, কেন তুই ছাড়া কি বাজারে আর কোনও লোক পাওয়া যাবে না? এবার থেকে এগুলো তোমাকেই দেব বুঝেছ। তুমি দু’মাস পরে পরে চলে আসবে, আর রবিবার দেখে আসবে। কারণ ওই দিন আমি বাড়িতে থাকি, অন্য দিন এসে বউদিকে বিরক্ত করবে না। আগে পেপার যে নিত, তাকেও বলা ছিল। সে ঠিক মনে রাখত।”

এতক্ষণ ধরে আগের পেপারওয়ালার কথা এই নতুন পেপারওয়ালা চুপচাপ শুনছিল এখন সে প্রশ্ন করল— “আচ্ছা বাবু আগে কে পেপার নিত?”

—কেন?

—না আসলে সে যখন আপনার এত পরিচিত, তখন আপনি তার নামটাও নিশ্চয় জানেন। 

—তুমি কি তাকে চিনবে? আবার চিনতেও পারো। তোমরা যখন একই এলাকায় একই রকমের কাজ করছ, তখন চেনাটাই স্বাভাবিক। ওর নাম রহমত।

নামটা শোনা মাত্রই লোকটা অবাক হয়ে হৃদয়বাবুর মুখের দিকে চেয়ে রইল। হৃদয়বাবু বললেন— “কী হল তুমি ওকে চেনো?

—মনে হয় চিনি, ও কি ক্যানিং থেকে আসত?

—হ্যাঁ তাই তো বলেছিল। তুমি তাহলে চেনো দেখছি।

—খুব ভালো করে চিনি। সেই ছেলেবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া। আমাদের আর ওদের পাশাপাশি বাড়ি বাবু। একইসঙ্গে বড় হয়েছি, আর এই কাজ প্রায় একই সময়েই শুরু করেছি। আগে ও শুরু করল, তার পর আমাকে বলল বসে না থেকে কাজটা কর হাতে চারটা পয়সা আসবে সংসারটা ভালো ভাবে চলে যাবে। 

হৃদয়বাবু বললেন— “তাই নাকি সে তো খুব ভালো কথা। দেখলেই বোঝা যায় লোকটা বেশ ভালো মানুষ। তা সে আসছে না কেন? অন্য কোনও কাজ করছে নাকি?

নতুন পেপার ওয়ালার তখন দু’চোখে জলে পূর্ণ। “বাবু ও আর কখনও আসবে না, ও আর নেই।

হৃদয়বাবু বেশ জোরের সঙ্গে বললেন— “নেই মানে? কী হয়েছে? 

ও হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করল।

ওদের কথোপকথন শুনে হৃদয়বাবুর স্ত্রী ও ততক্ষণে তাদের কাছে এসে দাঁড়িয়েছেন।

তাকে এভাবে কাঁদতে দেখে তাঁরা দু’জনেই বুঝে গেলেন ও কেন ‘নেই’ বলল। হৃদয়বাবু তখন ওর পিঠে হাত থাপড়ে ওকে চুপ করানোর চেষ্টা করতে লাগলেন, তবে মুখে কিছু বললেন না কারণ ওনারও তখন কণ্ঠ ভারী হয়ে এসেছিল। ওনার স্ত্রী তাড়াতাড়ি এক গ্লাস জল নিয়ে এসে এগিয়ে দিয়ে বললেন, “নাও জলটা খেয়ে নাও কেঁদো না।” হৃদয়বাবু স্ত্রীর হাত থেকে জলটা নিয়ে তার দিকে এগিয়ে দিলেন মুখে কিছু বললেন না, তবে বোঝা যাচ্ছিল ওনার চোখেও জল এসে গিয়েছিল। এমনকী হৃদয়বাবুর স্ত্রীও নিজেকে সামলাতে পারলেন না। পেপারওয়ালা হৃদয়বাবুর হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে কিছুটা জল খেয়ে গ্লাসটা পাশে নামিয়ে রাখল। হৃদয়বাবুর স্ত্রী তখন জানতে চাইলেন— “ওর কি হয়েছিল কোনও অসুখ করেছিল?”

না বউদি মাস তিনেক আগে বাইপাসে একটা রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে। সকালবেলা বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হচ্ছিল। সেই সময় একটা লরি এসে ধাক্কা মেরে চলে যায়। আপনারা হয়তো টিভিতে দেখে থাকবেন। অনেকক্ষণ বডি রাস্তায় পড়েছিল। একটা মানুষও এগিয়ে আসেনি সাহায্য করতে। আমার সেদিন জ্বর হয়েছিল, তাই আমি আসিনি।” 

ওনাদের তখন মনে পড়ে গেল আরে হ্যাঁ তাই তো এই রকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। খুব সমালোচনা হয়েছিল মানুষের মনুষ্যত্ব, বিচার, বিবেক নিয়ে। ওই লোকটা তাহলে রহমত ছিল। এ-যেন এক অভাবনীয় ঘটনা। পেপারওয়ালা তখনও বলে চলেছে— “জানেন বাবু ওর বউয়ের এখন খুব কষ্ট। ছোট ছোট দু’টো বাচ্চা। রহমত বেঁচে থাকতে বউকে কোনও কাজ করতে দিত না। তবে এখন সে লোকের বাড়িতে কাজ নিয়েছে। কী করবে, বাঁচতে তো হবে। ওই ছোট্ট বাচ্চা দু’টোকে দাদির কাছে রেখে এই কলকাতাতেই কাজে আসে, না-হলে এতগুলো লোকের পেট চলবে কী করে? সরকার কিছু টাকা দেবে বলেছে, তবে কবে দেবে কে জানে? এ বলে সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হৃদয়বাবুর স্ত্রী মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ওর কথাগুলো শুনছিলেন, তিনি সেভাবেই দাঁড়িয়ে রইলেন। হৃদয়বাবুও নীরব নিথর হয়ে বসে রইলেন। তাদেরকে এইভাবে থাকতে দেখে পেপারওয়ালা তাদের মনের অবস্থাটা ভালোভাবে বুঝতে পারছিল, তবে তাঁদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো মনের অবস্থা তারও ছিল না ভাষাও ছিল না। তাই আর কোনও কথা না বাড়িয়ে হিসাব নিকাশ করে টাকাটা গুনে বাবুর হাতে গুছিয়ে দিয়ে পেপারের ঝুড়িটা নিয়ে চলে গেল। হৃদয়বাবু অন্য সময় টাকাটা গুনে নেন এবং প্রতিটা নোট ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে নেন কোথাও কোনও ছেঁড়া ফাটা আছে কিনা। তবে আজ তার কিছুই করলেন না। শুধু পাথরের মতো শক্ত হয়ে বসে রইলেন, ঠিক যেন একটা জড়ো বস্তু। শুধু একবার দু’চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন রাতদিন তো অনেককিছুই চেয়ে থাকি, সেটা তো শুনতে পাও না শুধু এটাই পেলে। হৃদয়বাবুর স্ত্রী ভালোভাবেই বুঝতে পারছিলেন তার স্বামী এই মুহূর্তে এক কঠিন অনুশোচনায় ভুগছেন। তাই তিনি তাঁকে আর কিচ্ছু বললেন না, কারণ তিনি জানতেন তাকে এই মুহূর্তে কিছু বলা মানেই তাকে আরও বেশি আঘাত করা।

ছবি ইন্টারনেট

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *