C U Soon ভারতীয় সিনেমার জগতে একটা মাইলস্টোন

ডাঃ অরিন্দম পাত্র

ওয়েব দুনিয়ার জাল পাতা রয়েছে বিশ্ব।জুড়ে। নেটদুনিয়ার নিত্যনতুন আকর্ষণে মত্ত আপামর বিশ্ব। নানারকম চ্যাটিং অ্যাপ, ডেটিং অ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামের হাতছানি অস্বীকার করা কঠিন আজকালকার যুবসমাজের পক্ষে। সেইরকম একটি প্ল্যাটফর্মে সম্পূর্ণ অপরিচিত দুই যুবক-যুবতীর পরিচয় হয়, তারপর মাত্র দু’হপ্তার মধ্যে পরিণয়ের দিকে যখন তাঁদের সম্পর্ক এগিয়ে চলে, ঠিক তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো উধাও হয়ে যান সেই যুবতী। সব দোষ এসে পড়ে প্রেমে পাগল সেই যুবকটির ঘাড়ে! থানা পুলিশ অবধি মামলা গড়ায়! কী ভাবছেন? চেনা ছকের গল্প? পুরো ছবিটা দেখলে আপনার সেই ধারণা পাল্টে যাবে। কে দোষী? যুবকটি? নাকি যুবতীই তাকে ফাঁসানোর জন্য স্বেচ্ছায় নির্বাসন নিয়েছেন? আপনার এইসব প্রশ্নের সমাধান করতে আসরে নামবেন অভিযুক্ত যুবকের সম্পর্কীয় কাজিন এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। যুবতীর যাবতীয় তথ্য ও খুঁটিনাটি ঘরে বসেই তাঁর কম্পিউটারের মাধ্যমে হ্যাক করে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হবেন তিনি!

আরও পড়ুন: ‘V’: করোনার কারণে ডিজিটাল রিলিজ না হলে ভিক্ট্রি অবশ্যই পেতেন পরিচালক

গল্পের অভিনবত্ব এখানেই! কারণ পুরো ছবিটি একটি কম্পিউটার স্ক্রিন ফিল্ম। ল্যাপটপের পর্দায় কখনো গুগল ডুয়ো বা হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে ছবির পাত্রপাত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বসে কথোপকথনের মাধ্যমে গল্প এগোয়। নেই কোন আউটডোর শ্যুট, ইন্ডোর শ্যুটের সবটুকুই দেখতে পাই আমরা কম্পিউটার স্ক্রিনের মাধ্যমে। তাই এক অর্থে ভারতের প্রথম কম্পিউটার স্ক্রিন ফিল্ম এই মালায়ালাম ছবি ‘C U Soon’ একটি গান বর্জিত রোমান্টিক থ্রিলার! মাত্র দেড় ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের এই ছবি মূলত মুগ্ধ করে এর টেকনলজিক্যাল অ্যাস্পেক্টসের জন্য। পুরো ছবিটিই আই ফোনে শ্যুট করা হয়েছে! ২০১৮ সালের ইংরেজি ছবি Searching-এর আদলে এর নির্মাণ হলেও ফিল্মটির ভারতীয়করণ করা হয়েছে অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সঙ্গে। অভিনয়ে প্রেমিক যুগলের ভূমিকায় দারুণ অভিনয় করেছেন রোশন ম্যাথিউ এবং দর্শনা রাজেন্দ্রন। বিশেষ করে, উল্লেখ করতে হয় দর্শনার কথা। মূল নারী চরিত্রে ওনার অভিনয় মনে থেকে যাওয়ার মতো। তবে এই ছবির আসল খিলাড়ি কাজিন কেভিন থমাস রূপী মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম স্তম্ভ ফাহাদ ফাসিল। দুর্ধর্ষ অভিনয়ের পাশাপাশি এরকম কনসেপ্টের একটি ছবি প্রযোজনা করার জন্য যাঁর বাড়তি প্রশংসা পাওনা হয় অতি-অবশ্যই। প্রতিটি ফ্রেমে ফাহাদের ব্রিলিয়ান্ট অ্যাক্টিং আপনার নজর কাড়তে বাধ্য করবে। গল্পে অল্প কিছু অসংগতি থাকলেও মেকিংয়ের জোরে তা আপনি অগ্রাহ্য করতে বাধ্য হবেন। লেখক ও পরিচালক মহেশ নারায়ণনের চিত্রনাট্য বেশ গতিশীল। কম্পিউটার স্ক্রিনে দর্শকের চোখ আটকে থাকার জন্য কিছুমাত্র একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হয় না। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বেশ ভালো, সুরেলা সেই মিউজিকের রেশ ছবি শেষ হলেও রয়ে যায় বেশ কিছুক্ষণ! সবমিলিয়ে C U Soon ভারতীয় সিনেমার জগতে একটা অন্যরকম মাইলস্টোন। ফাহাদ ফাসিল ও পরিচালক মহেশ নারায়ণনকে এজন্য সাধুবাদ জানাই।

সিনেমার চরিত্রগুলির ভার্চুয়াল লাইফ নিয়ে লকডাউনের বাজারে এই ছবির আগমন। শেষ দৃশ্যে পরিচালক কথা দিয়ে যান চরিত্রগুলির রিয়েল লাইফ নিয়ে আবার তিনি ফিরে আসবেন— C U Soon…

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *