Latest News

Popular Posts

নৌকাডুবি ও নেতো-পদ্মার অন্যান্য কৌশল

নৌকাডুবি ও নেতো-পদ্মার অন্যান্য কৌশল

পার্থ কর
সহ-লেখিকা পম্পা গোস্বামী

মনসামঙ্গলের অনেক কবি রয়েছেন। পূর্ববঙ্গে তাঁদের মধ্যে বিজয়গুপ্ত প্রসিদ্ধ, যাঁর নিবাস ছিল অধুনা বরিশাল জেলায়। এটি বর্তমান যশোহরের লাগোয়া। ওখানকার লোকগানে কবির পদ্মাপুরাণের প্রভাব এবং কবির উপর এসব আঞ্চলিক কাহিনির প্রভাব— দু’টোই খুব স্বাভাবিকভাবে থাকবেই। আমার উদ্ধারকৃত এই পালাতে বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণের কাহিনি, অনুষঙ্গ, প্রকৃতি, নদনদীর যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়।

প্রশ্ন রইল, প্রচীনত্বের সন্ধানের। কাব্যরচনার পটভূমি এবং লোকমুখে রচিত ও প্রচলিত আখ্যান যখন সাহিত্যের মূল উপাদান হয় এবং সেইসব লোককথা যখন জীবনে-যাপনের আচারে-সংস্কৃতিতে ওতপ্রোত জড়িয়ে থাকে, তখন সেইসব জনপদের লোকসাহিত্য আর আলাদা কিছু থাকে না। তা সেখানকার ধর্মাচরণ, যাপন, সংস্কার, সামাজিক রীতিনীতি প্রভৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে মিশে থাকে। এই পরিমণ্ডলই জন্ম দিতে পারে একজন স্বভাবকবির। তৎকালীন সময়ের সাহিত্যধারার যত লিখিত রূপ পাওয়া যায়, তা সবই এইরকম কবিদের দ্বারা রচিত। বিজয়গুপ্তও তার ব্যতিক্রম নন। এই পালাকাহিনিটিও যে সেই প্রাচীনত্বের দাবিদার নয়, কে বলতে পারে?

(কারণ সবথেকে প্রাচীন যে ভাট কবির সন্ধান এখনও পর্যন্ত পেয়েছি, তিনি জ্ঞানদা বুড়ি। তিনি এ-গান শেখাতেন আজ থেকে অন্তত সত্তর বছর আগে। তখনই তাঁর বয়স সত্তরাধিক। তিনি নিজেই বাল্যকালে এ-গান শিখেছিলেন।— মাইসেপিকে প্রকাশিত নয় এই অংশ) 

আরও পড়ুন: সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২৭)

কথকের এলাকার প্রধান নদী বেত্রবতী। ছবি লেখক

গত পর্বে যেখানে শেষ করেছিলাম তা ছিল লক্ষ্মীন্দর জন্মগ্রহণ করেছে জানতে পেরে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষজন এসেছে তাদের পেশাগত কারণে। তারা গান গেয়ে ছেলে নাচাচ্ছে। তাদের গানের মধ্যে তৎকালীন লৌকিক জীবন এবং তাদের নিজেদের জীবনের দুঃখ কাহিনি অত্যন্ত করুণভাবে ধরা রয়েছে। এই পালার বিভিন্ন জায়গায় এইরকম অনেক গান রয়েছে। ভাটদের বক্তব্য অনুযায়ী, এগুলোকে বলা হয় ‘ছুট গান’। হিজড়াদের গানের সূত্র ধরেই পালার এই জায়গাটিতে আরও বেশ কয়েকটি ছুট গান রয়েছে— যেগুলোর সঙ্গে পালাকাহিনির সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু গানগুলি তৎকালীন লৌকিক জীবন, সংস্কৃতি, পারস্পরিক সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের এক আশ্চর্য দলিল। যদি কখনও বই আকারে প্রকাশিত হয়, তখন সম্পূর্ণ গান সংকলিত করা যাবে। আপাতত সেই সব গানের কিছু পঙ্‌ক্তি নিচে রইল—

পালার এইখানে হিজড়াদের গান শেষ হতে না হতেই একদল মাছ বেচতে আসবে। প্রথম গানটি তাদেরই।

মাছ ধরার গান

*

কী কুক্খনে গিইলাম সখীরে, কেয়াকূলের আড়ে—

সেদিন হইতে পুড়লো কপাল অলকা জেলের সাথে

সাতো ভাইবউ গালু দিলরে জেলে যে ভাতারি

কী বা লজ্জা দিলে বৌদি গো কী ও লাজে মরি 

মায়ে দেলে তেল সিন্দূর রে বাবাই দেলে বিয়ে

এই নিয়ে যাও মা গো ওই অলকা জেলের বাড়ি

মায়ে দেলে চালুডালু বাবাই দেলে হাড়ি

এই নিয়ে রসুই করে খাওগে অলকা জেলের বাড়ি।

……. ইত্যাদি।

অবশেষে জেলের বাড়ি গিয়ে মাছ বেচা শুরু হয়।

ও তোরা মাছ নিবি লো ও পাড়ার গিরস্তোরা

মাছ আনিচি নতুন বিলির টাটকা খয়রা। (২)

নামটি আমার পদ্মবেনে থাকি পদ্মাপার।

মোরা এক ঘাটেতে রান্ধিবাড়ি আরেক ঘাটে খাই

মোদের সুখির সীমা নাই।

মোরা পঙ্খী ধরি পঙ্খী বেচি মোরা পঙ্খী বেচে খাই

মোদের সুখির সীমা নাই।

….ইত্যাদি।

[কেয়াকূলের আড়ে= নদীকূলের কেয়াবনের বাঁকে। গালু= গালি। চালুডালু= চালডাল। গিরস্ত= গৃহস্থ। ]

*

মশার গান

*

এট্টু এট্টু মশা রে ভাই মুখি চম্পাই দাড়ি,

গলায় তার ফিঙের বাসা মাথায় পাগড়ি—

গাগল করিলো মশা রে।

মশারো জ্বালায় আমি ঘরে টাঙায় ঘুনা,

তবু সে যেতে মশা টেনে ধরে কুনা রে—

পাগল করিল মশা রে।

….

মশারো জ্বালায় আমি চললাম বাপের বাড়ি,

তবু সে যেতে মশা চললো সারি সারি—

পাগল করিল মশা রে।

মশারো জ্বালায় আমি গায়ে দিলাম ক্যাঁতা,

ক্যাঁতার মদ্যি যেয়ে মশ কয় পীরিতির কতা রে—

পাগল করিল মশা রে।

*

[চম্পাই= রোমশ, সম্ভবত উপমিত কর্মধারয়-এর নিয়মানুযায়ী দাড়ি হল চাঁপা ফুলের উপমেয় পদ। ঘুনা= মশারি। কুনা=কোণ, কোণা। ক্যাঁতা= কাঁথা]

দেহতত্ত্বের গান

*

কৃষ্ণের নাম কর্ণে কে আর শোনাবে!

পিঞ্জিরা ছাইড়্যা পাখি তোর একদিন পালাবে।

যেদিন পাখি ছেড়ে যায়, (আহারে) তুলসিতলায় শুয়াইবে,

ভাই ভাতিজা কান্দবে পিঞ্জিরা ধরিয়া

মায়ে কান্দে বাছারে আমার…

ইত্যাদি।

*

জীবনতত্ত্বের গান

*

আশা ছিল বাঁধব বাসা

আশা করে বাঁধলাম বাসা শুকনো বালুর চরে

সেই বাসা ভাঙল আমার কালবৈশাখী ঝড়ে—

ভাইরে কালবৈশাখী ঝড়ে।

….ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: সাম্প্রতিক বাংলা সাহিত্যের নিরিখে বিরলতমদের একজন হাসান আজিজুল হক

কবির গ্রামের দুর্গাপুজো। ছবি লেখক

*

(মূল কাহিনিতে ফিরছি এবার। লখাইয়ের জন্মের পর বিভিন্ন লৌকিক মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান শেষ হয় একদিন। লখাইকে সুস্থ-সুন্দর দেখে চান্দ আবার বাণিজ্যে যাবার প্রস্তুতি নেয়।

এখান থেকে পালাগায়কগণ অভিনয় ক’রে নিম্নোক্ত ভাষ্য অংশটি উপস্থাপন করবেন।)

চান্দ আবার ডিঙি ভাসায়। সে জলে ভেসে ভেসে আবার বাণিজ্যে রওনা দেয়। ওদিকে নেতা-পদ্মা ভাবে, কী করা যায়! এবার তারা চোদ্দ ডিঙা আর চোদ্দ মাঝিকে ডুবিয়ে দেয় ঝড়জলে। চান্দ যখন হাবিডুবি খাচ্ছে, তখন তারা মা মনসার একটা নাম লেখা কাঠ জলে ফেলে দেয়। কিন্তু চান্দ প্রাণে বাঁচার জন্যও সেটা আঁকড়ে ধরে না, এবং ভাসতে ভাসতে অবশেষে এসে কূলে ওঠে। উঠে দেখে। সেটা একটা শ্মশান। সেখানে সে দিন কাটাতে থাকে আস্তে আস্তে তার চেহারা পাগলের মতো হয়ে যায়। শ্মশানে-মশানেই তার দিন কাটতে থাকে। কাপড়ের অভাবে সেখানেই পড়ে থাকা মড়ার পোশাক পরতে থাকে। এভাবে বছর বারো কেটে যায়। চান্দ সত্যি সত্যি পাগলের মতো হয়ে যায়। নেতো-পদ্মর এতেও রাগ পড়ে না। তারা ভাবতে থাকে, এরপর আর কী করা যায়। ওদিকে পাগল হয়ে যাওয়া চান্দ ঘুরতে ঘুরতে নিজেরই জমির কলাবাগানে এসে হাজির হয় এবং দাড়ি-জটা নিয়ে উদ্ভ্রান্ত বসে থাকে।

এইখানে পালার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। দেখানো হয় চান্দের বাড়িতে কী হচ্ছে তখন। এই জায়গাটা কিছুটা কমিক রিলিফ-এর মতো।)

চান্দের বাড়ি:

সনেকা: রামসিং জমাদ্দার হাজির হুয়া? (তিনবার) চান্দোবেনের কলাবাগানে চোর পাকড়া গিয়া?

(চোর ধরা পড়ে)

রামসিং: ধরেছি চোর আমি চান্দোবেনের কলাবনে।

হাতে-পায়ে লাগিয়ে বেড়ি এনেছি এই টেনেটেনে— ধরেছি চোর আমি চান্দোবেনের কলাবনে।

সবাই: হদ্দম লাগাও।

(সবাই ইচ্ছামতো মারে। এরপর চোরকে ধরে ফোনে কার সামনে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সনেকা চিনতে পেরে চেঁচিয়ে ওঠে।)

সনেকা: কী করেছ তুমরা আমার! এ তো আমার প্রাণনাথ!

(তখন পরামানিক চুল দাড়ি কেটে দেয় এবং চান্দের স্মৃতি আস্তে আস্তে ফেরে। কিন্তু সে ছেলেকে চিনতে পারে না।)

চান্দ বলে এবার বউমারা সব নষ্ট হয়ে যাবে! সনেকা তখন চান্দের পরিচয় দেয় আর বলে, ছেলের বিয়ে দেবে না? আয়না করে রাখবে নাকি?

[একঘেয়েমি কাটাতে এই অংশে রয়েছে কমিক রিলিফ দেবার আপ্রাণ প্রচেষ্টা। কিন্তু মূল কাহিনির অন্তর্লীন বেদনার প্রবাহ এখানে ফল্গু হয়ে বইছে। পাগলপ্রায় চান্দকে চোর সন্দেহে প্রহার করা অংশে সনেকার মনোকষ্ট দর্শককে বেদনার্ত করে।

হদ্দম= হরদম, ক্রমাগত। আয়না করে রাখা= যত্নে ঝেড়েপুঁছে তুলে রাখা।)

গীত

*

ছয়ো ছেলে দিছি বিয়ে সব খেয়েছে সাপে রে—

আমি ছেলে বিয়ে দেব না ওই সাপে খাগোর ঘরে!

(ছেলে-বউমারা সব পাল্টিঘর। ওদিকে নেতা-পদ্মা চান্দকে সুস্থ হতে দেখে আবার ফন্দি আঁটে। বলে, চলো, হোগলার মাঠে ঘর বান্ধিয়া সেখানে লখাই গেলেই তাকে আটকে রাখব।)

নেতা-পদ্মা—

নেতা বলে, পদ্ম দিদি বুদ্ধি কেন হারো গো—

বুদ্ধি কেন হারো!

চলো আমরা হোগলার মাঠে বান্ধি ঘরদুয়ারো

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

(তারা হোগলার মাঠে ঘরদোর বাঁধে এবং গানবাজনা শুরু করে। সবাই গানের টানে সেদিকে যেতে শুরু করে। লখাইও যেতে চাই, কিন্তু তার মা বাধা দেয়—)

যাইও না যাইও না বাবাগো গান শুনতি গো

ওই না কথা শুনব মাগো, গান শুনতি যাবো গো—

গান শুনতে যাব।

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

সাজের ঘরে যায়ে লখাইসুন্দর সাজের কাপড় পরে রে।

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

সাজের কাপড় পরে লখাইসুন্দর পায়রা হাতে করে রে।

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

পায়রা হাতে করে লখাইসুন্দর হোগলার মাঠে চলে রে।

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

কাছাকাছি গেলি ওই যে পায়রা উড়ে গেলো গো…

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

ওগো পায়রা উড়ে গেলো সে কানির মেয়ের ঘরে গো!

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

পায়রা আনতি গেলি ওই যে লখাইরে আটকে ফেললে গো!

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

(এরপর গ্রামের আর সবাই ফিরে আসে কিন্তু লখাই আসে না। সনেকা জনে জনে জিজ্ঞাসা করে—)

তুমরা সবাই আসলে বাড়ি, আমার লখাইসুন্দর কনে গো?

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

তুমার লখাই সুন্দর আটকা পড়ে গেছে কানির মেয়ের ঘরে গো,

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

ওই না কতা শুনে লখাইয়ের মা শানে মাথা ভাঙে গো,

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

শোনো শোনো চান্দবেনে শোনো আমার কথা,

আমার লখাইরে এনে দেও গো।

লখাইসুন্দর আটকা পড়ে গেছে ওই কানির মেয়ের ঘরে গো—

ওগো কানির মেয়ের ঘরে।

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

ভাষ্য:

চান্দ: আমি যে বলেছিলাম ছেলে বড় হয়েছে, বিয়ে দেও। তা তো দিলে না, বললে আয়না করে রাখবে। এখন আমি যাতি পারবো না।

আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি: স্বাধীনতা পূর্ব

সেই জল-জঙ্গলের দেশে…। ছবি লেখক

গীত:

ওই না কথা শুনব চান্দো আমার লখাইসুন্দররে এনে দেও গো,

ওগো আমার লখাইসুন্দররে এনে দেও।

সাজের ঘরে যায়ে চান্দো সাজের কাপড় পরে গো

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

সাজের কাপড় পরে চান্দো গামছায় টাকা ঢালে রে,

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

(গামছায় টাকা ঢেলে চান্দ হোগলার মাঠে যায়। পৌঁছে সে বলে—)

শোনো শোনো নেতো পদ্ম আমার লখাইরে আটকাইছ কেন গো?

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

তুমার লখাই আমাদের গায় পানের চিপ দিয়েছে গো,

ওগো পানের চিপ দিয়েছে।

তুমার লখাইসুন্দর আমাদের চোখ টিপে যে মেরেছে,

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

আমাদের জাতির কড়ি, মানের কড়ি বুঝে দিয়ে যাও গো,

ওগো বুঝে দিয়ে যাও।

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

গামছার টাকা ঢালে দিয়ে লখাইরে নিয়ে আসে গো

হাদে শোনো বলি লখাই রে—

[পানের চিপ= পান খাওয়ার সময় ফেলা থুতু। জাতের ও মানের কড়ি= গায়ে থুতু দেয়ায় তাদের জাত নষ্ট হয়েছে এবং চোখ টিপে ইশারা করায় তাদের মানও চলে গেছে। তারই ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয় অর্থ।]

ভাষ্য ও কথোপকথন:

লখাইকে নিয়ে আসে চান্দ। ঘরে ফিরে বলে সনেকাকে, ছেলে আগে বিয়ে দাও। ছেলের বিয়ে দিতি হলে মেয়ে দেখতি হবে, বাসরও বেঁধে দিতি হবে। এবার ঘটক লাগাতি হবে।

এরপর দৃশ্যের পরিবর্তন ঘটে। এক জায়গায় একটা বিশাল দ্বীপের মতো মাঠ তথা বাগান পড়ে আছে।

প্রসঙ্গত, এ সবই নেতার পরামর্শে পদ্মার কৌশলে ঘটছে। চান্দ সেই বাগানের মালিকের কাছে যায়। প্রশ্ন করে,

—এটা কীসের মাঠ?

— এই পুরনো ভিটেটিটে ছিল।

— এই মাঠটা দিবা?

— হ্যাঁ দিয়ে দেবো। কিন্তু কী করবা?

— এখানে একটা মেলা বসাব। আমার লখাই মেলায় আসলে অনেক মেয়ে দেখতি পাবে। সেখান থেকে পছন্দ করে বিয়ে দিতি পারব।

এতে মালিক রাজি হয়।

চান্দ আবার প্রশ্ন করে।

—কিন্তু মেলা বসাব কী করে? জনটন পাব তো?

— সে জন এখন পাব কুথায়! তুমি বরং হেঁড়েনি পাড়ায় যাও।

এরপর চান্দ হেঁড়েনি পাড়ায় গিয়ে জনমজুর খোঁজ করে।

— উত্তম হেঁড়েনি হাজির… (তিনবার)

— কী, কী?

— আমাদের এই জঙ্গলডা সাফ করে দিবা? কেটে-ঝেঁটে পরিষ্কার করে দিতি হবে।

— হ্যাঁ দেব।

এরপর মুখে বিভিন্ন শব্দ করতা করতে জঙ্গল পরিষ্কার করার অভিনয় চলবে। সঙ্গে ঝাঁট দেওয়া ও শেষে জল ছিটানোরও।

হেঁড়েনি ক্লান্ত হয়ে অবশেষে বসে পড়ে বলবে, বাঃ, এই তো কত্ত পরিষ্কার হয়ে গেছে!

গীত:

একলা হেঁড়েনি বাবু দুই বাজার পারিনে! (২)

দুই বাজার পারিনে বাবু দুইবাজার পারিনে।

অন্ন বিনে শুকিয়ে মরি বললে কে বা শোনে! (২)

একলা হেঁড়েনি বাবু….

(হেঁড়েনির আরও একটা বাজার আছে। একসঙ্গে দু’টো দেখাশোনা করা তার পক্ষে কষ্টকর।)

ভাষ্য:

এরপর মেলা বসে। লোকজন পসরা নিয়ে আসে। কে কীসের দোকান দেবে তার জিজ্ঞাসা পর্ব চলতে থাকে।

— তুমরা কীসের দুকান দিবা?

— পুতুলির দুকান…

— স্বর্ণ ঢেঁকির দুকান…

— কুলোর দুকান…

এরপর বেহুলার দিদি ওই বাজারে আসে। সঙ্গে বেহুলাও। কাহিনি নতুন বাঁক নেয়…

[দুকান= দোকান। স্বর্ণ ঢেঁকি= বিপণনের সময় মুখেমুখে বাড়িয়ে বলা বিজ্ঞপনীয় রীতি। এখানে সোনার মতো দামি বা রঙের বোঝাতে এইরকম প্রয়োগ।]

ক্রমশ…

ধারাবাহিকের বাকি পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

সেইসব স্মৃতিধর
শিকড়ের খোঁজে
গীতিকার টানে…
লখিন্দরের জন্ম

প্রচ্ছদ চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *