মহাকাশে গেলে বাড়বে না বয়স, চাঞ্চল্যকর দাবি মহাকাশবিদদের

Mysepik Webdesk: সম্প্রতি একটি গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিজ্ঞনীরা জানান, মহাকাশে গেলে নাকি বয়স থমকে যাবে। জানা যাচ্ছে, এক বছরেরও বেশি সময় মহাকাশে ছিলেন নভশ্চর স্কট কেলি। ৩৮২ দিন মহাকাশে কাটিয়ে পৃথিবীতে যখন তিনি ফেরেন তখন স্কটকে অভ্যর্থনা জানাতে বাকিদের মতো হাজির ছিলেন তাঁর ভাই মার্ক কেলি। দুই ভাইকে পাশাপাশি দেখেই চমকে ওঠেন নাসার বিজ্ঞানীরা। স্কট-মার্ক যমজ ভাই। কিন্তু মহাকাশে কাটিয়ে আসা স্কটকে মার্কের চেয়ে বয়সে বেশ খানিকটা কম লাগছিল। এক বছর আগেও দুই যমজের মধ্যে কোন ফারাক লক্ষ করা যেত না।

আরও পড়ুন: প্রাণ বাঁচাবে ‘পকেট ভেন্টিলেটর’, সদ্য করোনামুক্ত হয়ে আবিষ্কার করলেন বাঙালি চিকিৎসক

এই বিষয়টি নিয়ে খটকা লাগায় আর হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি বিজ্ঞানীরা। দু’জনের জিন নিয়ে চর্চা শুরু করে দেন তাঁরা। মানব শরীরে ক্রোমজোমের শেষ প্রান্তে একটি ছোট্ট প্যাকেটের মতো বস্তু রয়েছে৷যার মধ্যে কোষের ডিএনএ থাকে৷ ওই প্যাকেটের মতো বস্তুটির আয়তন দেখেই বয়সের ছাপ পড়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। যত সময় যায় ততই ওই প্যাকেট কুঁচকে ছোট হয়ে যায়। স্কটের ক্ষেত্রে দেখা যায় এর ঠিক উল্টো। অর্থাৎ, মহাকাশ থেকে ফেরার পর স্কটের শরীরে ওই ডিএনএ বহনকারী প্যাকেটগুলির আয়তনে ছোট তো হয়নি উল্টে বেড়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: কেউ আপনার ওয়াই-ফাই চুরি করে ব্যবহার করছে? কীভাবে আটকাবেন?

যদিও বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ওই অংশটির বাড়া-কমা অনেকটাই নির্ভর করে একজনের খাদ্যাভাস ও জীবনযাত্রার ওপর। যে যত পরিমিত ক্যালরির খাবার খায় ও ব্যায়াম করে তার শরীরে বার্ধক্য তত দেরিতে আসে। এই তথ্য মাথায় রেখেই বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ মহাকাশে গিয়ে বয়স কমার তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, স্কট গত এক বছরে মহাকাশে ক্যালরি মেপে খাবার খেয়েছেন।তার ওপর মহাকাশে শারীরিক কসরতের প্রয়োজন হয় অনেক বেশি। এই দুয়ের কারণেই যমজ ভাইয়ের চেয়ে বয়সে কম দেখাচ্ছে স্কটকে। অবশ্য এই বয়স কমার গল্প মানতে রাজি নন ভারতের একমাত্র নভোচারী রাকেশ শর্মা, যিনি ১৯৮৪ সালে ৮ দিনের জন্য মহাকাশে কাটিয়েছিলেন। এদিকে পৃথিবীতে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ভাইয়ের মতোই বয়স্ক হয়ে যান স্কট।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *