‘বাংলার বাঘিনী: ১, দিল্লির কাগুজে বাঘ: ০!’ আলাপন-ইস্যুতে মমতার পাশে কংগ্রেস থেকে শিবসেনা

Mysepik Webdesk: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে, তা জাতীয় স্তরের রাজনীতির ক্ষেত্রে অন্যতম একটি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে জাতীয় কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, শিবসেনা, এসপি। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে করা সমালোচনা করে আগেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। এবার কংগ্রেসের সঙ্গে একই সুরে সরব হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিরোধী নেতারা। বিজেপি সরকার যে বারবার ভারতের সংবিধান এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ওপর আঘাত হানছে, এ-কথাই তাঁরা ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: করোনায় মৃত সাংবাদিকদের পরিবার পাবে ১০ লক্ষ টাকা, বড় ঘোষণা যোগীর

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক সুখেন্দু শেখর রায় টুইটারে লিখেছেন, “তিন বছরের জন্য অবসরপ্রাপ্ত মুখ্যসচিবকে তার মুখ্য উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর মাস্টার স্ট্রোক। মোদি সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে একজোট হতে আহ্বান করা হচ্ছে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলকে।” তাঁর কথায়— “হাম লড়েঙ্গে, হাম জিতেঙ্গে, হাম জিয়েঙ্গে এখন যুদ্ধের ডাক। কুর্নিশ জানাই এই আবেগকে।” প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, সুখেন্দুশেখরবাবুর এই টুইটটি তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তিনি রি-টুইট করে লেখেন, “সুখেন্দুবাবুর প্রতি সহমর্মিতা রইল।”

আরও পড়ুন: ‘এখন রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে লড়াইয়ের সময় নয়’, আলাপন-ইস্যুতে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

সূত্রের খবর, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এসপি-র অখিলেশ সিং যাদব প্রমুখ দুঁদে নেতা তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল কেন্দ্র-রাজ্য লড়াই প্রসঙ্গে টুইটারে লিখেছিলেন, “এই সময় রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে লড়াই করার নয়, বরং সবার সঙ্গে করোনার সঙ্গে লড়াই করার সময়। এই সময় রাজ্য সরকারদের সাহায্য করার জন্য। এখন রাজ্যগুলির কাছে ভ্যাকসিন সরবরাহ করার সময় এসেছে। টিম ইন্ডিয়া হওয়ার জন্য সমস্ত রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। লড়াই, ঝগড়া এবং রাজনীতির জন্য পুরো জীবন পড়ে রয়েছে।”

আরও পড়ুন: ‘এখন রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে লড়াইয়ের সময় নয়’, আলাপন-ইস্যুতে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

এছাড়াও শিবসেনার রাজ্যসভার উপনেতা প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী টুইটারে লিখেছেন— “বাংলার বাঘিনী: ১, দিল্লির কাগুজে বাঘ: ০!” কার্যত এইসব টুইটই বলে দেয়, গোটা ভারতে ভবিষ্যতে মোদি-বিরোধী একটি জোট তৈরি হতে পারে। জানা গিয়েছে যে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও তৃণমূলের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করছেন নেতারা। এদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও সমর্থন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। দলের পক্ষ থেকে কিরণময় নন্দ জানিয়েছেন, “এটি প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিক উদাহরণ। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে সম্পূর্ণভাবে রয়েছি। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মোদি-শাহের সরকার।”

আরও পড়ুন: পুলওয়ামা-শহিদ মেজর বিভূতিশঙ্কর ধৌন্ডিয়ালের স্ত্রী নিকিতা এবার ভারতীয় সেনায়

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমার আলাদা করে কিছু বলার নেই। কারণ সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছে। তবে এটুকু বলতে পারি যে, অত্যন্ত যোগ্য আমলা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। পিএসসি সংক্রান্ত বৈঠকে কলকাতায় যখন গিয়েছিল, তিনি দেখা করেছিলেন আমার সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে কথা বলে আমার ভালো লেগেছে।”

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *