প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ জন্মভূমি বীরভূম

বোলপুর, ৩১ আগস্ট: সোমবার বিকেল ৫.৪৬ মিনিটে প্রয়াত হলেন দেশের প্রাক্তন অর্থ-বিদেশ মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজনীতিবিদের মৃত্যুর খবর প্রথম ট্যুইট করে জানান, তাঁর পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। প্রণববাবুর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বীরভূম জেলাজুড়ে। কীর্ণাহারের মিরাটির প্রণববাবুর বাসভবনে গ্রামবাসী তথা এলাকাবাসী এসে ভিড় জমান। তাঁর বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষের জনসমাগম হয়। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্কুল জীবন কেটেছিল কীর্ণাহার হাই স্কুলে। সেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ কীর্ণাহারের মানুষ থেকে যে কলেজে তিনি পড়েছেন, সেই বীরভূম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে শুরু করে শোর্কাত তাঁর বন্ধুমহল।

আরও পড়ুন: প্রণব পুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দী বেন প্যাটেল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের

প্রণববাবুর এক সময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী থেকে তাঁর অনুগামী সকলেই শোর্কাত। শোর্কাত সাধারণ মানুষও। সিউড়ির বাসিন্দা প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ ইয়াসীন আক্তার, সাঁইথিয়া পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর কংগ্রেস নেতা বরুন ভাণ্ডারি বলেন, ”খবর শোনামাত্র নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। প্রণববাবুর মৃত্যু খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। সেখানে দেখা যায় শোক প্রকাশ মূলক পোস্ট। বুধবার তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হবে কি না বা কখন আনা হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ উৎসুক হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ রাহুল গান্ধি, প্রধানমন্ত্রী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

গত ১০ আগস্ট অসুস্থ হয়ে দিল্লির সেনা হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ২০১৯ সালে পান ভারতরত্ন। ১০৮০-৮৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। ২০০৪-১২ সাল ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর কেন্দ্রের সাংসদ। তাছাড়াও তিনি কখনও অর্থ দফতর কখনও বিদেশ দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটল বীরভূমের লাভপুর থানার কীর্ণাহারের পাশে মিরিটি গ্রামের বীর সন্তানের। যে খবর আসা মাত্রই শোক বিহ্বল বীরভূম।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *