দারিদ্র্যের শিকল ভেঙে অর্জুন পুরস্কার সারিকার

Mysepik Webdesk: ভারতীয় মহিলা খো-খো দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মর্যাদাপূর্ণ অর্জুন পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত, সারিকা কালে বলেন যে, তাঁর জীবনে এমন একটি সময় ছিল যখন আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি দিনে মাত্র একবার খেতে পারতেন। তবে এই খেলাটিই তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। বর্তমানে মহারাষ্ট্র সরকারে ক্রীড়া অফিসার হিসাবে কর্মরত কালে তিনি ২৯ আগস্ট জাতীয় ক্রীড়া দিবসে অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হবেন।

আরও পড়ুন: পদত্যাগ হকি ইন্ডিয়ার হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর ডেভিড জনের

দক্ষিণ এশিয়ান গেমস ২০১৬-তে স্বর্ণপদক জেতা ভারতীয় মহিলা খো-খো দলের অধিনায়ক ছিলেন সারিকা। তিনি পিটিআইকে বলেন, ”যদিও এই বছর আমি অর্জুন পুরষ্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছি, এখনও সেই দিনগুলি আমার মনে আছে যখন আমি খো-খো খেলা শুরুর দিনগুলো। আমি প্রায় এক দশক ধরে দিনে একবার খেয়েছি। আমি আমার পরিবারের অবস্থার কারণে খেলায় এসেছি। এই গেমটি আমার জীবন বদলেছে এবং এখন আমি ওসমানাবাদ জেলার তুলজাপুরে স্পোর্টস অফিসার পদে কাজ করছি।”

আরও পড়ুন: সিকিমে এবার বাইচুংয়ের নামে স্টেডিয়াম

২৭ বছর বয়সি এই খেলোয়াড় স্মরণ করেছিলেন যে, তাঁর কাকা মহারাষ্ট্রের ওসমানবাদ জেলায় খেলতেন এবং ১৩ বছর বয়সে তাঁকে ফিল্ডে নিয়ে যান। এর পরে তিনি খেলতে থাকেন। তিনি আরও বলেন, ”আমার মা সেলাই এবং অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ করতেন। আমার বাবার শারীরিক কিছু জটিলতার কারণে বেশি আয় করতে পারেননি। আমাদের পুরো পরিবার আমার দাদু-দিদার উপার্জনের উপর নির্ভরশীল ছিল। সেই সময়গুলিতে আমি কেবল একবার খেতে খেতে পেতাম। আমি যখন ক্যাম্পে গিয়েছিলাম বা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়েছিলাম, তখনই আমি বিশেষ খাবার পেতাম।”

তাঁর কোচ চন্দ্রজিৎ যাদব বলেন, ”পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে ২০১৬ সালে সারিকা খো-খো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সারিকার সঙ্গে কথা বলার পরে সে ফিল্ডে ফিরল এবং এটিই টার্নিং পয়েন্ট। সে তার খেলা অব্যাহত রাখল এবং গতবছর একটি সরকারি চাকরি পেল, যা তাকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হতে সহায়তা করেছিল।”

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *