‘অগ্নিকন্যা’র কথা রাখল বাংলা, নন্দীগ্রামেই ‘হ্যাটট্রিক’ সম্পন্ন করলেন মমতা

Mamata Banerjee

Mysepik Webdesk: করোনার দৌরাত্ম্যের ৬২ দিনের স্থায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে বঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরির নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। তিনটি রাজ্য বাংলা, কেরল ও অসমের কোনও পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। অর্থাৎ বাংলায় তৃণমূল, কেরলে এলডিএফ এবং অসমে বিজেপি-কে সরকার গঠন করতে দেখা গেছে। আগেও সেখানে ছিল একই সরকার। তবে, তামিলনাড়ুতে অবশ্যই পরিবর্তন এসেছে। ডিএমকে সেখানে সরকার গঠনের কাছাকাছি। নির্বাচনে তাদের সঙ্গে রয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, পুদুচেরিতে এগিয়ে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গে চার ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যা ১৪৮টি অতিক্রম করে ২০০-রও বেশি আসনে এগিয়ে গিয়েছিল। তবে, এই সংখ্যাটি ২০১৬ সালে তৃণমূলের ২১১টি আসনের চেয়ে কম। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে ১২০০ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়ে দেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ১৯৭২ সালের পর থেকে গত ৪৯ বছরে এটি বাংলার একাদশতম নির্বাচন। এই নির্বাচনগুলোয় যে দল জিতেছে, ২০০+ আসনের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তৃণমূল ২০১৬ সালে ২১১ এবং ২০১১ সালে ২২৮টি আসন জিতেছিল। তার আগে বামেরা পরপর ৭ বার নির্বাচনে জিতেছিল। একমাত্র ২০০১ সালেই বামেরা ২০০-র কম ১৯৪টি আসন পেয়েছিল। অন্য নির্বাচনগুলোয় বামেরা ২০০টিরও বেশি আসন পেয়েছিল।

ফলাফলের পরে টুইট করে বিজেপিকে খোঁচা মারতে ছাড়েননি করেছেন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ। এই পোস্টে তিনি একটি সূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। এতে একদিকে বিজেপির সঙ্গে সিবিআই, ইডি, নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া, অর্থ এবং দলবদলুদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রায়ান বলেছেন― অশুভ শক্তির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কর্মীরা এবং বাংলার মানুষ। কোভিডের বিরুদ্ধেও জিতব আমরা। মানুষের পাশে থাকি আমরা।

এখন জেনে নিন বাকি রাজ্যের অবস্থা। বাংলার পরে সবাই অসমের ফলাফলের ওপর নজর রেখেছিল। বিজেপি এখানে ভোট গণনা শুরু হওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যে ৭৮টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, কেরলে ক্ষমতাসীন বামরা সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে মনে করছেন। একই সময়ে, তামিলনাড়ুতে অনুমানগুলি সঠিক বলে মনে হচ্ছে। এখানে ডিএমকে ১৪৫টি আসনে পৌঁছেছে। পুদুচেরিতে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে কড়া টক্কর চলেছিল। তবে পরে বিজেপি এগিয়ে যায়।

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টির মধ্যে ২৯২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজেপি প্রথমবারের মতো ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। সুদেশ মাহাতোর অল ঝাড়খণ্ড ছাত্র ইউনিয়ন পার্টিকে একটি আসনও দেওয়া হয়েছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এখানে গতবার বিজেপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এবার জিজেএম তৃণমূলের সঙ্গে ছিল। নির্বাচনের আগে বিজেপি মমতা-ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী সহ তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বড় নেতা বিপক্ষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক্সিট পোলগুলিতেও এগিয়ে ছিল তৃণমূল। ৯টি এক্সিট পোলের মধ্যে পাঁচটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে, তার আভাস দেওয়া হয়েছিল।

যদিও এবারের মাস্টারস্ট্রোক ছিল নন্দীগ্রামে তাঁরই একান্ত অনুগত শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। আসলে ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটানোর পশ্চাতে নন্দীগ্রামের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এবার দেখার ছিল, নন্দীগ্রামের মানুষ বাংলার ‘অগ্নিকন্যা’র কথা রাখে কিনা। ২০১১-র ১০ বছর কেটে গেলেও কথা রাখল নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রামেই ‘হ্যাটট্রিক’ সম্পন্ন করলেন মমতা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *