নাবালিকা কিশোরীর বিয়ে আটকাল বীরভূম জেলা আইনী কর্তৃপক্ষ, তড়িঘড়ি প্রতিনিধি পাঠাল বাড়িতে

বোলপুর, ১ অক্টোবর: বোলপুর থানা এলাকার কিশোরীর বাবা-মা তার বিয়ের বিষয়ে পাত্র পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছিল। এদিকে জানতে পেরে সময় বুঝে লুকিয়ে ওই নাবালিকা কিশোরী সরাসরি ফোন করে বসে বীরভূম জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে। কিশোরী ফোনে জানায়, তার মা-বাবা গোপনে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। কিন্তু সে এখন বিয়ে করতে চায় না। পড়তে চায়। এখনই বিয়ে যাতে না হয় তার একটা ব্যবস্থা করার অনুরোধ করে। নরম বিনয়ী সুরে, কাতর কন্ঠে ওই কিশোরী ফোন করে বীরভূম জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে। নাবালিকা কিশোরীর ফোন পেয়েই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিলেন জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব বিচারক দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীর তৈরি দুর্গা প্রতিমা পাড়ি দিল সুদূর কানাডায়

তাঁর নির্দেশে বৃহষ্পতিবার সকালে বোলপুর থানা এলাকায় ওই কিশোরীর বাড়ীতে যান জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি আইনী সহায়ক মহিউদ্দীন আহমেদ। ওই নাবালিকা কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাবাকে বোঝানো হয় যে তারা এখনই মেয়ের বিয়ে যাতে না দেন। বোঝানো হয় বাল্য বিবাহ একটি অপরাধ। মেয়ের বাবা মায়ের কাছে মেয়ের বিয়ে দেবেন না এমন মুচলেকাও নেওয়া হয় তাদের কাছ থেকে।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয়বার মেয়ে হওয়ায় চারমাসের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন

জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগেও একবার ওই নাবালিকা কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তখন চাইল্ড লাইন, জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ এবং বোলপুর থানার পুলিশ গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিয়ে আসে। তারপর আবার নাবালিকা মেয়ের বিয়ের ঠিক হওয়ায় স্বয়ং নাবালিকা কিশোরী নিজেই ফোন করে জানায় জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে। মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাড়ীতে যায় আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার বিয়ে দেবেন না বলে লিখিত অঙ্গীকার করে কিশোরীর বাবা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *