মার্কিন সংসদে হামলা ট্রাম্পের সমর্থকদের, ৪ জনের প্রাণহানি

America

Mysepik Webdesk: আমেরিকার ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে এবার যত না ঘটনা ঘটেছে, তা খুব কমই ঘটেছিল। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দল রিপাবলিকানরা বাইডেনের বিজয় মেনে নিতে প্রস্তুত নন। তবে পরিস্থিতি যে এতটা খারাপ হবে, এমন ধারণা ছিল না। বুধবার ট্রাম্পের সমর্থকরা জোর করে পার্লামেন্ট ক্যাপিটালে প্রবেশ করেছিলেন। যার ফলে হিংসার ঘটনা এমনকী ৪ জনের প্রাণহানিরও ঘটনা ঘটেছে। ঐতিহাসিকরা জানিয়েছেন যে, মার্কিন পার্লামেন্ট ২০০ বছরে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটতে দেখল। ঘটনাটি এত মারাত্মক যে, মার্কিন গণতন্ত্রের উপর এই হামলার পরে রিপাবলিকান নেতারা নিজেরাই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন: করোনার উৎস সন্ধানে যাওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের দেশে ঢুকতেই দিলো না চিন

ক্যাপিটল হিল হিস্টোরিকাল সোসাইটির স্কলারশিপ অ্যান্ড অপারেশনস ডিরেক্টর স্যামুয়েল হলিডে সিএনএনকে বলেছে যে, ১৮১২ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম ক্যাপিটল হিল এভাবে দখল হল। এরপরে ১৮১৪ সালের আগস্টে ব্রিটিশরা এই ভবনে আক্রমণ করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। ১৯৫৪ সালে তিনজন পুরুষ এবং এক মহিলা দর্শনার্থী হাউস অফ চেম্বারের গ্যালারিতে অস্ত্র নিয়ে বসেছিল। পুয়ের্তো রিকান জাতীয়তাবাদী দলের এই সদস্যরা দেশের স্বাধীনতার দাবি জানায়। ১৯৫৪ সালের ১ মার্চ দুপুরে তারা পার্লামেন্টে গুলি চালিয়ে পুয়ের্তো রিকোর পতাকা উত্তোলন করে। এই ঘটনায় পাঁচ কংগ্রেস সদস্য আহত হয়েছেন।

অভিযুক্ত মহিলা লোলিটা লেব্রন সহ আরও দু’জন পুরুষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল এবং একজন পালাতে সক্ষম হয়। তবে পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই গ্রুপটির নেতৃত্বে লেব্রন ছিল বলে জানা গিয়েছে। তারা ‘ফ্রি পুয়ের্তো রিকো’ বলে চেঁচিয়ে গ্যালারিতে প্রবেশ করেছিল। লেব্রনকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০১০ সালের ১ আগস্ট ৯০ বছর বয়সে মারা যায় লেব্রন।

আরও পড়ুন: করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের পরেও ইতালিতে আক্রান্ত এক ডাক্তার

এই ঘটনার পরে যা সারাবিশ্ব একপ্রকার হতভম্ব। ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই ঘটনার পর ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির নেতারা ২০ জানুয়ারির আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপসারণের দাবি তুলেছেন। উল্লেখ্য যে, বাইডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এই ২০ জানুয়ারিতেই। দেশজুড়ে ট্রাম্পের অপসারণের দাবিও উঠছে। এক প্রাক্তন সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি এমন কাজ করেছেন। তাঁর মেয়াদের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও তাঁকে অপসারণ করা উচিত। আসলে এহেন ঘটনা পুরো সিস্টেমের জন্য বিরাট বড় এক ধাক্কা।

হাউসের কয়েকজন সদস্য বলছেন, অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের অপসারণের জন্য পর্যাপ্ত সদস্য রয়েছে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। সিএনএন অনুসারে, ট্রাম্পকে অভিযুক্ত ও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরে সিনেট তাকে ভবিষ্যতে ফেডারেল অফিসে ফিরে আসতে বাধা দিতে পারে। সিনেটের একটি ভোট তাঁকে চিরকালের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আওতায় ট্রাম্পকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সহ-রাষ্ট্রপতি মাইক পেন্স ও মন্ত্রিসভায় বেশিরভাগ সদস্যকে ভোট দিতে হবে। ‘নিজের অবস্থানের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে’ অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে এটি করা মার্কিন রাজনীতিতে একটি বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *