মুহূর্তকে বন্দি করে রাখা

Choto Golpo

অভিজিৎ কর গুপ্ত

ছোটবেলায় আমরা একটা মজার খেলা খেলতাম, ”আমি যা দেখছি তুমি কি তা দেখছ?” এখন অনেক কাল পেরিয়ে যখন ছবি তুলি, হয়তো এই ভাবনাটাই সবসময় কাজ করে মনের ভিতর। আমি যা দেখছি, যেভাবে দেখছি, ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডার দিয়ে যে জগৎটাকে ধরতে পারছি, তা যেন অন্যদেরকে দেখাতে চাইছি। হয়তো খুব সামান্য বিষয়— নির্ভেজাল, সরল সাধাসিধে কিছু জীবন। ক্যামেরা যেন তাকে নতুন করে দেখতে চায়, দেখাতে চায়, আরও কিছু বলতে চায়! গল্পের ভিতরে গল্প তৈরি হতে থাকে। ফ্রেমে বন্দি একেকটা জীবন যেন জুলিও কোর্তাজার (Julio Cortázar) ‘Blow up’ স্টোরি বা গল্পের মতো। সহজ, শান্ত অথচ প্রবাহমান। একটা ফ্রেম কি সত্যিই জীবনের গভীর ব্যঞ্জনা হতে পারে? পারে কি জীবনের অপার ভালোবাসা, সম্মান, মমত্ব আর বোধকে তুলে ধরতে?

আরও পড়ুন: নাগপুরীতে এক বেলা!

একটা ছোটগল্প

ছবি কি পারে? হয়তো পারে না জীবনের জটিলতা অথবা গভীর সমস্যাগুলো থেকে আমাদেরকে বের করে নিয়ে আসতে। তবু তা এক একটা মুহূর্তকে অমরত্ব দেয়! সেই মুহূর্তগুলোর কিনারায় আবার একবার দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের।

আরও পড়ুন: বাংলার সর্পবৈচিত্র্য ও সর্প দেবী মনসা

এই হেঁটে চলা…

আমার মনে হয়, এক একটা জীবন প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে হাজার হাজার দেখা-না দেখা ফ্রেমের কোলাজ দিয়ে। ফ্রেমের ভিতর চরিত্রগুলো তাদের পারফরম্যান্স করে যায়। ফোটোগ্রাফার তার সমস্ত ক্ষমতা আর ভালোবাসা দিয়ে তা ক্যামেরাবন্দি করে।

স্নেহ

মনে করা যাক, এরকম একটা ফ্রেম আর তুমি ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রেখে তা দেখে যাচ্ছ। ছবির সঙ্গে তোমার দূরত্ব তো একটা ক্লিকের শুধু। এ যেন একটা স্টেজ আর তুমি ভিউ ফাউন্ডারে চোখ রাখা নীরব দর্শক। চরিত্র আসছে, মিলিয়ে যাচ্ছে। ফোটোগ্রাফার এই আসা যাওয়াকে দূর থেকে সম্মান করবে, এই সেটের ভিতরে না ঢুকেও। আমার মনে হয়, ফোটোগ্রাফি তো একরকম পরিমাপ (measurement)-ও বটে। এই পরিমাপ করতে হয় অত্যন্ত সন্তর্পণে, নিজের উপস্থিতি বা ভাবনা না চাপিয়ে।

পরিমাপ

এবার দেখা যাক, নাম না জানা এক একজন পারফর্মার ফ্রেমের ভিতর ঢুকছে আর বেরিয়ে যাচ্ছে বা জীবনের গল্প তৈরি করে যাচ্ছে আর তুমি এক একটা মুহূর্তকে স্থায়ী করে ফেলছ। এভাবেই জীবনের ছবি তৈরি হয়ে চলেছে।

এসো…

এরকমই একদিন, ক্যানিংয়ে মাতলা নদীর ধারে ভিউফাইন্ডারে চোখ রেখে কিছু মুহূর্তকে বন্দি করার চেষ্টা। আজ বিশ্ব ফোটোগ্রাফি ডে-র দিন সেসব মুহূর্ত ভাগ করে নিলাম আলোকচিত্রর মাধ্যমে…

আলোকচিত্র: লেখক

লেখক পাঁশকুড়া বনমালী কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। ছবি তোলাটা নেশা। ভালো লাগে ল্যান্ডস্কেপ তুলতে আর সাধারণ মানুষজনকে ক্যামেরাবন্দি করতে। সূর্যাস্তের আকাশ অথবা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, গ্রামের মাঠঘাট অথবা কলকাতা ময়দান যেখানেই হোক, ক্যামেরা কাঁধে বেরিয়ে পড়তে পারলেই যেন পরম শান্তি। এখানে সেখানে এক-দু’টো করে ছবি প্রদর্শিত হয়েছে, অথবা বিভিন্ন জায়গায় ছবি ব্যবহৃত হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম আর ফ্লিকার-এ নিয়মিত ছবির উপস্থিতি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

7 comments

  • Minhaz Hossain

    খুব ভালো লাগলো!

  • বৈশাখী মাউড়

    স্যার দারুণ লাগলো ✌

  • Nababrata Ghoshal

    সহজ পাঠের ছবি যেন!! খুব সুন্দর!!

  • ভীষণ সুন্দর ছবি ও লেখা ❤️

  • দেবাশীষ সেন

    অসাধারণ সাদাকালো ছবির সঙ্গে কিছু লেখা কিছু ভাবনা আর একটা ‘ছোটগল্প’ জুড়ে দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে একটি অনন্যসাধারণ ‘ফটোগল্প’ ইংরেজী তে যাকে বলে ‘photo future’
    মন ভালো করে দেয়া একটি প্রতিবেদন।

  • মহুয়া

    প্রতিটা ছবি জীবনের গল্প বলছে, সাথে অসাধারণ লেখায় অন‍্য মাত্রা পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *