পৌষমেলার মাঠে সেক্স র‍্যাকেড চলে, মন্তব্য বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের: বির্তকের ঝড় বোলপুর-শান্তিনিকেতনে

বোলপুর, ২৮ আগস্ট: শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর ভুবনডাঙার মেলার মাঠে চলে সেক্স র‍্যাকেড, চলে অসামাজিক কাজকর্ম। সেই কারণেই মেলার মাঠের পাঁচিলের প্রয়োজন আছে। শুক্রবার বিশ্বভারতীতে এসে এমনই বির্তকিত মন্তব্য করলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন তিনি শান্তিনিকেতনে এসে মেলার মাঠ ঘুড়ে দেখেন। পৌষমেলার গেটটি ১৭ আগস্ট ভেঙে ফেলা হয় সেটিও দেখেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এদিন অগ্নিমিত্রা পাল করেন এই বির্তকিত মন্তব্য। বলেন ইউজিসি চাইছে পাঁচিল হোক। মেলার মাঠে সেক্স র‍্যাকেড চলে, চলে নানান অসামাজিক কাজকর্ম। তাই পাঁচিল দেবার দরকার। পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ডাকবাংলার মাঠ কেন পাঁচিল দেওয়া হয়েছে? সেটাও তো শান্তিনিকেতনের মধ্যে। যদিও ডাক বাংলার মাঠ বোলপুরে, শান্তিনিকেতনে নয়।

আরও পড়ুন: এক সপ্তাহের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নতুন তৈরির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

এদিন অগ্নিমিত্রা পালের এহেন মন্তব্যের পর শুরু হয়েছে বির্তকের ঝড়। নানান মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। যে মেলার মাঠে সেক্স রেকেড চলে বলে অগ্নিমিত্রা অভিযোগ করেছেন সেই মেলার মাঠ থেকে কুড়ি মিটারের মধ্যেই, রাস্তার ওপারে শান্তিনিকেতন থানা সহ বোলপুর মহকুমা শাষকের কার্যালয়, জেলা পুলিশের ডিআইবি অফিস, পুলিশের ইএফ লাইন ও পুলিশ কন্ট্রোল রুম। জেলা পুলিশের পাঁচ খানা দফতর মেলার মাঠের কাছেই রয়েছে। অগ্নিমিত্রার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন উঠছে তাহলে বিশ্বভারতী কতৃপক্ষ কেন থানায় অভিযোগ করেনি এতদিন? অগ্নিমিত্রা পাল এদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, ১৭ তারিখ যে হামলা হয় তা পরিকল্পিত। পুলিশকে ৪৬ বার ফোন করা হয় কিন্তু পুলিশ সাড়া দেয়নি। হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন।

এদিন অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য শোনার পর বীরভূমের তৃনমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল পাল্টা বলেন, উনি সম্পূর্ন মিথ্যা কথা বলছেন। বোলপৃরের বাসিন্দা সমাজকর্মী মহম্মদ আলী বলেন, উনি বিশ্বভারতী তথা শান্তিনিকেতনকে কালিমালিপ্ত করলেন এহেন মন্তব্য করে। এখানে শান্তিনিকেতনের খোলা মেলা পরিবেশ ও রবীন্দ্র ভাবনায় আঘাত দেওয়া হচ্ছে পাঁচিল তৈরি করে। অথচ বিষয়টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি

শুক্রবার বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন না বলে শুক্রবারই অভিযোগ করেছেন গবেষক ছাত্রীরা। সেখানে উপাচার্য বৈঠক করছেন বিজেপির নেত্রীর সঙ্গে। একজন উপাচার্য কী করে বিজেপির নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বির্তক।

অন্যদিকে, আজ কর্মসমিতির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন উপাচার্য। সেখানে ঠিক হয় সব রকমের সহযোগিতা পেলে পৌষমেলা হবে। পৌষমেলা না করার পক্ষে আগেই সওয়াল করে বিশ্বভারতী। আজ আবার জানানো হয়, পৌষমেলা হবে। ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে একথা জানান ডাঃ সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *