সে ফেরা এবং প্রথম দেখার শতবর্ষ: ভারতীয় ইতিহাসের প্রেক্ষিতে ১৬ জুলাই ১৯২১

শুভ্রাংশু রায়

১৬ জুলাই অর্থাৎ আজকের তারিখে ঠিক একশো বছর আগে একটি সাক্ষাৎ ঘটেছিল ভারতীয় রাজনীতিতে, যার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তবে সে সাক্ষাতের আগে সেদিন সকালে আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল, যার উল্লেখ না করলে পুরো ঐতিহাসিক উপখ্যানটি সম্পূর্ণতা পায় না। সন্ধ্যার সাক্ষাৎ-পর্বটি না হলেও সকালের বোম্বাই বন্দরে এক তরুণের ফিরে আসার ঘটনাটিও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। সেই তরুণের নাম ছিল সুভাষচন্দ্র বসু। আইএসএস পরীক্ষায় চতুর্থ হয়েও ব্রিটিশ সরকারের সর্বোচ্চ মর্যাদার চাকরির মোহ ত্যাগ করে বোম্বাই বন্দরে জাহাজে করে ফিরেছিলেন তিনি। আর বোম্বাই শহরে সেদিন সন্ধ্যাবেলায় প্রথম তরুণ সুভাষের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধির। যিনি ইতিমধ্যে কার্যত কংগ্রেসের নেতৃত্বপদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং দেশকে এক বছরের মধ্যে স্বরাজ এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুর্শিদাবাদ

তরুণ সুভাষচন্দ্র বসুর আইসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা, তাঁর বিলেত যাত্রা, প্রায় চার মাস দেরিতে কোর্সে ভর্তি হওয়া, পরীক্ষায় সাফল্য লাভ এবং তাঁর পরে দেশসেবার ব্রত নিয়ে আইসিএস থেকে পদত্যাগ― সবই ছিল নাটকীয়তায় ভরা ঘটনা। তাঁর পদত্যাগের আগের অবধি ঘটনাসমূহ ছিল একান্ত ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়। কিন্তু যখনই তিনি পদত্যাগ করেন, তখন ক্রমশ তা জনমানসে আলোড়ন তৈরি করে। সুভাষচন্দ্র বসুর পাবলিক লাইভ কার্যত তখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: মুঘল দরবারে আম

তবে একথা ভাবার কোনও কারণ ছিল না যে, তরুণ সুভাষের পদত্যাগের ঘটনা দেশজুড়ে খবর হয়েছিল বা ব্রেকিং নিউজ হয়েছিল। তবে লন্ডন শহরে, বিশেষত ভারতীয় ছাত্রদের মধ্যে যে সুভাষের এই পদক্ষেপ বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল, তাতে সন্দেহ নেই। তবে দেশের মাটিতে তরুণ চব্বিশ বছরের যুবক সুভাষচন্দ্র সেই অর্থে তখনও ততখানি পরিচিত হননি। ব্যক্তিগতভাবে সুভাষচন্দ্রের জীবনে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কারণে অনেক ঝড়ঝাপটা বয়ে গিয়েছিল। সুভাষচন্দ্র বসুর পিতা জানকীনাথ বসু এই সিদ্ধান্তে এতটাই রুষ্ট হন যে, সুভাষের ফেরার অর্থটুকু পাঠাননি। তরুণ সুভাষের এই সাহসী সিদ্ধান্ত অবশ্য প্রশ্রয় পেয়েছিল সুভাষচন্দ্রের জননী প্রভাবতী দেবী এবং মেজদা শরৎচন্দ্র বসুর । আর সুভাষচন্দ্র সাহায্য পেয়েছিলেন বিলেতে পড়তে আসা কিছু ভারতীয় বিশেষত বাঙালি বন্ধুর কাছ থেকে। এই সময় লন্ডনে অবস্থানকারী সুভাষ বন্ধু দিলীপ রায়ের ‘Subhas I knew’ গ্রন্থটি পড়লে সুভাষচন্দ্রের এই সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেকটাই জানা যায়।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *