মাত্র বিয়াল্লিশেই অনন্তলোক যাত্রা করলেন বক্সার ডিঙ্কো সিং

Mysepik Webdesk: ভারতের প্রাক্তন বক্সার এবং এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদক বিজয়ী ডিঙ্কো সিং বৃহস্পতিবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৪২ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। ডিঙ্কো ২০১৭ সাল থেকে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁকে ভারতের অন্যতম সেরা বক্সার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং, বক্সার মেরি কম, বিকাশ কৃষ্ণান এবং বিজেন্দ্র সিং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডিঙ্কো সিং ছিলেন একজন স্পোর্টস সুপারস্টার এবং দুর্দান্ত বক্সার। তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছিলেন। বহু বক্সারের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি মর্মাহত। ওম শান্তি।”

আরও পড়ুন: বিতর্কের জেরে চিনা কোম্পানিকে সরিয়ে দিল IOA, ব্র্যান্ডহীন কিট পরে অলিম্পিকে নামবেন খেলোয়াড়রা

ডিঙ্কো ১৯৯৮ সালে ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন। দুঃখ প্রকাশ করে ক্রীড়া মন্ত্রী রিজিজু বলেছেন, ‘‘এই খবর শুনে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। তিনি ছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা বক্সার। ১৯৯৯ সালের এশিয়ান গেমসে তাঁর পদক জয় ভারতীয় বক্সিংয়ে পরিবর্তন এনেছিল। এই কারণে, বক্সিং ভারতে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর পরিবার এই দুঃখের সময়ে সাহস পাক।” একইসঙ্গে, ভারতের বর্তমান পেশাদার বক্সিং তারকা বিজেন্দ্র সিং বলেছেন যে, ‘‘ডিঙ্কোর জীবন এবং লড়াই আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

আরও পড়ুন: ‘ঐতিহাসিক দিনে’ কোপায় খেলতে রাজি হল ব্রাজিল

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং লিখেছেন, ‘‘ডিঙ্কোর মৃত্যুসংবাদ শুনে মর্মাহত আমি। পদ্মশ্রী জয়ী ডিঙ্কো ছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা বক্সার।” একইসঙ্গে বক্সার বিকাশ কৃষ্ণন লিখেছেন যে, ‘‘আমরা এক কিংবদন্তিকে হারালাম।” উল্লেখ্য যে, ডিঙ্কো ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। মেরি কম লিখেছিলেন, ‘‘ডিঙ্কো ছিলেন রকস্টার এবং কিংবদন্তি। মনে আছে যে, মণিপুরে তাঁর ম্যাচ দেখার জন্য লাইনে অপেক্ষা করেছি। তিনি আমার অনুপ্রেরণা, আমার নায়ক। এটি একটি অপূরণীয় ক্ষতি। বেশ তাড়াতাড়ি চলে গেলেন তিনি। জীবন অনাকাঙ্ক্ষিত।” মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী বাবাই নাঙ্গাঙম এবং এক ছেলে ও এক মেয়েকে। গত বছরের এপ্রিলে ডিঙ্কোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে তাঁকে ইম্ফল থেকে দিল্লিতে বিমাণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালের মে মাসে, করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: কলম্বিয়ার শেষ মুহূর্তের গোলে নিশ্চিত তিন পয়েন্ট হাতছাড়া আর্জেন্টিনার

১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি ইম্ফলের সেকতা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মেছিলেন এই বক্সার। এর পরে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI) তাঁর প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেয়। প্রশিক্ষণেরও সুযোগ করে দেয়। তিনি মেজর ও পি ভাটিয়ার তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। মেজর ভাটিয়া পরে সাইয়ের টিম উইংয়ের নির্বাহী পরিচালক হন। ডিঙ্কো ১৯৮৯ সালে আম্বালায় সাব জুনিয়র জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। তখন থেকেই তাঁকে ভবিষ্যতের ভারতীয় বক্সিং তারকা হিসাবে ভাবা হত।

আরও পড়ুন: ৪৭ বছর পরেও গাভাস্করের মনে অম্লান মাঠের মধ্যে চুল কাটার স্মৃতি

১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ডিঙ্কো যে এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদক জিতেছিলেন, সেখানে দুই অলিম্পিক পদকপ্রাপ্তকে হারিয়েছিলেন। এই দুই পরাজিত অলিম্পিক পদকপ্রাপ্তর নাম থাইল্যান্ডের সোনতায়া ওয়াংপ্রেটস এবং উজবেকিস্তানের তিমুর তুল্যাকভ। ২০০০ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকেও ডিঙ্কো ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারতীয় নৌবাহিনীতেও কর্মরত ছিলেন তিনি। বক্সিং কোচও ছিলেন। তাঁর জীবনের একটি চলচ্চিত্রও মুক্তি পেতে চলেছে ২০২২ সালে। ছবির শ্যুটিংও শুরু হয়ে গিয়েছে। ছবিটির পরিচালক হলেন রাজা কৃষ্ণ মেনন এবং শাহিদ কাপুরকে ডিঙ্কো সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *