শান্তিপুর বাগআঁচড়া গ্রামে ফুটেছে ব্রহ্মকমল!

flower

Mysepik Webdesk: ব্রহ্মকমল। যে ফুলের আরও দুটি নাম রয়েছে। কামফু এবং কন। এই জাদুকরী উদ্ভিদের নাম সৌসুরিয়া ওভাল্লটা, যে নামের অর্থ বাংলা করলে দাঁড়ায় ব্রহ্মের কমল। সনাতন মতে, মহাবিশ্বের স্রষ্টা ভগবান ব্রহ্মাকে যে বিশাল এক পদ্মের উপর বসে থাকতে দেখা যায় এবং তিনি ঊর্ধ্ব ডানহাতে যে পদ্মফুল ধরে রাখেন, তা-ই ব্রহ্মকমল। ভগবান ব্রহ্মার আর একটি নাম কঞ্জ, যিনি জল থেকে জন্মেছিলেন। তবে অন্য মত বলছে, ব্রহ্মা ভগবান বিষ্ণুর নাভি থেকে জন্মগ্রহণ করেছেন। আবার অন্যরা বলেছেন যে, তিনি একটি বিশাল সাদা পদ্ম থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যাকে আমরা ব্রহ্মকমল বলে থাকি।

আরও পড়ুন: বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের চিঠি নিয়ে বির্তক শান্তিনিকেতনে, প্রাক্তনী মহল

ইংরেজিতে একটা কথা রয়েছে, লাইফ গিভিং লোটাস। সুতরাং পদ্মের সঙ্গে এক্ষেত্রে জড়িয়ে রয়েছে জীবন দানের এক কিস্সা। হ্যাঁ, মাইথোলজি ঘাঁটলেই দেখা মিলবে সেই গল্পের। গণেশের জন্মের যে গল্পটি খুবই জনপ্রিয়, তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে এই ব্রহ্মকলম। পার্বতীর অনুরোধে ব্রহ্মা ব্রহ্ম কমলকে সৃষ্টি করেছিলেন, যার সাহায্যে শিব গণেশের শরীরে একটি হাতির মাথা রাখলেন। শিব যখন গণেশের দেহের উপরে একটি হাতির মাথা সংযুক্ত করেছিলেন, তখন তিনি ব্রহ্মা কমল থেকে ছিটিয়ে দেওয়া জল দিয়ে স্নান করেন। এ কারণেই এই পদ্মকে দেবতাদের জীবন ফিরিয়ে আনার ফুলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের নিরিখে এই ফুলের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে।

আরও পড়ুন: লোকাল ট্রেন চালু নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় রেলবোর্ড

জীবনদায়ী এই ফুল উত্তরাখণ্ডের স্টেট ফ্লাওয়ার। ৩০০০ থেকে ৪৮০০ মিটার উচ্চতায় ফোটে। উত্তর মায়ানমার, দক্ষিণ-পশ্চিম চিন ও ভারতের উত্তরাখণ্ড— মূলত এই তিন অঞ্চলেই দেখা মেলে ব্রহ্মকমলের। তবে কেমন হত যদি পশ্চিমবঙ্গের কোথাও ফুটত এই ফুল? ভাবছেন হয়তো আকাশকুসুম প্রশ্ন করে ফেলছি। কিন্তু বাস্তবেই তা হয়েছে।

গতকাল নদিয়ার শান্তিপুর ব্লকে বাগআঁচড়া বাজার পাড়া অঞ্চলে অদ্বৈত প্রামাণিকের বাড়িতে এ ধরনের এক ফুল ফোটাকে কেন্দ্র করে পুজো অর্চনা করতে দেখা গেল স্থানীয়দের। এলাকার বহু মানুষ ভিড় করে তা দেখতে এসেছে সন্ধ্যার পর থেকে। অদ্বৈতবাবুর কন্যা মামনি প্রামাণিক জানান, তাঁর মাসতুতো দাদা অশোক ঘোষ কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্র থাকেন। গতবছর ভাইফোঁটার উপহারস্বরূপ দেয় একটি ডাল। বলেছিলেন, মাটিতে লাগানোর জন্য। বাকিটা ছিল সারপ্রাইজ! বিগত দশ মাসে আপন খেয়ালে বেড়ে উঠেছে গাছ।

গত দু-একদিন থেকে মামণি খেয়াল করছে পাতা থেকে একটি কুঁড়ি হওয়া শুরু হয়েছিল। গতকাল সন্ধ্যাবেলায় তা প্রস্ফুটিত হয়ে সকলের উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। কল্যাণী ইউনিভার্সিটিতে এমএ পাঠরতা মামনি ইন্টারনেট ঘেঁটে জেনেছেন সমস্ত তথ্য। তবুও কেন পুজো? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মামনি জানান, বাড়ির মা ঠাকুমাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতেই তিনি বসেছিলেন পুজোয়।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *