‘নরেন্দ্র মোদীর হাতে বাংলাকে তুলে দিতেই হবে’, বিজেপিতে যোগদান করে জানালেন শুভেন্দু

Mysepik Webdesk: দীর্ঘ টালবাহানার অবসান। ২১ বছর ধরে তৃণমূল করার পর আজ মেদিনীপুরের মঞ্চে বিজেপিতে যোগদান করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুভেন্দুকে উত্তরীয় পরিয়ে, পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেন সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী। শুভেন্দুর হাত ধরে ৯ বিধায়ক এবং ১ জন সাংসদ আজ বিজেপিতে যোগ দিলেন। বিজেপিতে যোগদান করার পর এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত, ২৭ নভেম্বর মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকরী। তারপর ডিসেম্বর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিজেপিতে যোগদান শুভেন্দু অধিকারীর, অমিত শাহের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন

এদিন মঞ্চে ভাষণ রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অমিত শাহকে ‘আমার দাদা’ বলে সম্ভাষণ করে বলেন, “দেশের গর্ব অমিত শাহ। তাঁর হাত ধরে এলাম বিজেপিতে। আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠেছি। আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলছে আজকে। আমি ক্ষমতার জন্য বিজেপিতে আসিনি। আমাকে পতাকা লাগাতে বললেও আমি তাই করব।” এরপর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে নাম না করে বলেন, “তৃণমূল এবার দ্বিতীয় হবে। বিজেপি হবে প্রথম। যেখানে সম্মান, আদর্শ নেই, সেখানে আমি থাকিনি। আমার মা আমার নিজের জন্মদাত্রী। অন্য কেউ নয়। আর ভারত মাতা আমার মা। অন্য কাউকে মা বলতে পারব না। কেন্দ্রের কর্মসূচিগুলিকে নাম পালটে দেওয়া হয়, এখানে চালু করা হয় না। দেশে আর রাজ্য একই সরকার থাকা উচিৎ। তাহলেই বাংলা বাঁচবে। নরেন্দ্র মোদীর হাতে বাংলাকে তুলে দিতেই হবে।” তিনি আরও বলেন, “অমিত শাহ আমার বড় দাদা। মুকুল রায় বলেছিলেন, আত্মসম্মান থাকলে তৃণমূলে থাকিস না। অনেকে আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলছে। নেতাগিরি করব না। বিজেপি পতাকা লাগাতে বললে লাগাব, দেওয়াল লিখতে বললেন লিখব।’ একইসঙ্গে ‘ভাইপো’ প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্লোগান তোলেন, ‘একসময় বলেছি বিজেপি হটাও। আজ বলছি, তোলাবাজ ভাইপো হটাও।”

আরও পড়ুন: তৃনমূল কর্মীদের খোলা চিঠি শুভেন্দুর, জানালেন কেন ছাড়লেন তৃণমূল

এদিন শুভেন্দুর সঙ্গে শুধু তৃণমূল নয়, কংগ্রেস এবং বিজেপি থেকেই একাধিক রাজনৈতিক নেতা, বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করবেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু নেতাও যোগদান করবেন বিজেপিতে। সূত্রের খবর, সেই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ দশরথ তিরকে, উত্তর কাঁথির বিধায়ক বনশ্রী মাইতি, হলদিয়ার বিধায়ক তপশ্রী মণ্ডল, ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত, কালনার বিধায়ক বিশ্বজিত কুণ্ডু, বিধায়ক সৈকত পাঁজা, গাজোলের বিধায়ক দীপালি বিশ্বাস, তৃণমূল জমানার প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী এবং কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূলের পদত্যাগী নেতা কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী, আলিপুর দুয়ারের তৃণমূল নেতা আশিস দত্ত ও বাপ্পা মজুমদার, উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূল নেতা কার্তিক পাল ও প্রফুল্ল বর্মন, দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সত্যেন রায়, জেলার তৃণমূল নেতা দেবাশিস মজুমদার, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপাল মিশ্র, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পুরসভার বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, গুসকরা পুরসভার তৃণমূলের নেতা ও কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়, পুরুলিয়ার তৃণমূল নেতা গৌতম রায়, হুগলি জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ সমীরণ মিশ্র, ডানকুনি পুরসভার উপ পুরপ্রধান দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, হুগলি জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ দত্ত, হুগলি জেলার তৃণমূল নেতা গৌতম মাঝি। এছাড়াও রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা। তাঁরা হলেন, অধ্যাপক ওইদুল হক, হুলগির প্রাক্তন বিধায়ক পারভেজ রহমান, হুগলির তৃণমূল নেতা আলমগির মোল্লা, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম, বীরভূমের তৃণমূল নেতা কারম হোসেন খান। 

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *