মেধাকাল

তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায় ১ যক্ষ শ্রোণিচক্র পেরিয়ে গেল। সরোবর প্রাণময় ক্বাথ; অদূরে ভ্রাতৃলাশগুলি প্রশ্ন করছে, ‘আমরা কারা?’… আমি এত সহজ প্রশ্নে স্তনাগ্র রাখতে রাখতে পাঁজর অবধি বিদ্যুৎ পেলাম। যেন ভ্রম; যেন যা মৃত কিংবা পাথর, সমস্ত তরলে তরলে প্রতিসরণ; যক্ষ শ্রোণিমূলে প্রশ্ন করছে, ‘আশ্চর্য কী?’ আমি জিভে জাগ্রত হাড় টের পেতে পেতে মুখের গলন দেখলাম, যেন সহোদর অনৃত; আদপে ছায়া, ছায়া

Read more

ঈষৎ রঙিন, ততোধিক উজ্জ্বল

সুমিত নাগ ক্ষীণতনু একটি কবিতার বই: রেনেসাঁ, ঈষৎ রঙিন, একগুচ্ছ ভিলানেল, ড্র্যাগন ব্রিজ, প্রার্থিত পুনর্জন্ম এবং তমার গানগুলি— এই পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। শেষ অংশ বাদে, কবিতার সংখ্যা কোনোটিতে তিনটি, কোনোটিতে চারটি, সর্বাধিক পাঁচটি ড্র্যাগন ব্রিজ অংশে। প্রার্থিত পুনর্জন্ম, বিশ্ববিশ্রুত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কেপলারের এপিটাফ অনুবাদ, তাও দু’টি পঙ্‌ক্তি এবং বিখ্যাত ভিক্টোরীয় কবি রসেটির একটি কবিতা। তমার গানগুলি ফিনশীয় কবি সিরক্কা সেলিয়ার একগুচ্ছ

Read more

’৮৮-র সিওলের সেই দুপুর নয়, ’৪৮-এর লন্ডন অলিম্পিকের বিকেলকেই যেন ফিরে পেতে চায় ভারতীয় হকি দল

শুভ্রাংশু রায় ফিরে না চাওয়ার কথাটি দিয়েই আলোচনার সূত্রপাত করা যেতে পারে। আজ কয়েক ঘণ্টা পরে ভারতীয় পুরুষ হকি দল যখন গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে অলিম্পিকের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নামবে চার দশক পরে সেমিফাইনাল এবং তারপর পদক জয়ের লক্ষ্যে, তখন অলিম্পিকে ভারতীয় পুরুষ দলের ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে একটি অদ্ভুত তথ্য জানার সুযোগ হল। সেটি হল ১৯৮০-র পরে ১৯৮৮ সালে এই এশিয়া

Read more

এই ঘর, এই উপশম

পৌষালী চক্রবর্তী মোহনার দেশ ছেড়ে প্রবাসের দিন, পরবাসের দিন কাটতে থাকে। মাঝেমাঝে আবার ফিরে আসি নদীর দিকে। পিছনে ছেড়ে আসি লালমাটি, ছোট ছোট টিলার আড়ালে সূর্যাস্ত, গজাবুরু আলো করে ওঠা প্রথম সূর্যের দিন। অধিকাংশ সময় ফিরতাম সন্ধের চক্রধরপুর এক্সপ্রেসে। সে আবার শেষ রাতের চাঁদডোবা অন্ধকারের আকাশ আর তার বিপরীতে আলোকবৃত্তের শহর-উভয়কেই সাক্ষী মেনে নিজস্ব লোহার গর্ভ থেকে উগরে দেয় নগরগামী

Read more

সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ১২)

সূর্য ও আদিপাপের উত্তরাধিকার পরের দিনই আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম সূর্য-বিষয়ে। বাবা বললেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা সূর্যকে দেবতা মানতেন— ফসলের দেবতা…’  কী ভেবে যেন অনুতপ্ত হয়ে বললেন, ‘চাষ ছেড়েছি, বিশ্বাসটা ছাড়তে পারিনি, তাই!’ আমি বললাম, ‘বাবা, চাষ ছেড়েছ, এটা অবশ্যই আপশোসের কথা কিন্তু সূর্যকে তো ছাড়নি! বিশ্বাসটা কিন্তু খুবই সুন্দর। মানে তুমি বিজ্ঞান আঁকড়ে আছ! সূর্যই একমাত্র দেবতা— অকাতরে প্রাণশক্তি দিয়ে

Read more

গাছের মতো বাদলকাকা

গৌতম দে খেজুর গাছ। নারকেল গাছ। সুপুরি গাছ আর বাদল শেখ মানুষটি। মনে হত একই। একক। কিছুতেই আলাদা করতে পারতাম না। আমাদের কাছে সে শুধুই ছিল বাদলকাকা। কখনওবা অজান্তেই বাদলকাকা ডেকে আহ্লাদিত হতাম। —বাবা বাদলকাকা এসেছে। এক অপার্থিব আনন্দ আমাদের পাঁচ ভাইবোনদের মধ্যে ছিল। বাদলকাকা হাসত। সেই হাসিতে নিষ্পাপ শিশুর সারল্যতা ঝরে পড়ত। তখন বুঝতাম না। এখনও সেই স্মৃতিতে স্পষ্ট

Read more
1 2 3 96