অন্যমনস্কতার রঙে ভোরের আলোড়ন

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঝড় উঠলে

আমি কবিতা লিখি আর ওরা ঘণ্টা বাজায়। আমি বলি ঘণ্টা তো বাজবেই কিন্তু তার আগে এসো না আমরাও নিজেরা কিছু কিছু বাজিয়ে নিই, ঠিক যেমন ঝড় উঠলে গাছেরা ডালে পাতায় ঘষাঘষি করে নেয়। কেউ কেউ দাঁত ঘষার আওয়াজও করে। সবটুকুই যে আমার কবিতা লেখার সময় বা আমার কবিতাকে কেন্দ্র করে, তা কিন্তু নয়। ওদের নিজস্ব থালাবাটির সংসার থেকেও বেশ কিছু আওয়াজ ওঠে। এত কিছুর পরেও ঝড় ওঠে। তিনি আসেন এবং পাতায় ডালে অনেকক্ষণ ঘষাঘষি চলে। ঝড় থামলে তাঁর আসার পথ ধরে আমি বেরিয়ে আসি।

ঝড়জলে পৃথিবী ভেসে গেলেও পাতায় পাতায় এই পথ সকলের জন্য সর্বক্ষণ খোলা থাকে।

জামার হাতা

জামার হাতা গুটিয়ে তুমি বলতেই পারো তোমার জানা অনেক অনেক বাড়ির সামনে এগিয়ে থাকা কোনও হাওয়া। কিন্তু হাতাটা যদি মাঝরাস্তায় কাত হয়ে পড়ে, তাহলে কিন্তু তোমার যাবতীয় জানা এত দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসবে যে তাদের তুমি সামলাতে সামলাতে তোমার সামনে আরও একজন। অথচ তখন তোমার ভাঁড়ে মা ভবানী। দেখাবার মতো ছেঁড়া হাতা ছাড়া আর কিছুই নেই। আর তোমার বাড়ি কোনও মন্ত্রবলে চলে গেছে অনেক পিছনে।

আরও পড়ুন: তিনটি কবিতা

তোমার সমীকরণ

না বলতে পারলেও তোমার বলা। যাকে সামনে রেখে তুমি সিঁড়ি দিয়ে নেমেছ, দরজা খুলেছ, আবার বেশ কিছুটা হেঁটে এসে রাস্তায়— এই সমস্ত সময়টা নিজেকে পাখি পড়া করিয়েছ। এখন যাকে সামনে রেখে তুমি শেষ মুহূর্তেও প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছ সে তোমার মুখেই পড়ে ফেলছে তোমার বক্তব্য। তাই তুমি ঠিক যতটা প্রচারিত, ততটা ঠিক আসল ছবি নয়। প্রত্যেকেই তার নিজস্ব জানলা থেকে তোমার সমীকরণ তৈরি করে নিচ্ছে।

অন্যমনস্কতার রং

কালেভদ্রে ভোরের সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেদিন ভোরকে আয়নার মতো মনে হয়। আমার শরীর জুড়ে এক অদ্ভুত ছায়া। নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আলো লাগাই। ভোরের সঙ্গে মাখামাখি শেষ হলে আমি কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে যাই। অন্যমনস্কতার রং মনে হয় ধূসর। আলোর দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে এইমাত্র যেন মাঠে সন্ধে নেমে এলো। তবুও আলোর কাছাকাছি এলে শরীর জুড়ে ছায়ারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঘুরে দেখার প্রয়োজন হয় না। শুধু ধূসরতার বৃত্তে ডুবে যেতে যেতে মনে হয় ভোরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

ছবি ইন্টারনেট

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *