বিমানের সর্বোচ্চ উচ্চতা পেরিয়ে শীঘ্রই মহাকাশে যাত্রা করবে ‘বোয়িং’-এর মহাকাশযান

Mysepik Webdesk: এতদিন পর্যন্ত বিমানের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ উচ্চতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে বোয়িং সংস্থার বিমানকে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ছাড়িয়ে তার মহাকাশে যাত্রা করার সুযোগ হয়নি। তবে, এবার সেই মহাকাশ যাত্রার স্বপ্নকে সফল করতে চলেছে বোয়িং। তবে বিমান নয়, বরং মহাকাশযানে রূপান্তরিত হয়েই। কারণ, বিমান বানানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করার পর মহাকাশযান বানাতেও সফলতা অর্জন করেছে বোয়িং। বোয়িং-এর তৈরি মহাকাশযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্টারলাইনার’।

আরও পড়ুন: যেভাবে জুমের ভিডিও কল রেকর্ড করবেন

Boeing reports a $410M charge in case NASA decides Starliner needs another  uncrewed launch | TechCrunch

ভূপৃষ্ঠ থেকে কম-বেশি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে মহাকাশে নীল গ্রহের কক্ষপথে ঘুরতে থাকা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের বিজ্ঞানীদের পর্যাপ্ত খাবার ও গবেষণার কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছে দিতে বোয়িং-এর মহাকাশযানকে কাজে লাগাতে উৎসাহ প্রকাশ করেছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা। নাসা জানিয়েছে, গত অগস্ট মাসে পরীক্ষামূলক ভাবে বোয়িং-এর স্টারলাইনার মহাকাশযানটিকে মহাকাশ স্টেশনে পাঠাতে চেয়েছিল নাসা। কিন্তু তার মূল সেফ্টিভালভে গলদ দেখতে পাওয়ার জন্য সেই প্রজেক্টটি বাতিল করে দেওয়া হয়। তবে, ইতিমধ্যেই বোয়িং তার মহাকাশযানে সেই গলদ সারিয়ে ফেলেছে। ফলে প্রজেক্টটি ফের চালু করতে নাসার কাছে আর কোনও বাধা রইল না।

আরও পড়ুন: মহাকাশ ঘুরে এলেন ৯০ বছরের বৃদ্ধ, অসম্ভবকে সম্ভব করল ব্লু অরিজিন

NASA and Boeing aim to redo Starliner spacecraft test later this year

১৯১৬ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আমেরিকার শিল্পোদ্যোগী উইলিয়াম বোয়িং প্রথম আত্মপ্রকাশ করান বোয়িং সংস্থাকে। সেই সময় সংস্থাটি দুই আসনের ‘সি প্লেন’ চালিয়ে দারুন জনপ্রিয় হয়েছিল। পরবর্তীকালে ১৯২৭ সালে আমেরিকার সিয়াটল থেকে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্তরে প্রথম এয়ারমেল বিমান ওড়ায় বোয়িং। তারপর ওই সংস্থাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত মূলত যাত্রী ও মালবাহী বিমান তৈরি ও পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত শতাব্দীর শেষের দিক থেকে সংস্থাটি আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে কাজ করা শুরু করে। যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও সমান দক্ষতা অর্জন করে বোয়িং। এরপর নয় দশকের শেষের দিকে রকেট, রকেট ও মহাকাশযানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরিতেও জনপ্রিয়তা অর্জন করে সংস্থা। অবশেষে ৯৫ বছর পর এবার মহাকাশেও পাড়ি দিতে চলেছে বোয়িং-এর মহাকাশযান।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *