কলম্বিয়ার শেষ মুহূর্তের গোলে নিশ্চিত তিন পয়েন্ট হাতছাড়া আর্জেন্টিনার

Mysepik Webdesk: করোনাকালে দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রত্যাবর্তনের পর চিলির বিপক্ষে জয় অধরা ছিল আর্জেন্টিনার। চিলির বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ম্যাচ অমীমাংসিত থাকার পর দলনায়ক লিওনেল মেসি দলকে আরও ঐক্যবদ্ধভাবে খেলা কথা বলেছিলেন। এরপর ভক্তদের আশা ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে তারা কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে জয় পাবে। সেইমতো শুরুও করেছিলেন মেসিরা। ঝড়ের গতিতে প্রথম ৮ মিনিটের মধ্যে বিপক্ষ কলম্বিয়ার জালে দু-দু’টি গোল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। অথচ তা সত্ত্বেও শেষ হাসি হাসা হল না লিওলেন স্কোলানির ছেলেদের।

আরও পড়ুন: ৪৭ বছর পরেও গাভাস্করের মনে অম্লান মাঠের মধ্যে চুল কাটার স্মৃতি

এদিন আর্জেন্টিনার কোচ স্কোলানি দল সাজিয়েছিলেন ৪-৩-৩ ফরমেশনে। শুরুতেই দাপট দেখায় তাঁর ছেলেরা। ৩ মিনিটের মধ্যেই ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোলে এগিয়ে যায় সাদা-আকাশি জার্সিধারীরা। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসে আরও এক সাফল্য। লিয়ান্দ্রো পারাদেসের গোলে স্কোরলাইন দ্বিগুণ করে দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটি। ২৭ মিনিটে মিলেছিল আরও একটি সুযোগ। নিকো গঞ্জালেস ফাঁকায় বল পেয়েও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। পোস্ট ঘেঁষে তাঁর শট গিয়ে লাগে পাশের জালে।

“দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের ৩ পয়েন্টের জায়গায় ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।”

তবে এরই মধ্যে অশনি সংকেতের মতো চোট পেয়ে যান আর্জেন্টিনা দলের প্রধান গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। কলম্বিয়ার ইয়েরি মিনার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে বেকায়দায় পড়ে গিয়ে কাঁধে এবং মাথায় চোট পান তিনি। চিকিৎসকরা ৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে মাঠেই তাঁর চিকিৎসা করেন। কিন্তু তা এই গোলকিপারকে মাঠে ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই মার্টিনেজকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে হয় দর্শকদের।

আরও পড়ুন: লাটভিয়াকে ৭-১ গোলে দুরমুশ করে দিল জার্মানরা

প্রথমার্ধ আর্জেন্টিনার পক্ষে ২-০ ব্যবধানে শেষ হলেও তাঁর দলের প্রধান গোলরক্ষকের চোট পাওয়ার কারণে হয়তো স্কোলানি পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হয়ে বিরতিতে যেতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কলম্বিয়া গোলে ফেরে। ৫১ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল পান লুইস মুরিয়েল। এরপর নিজেদের দখলে বল রাখার লড়াইয়ে টেক্কা দিয়ে ৫৮ মিনিটে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যান মেসি। ডিফেন্ডারের দৌলতে সেই যাত্রায় বেঁচে যায় কলম্বিয়া। নির্ধারিত সময় খেলা শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আবারও সুযোগ পেয়ে যান মেসি। কিন্তু এই মুভ থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হন এলএম-১০। খেলা শেষ হতে যখন মাত্র সময়ের অপেক্ষা, সেই সময় কলম্বিয়ার হয়ে পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন মিগুয়েল বোরহা। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ের সঙ্গে ৪ মিনিট যুক্ত করা সময়ে এই গোলটিই আর্জেন্টিনাকে রুখে দেয়। হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়েন মেসিরা। ম্যাচ ড্রয়ের পর স্কোলানি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের ৩ পয়েন্টের জায়গায় ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।” কোপা আমেরিকায় ১৪ তারিখ ভারতীয় সময় রাত আড়াইটার সময় চিলির বিপক্ষে নামতে চলেছে আর্জেন্টিনা। তার আগে বিশ্বকাপ যোগ্যতা পর্বের দু’টি ম্যাচই জিততে পারলেন না মেসিরা। যা অত্যন্ত চিন্তায় রাখছে দলের কোচকে। তার ওপর দলের প্রধান গোলকিপারের চোটের বিষয়টিও রাতের ঘুম কেড়ে নেবে তাঁর।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *