শান্তিপুরে ৫০০ বছরের অধিক পুরনো চাঁদুনি বড়ির পুজো

Shantipur Durga Puja

তিরুপতি চক্রবর্তী

শান্তিপুরে যেক’টি বনেদি বাড়ির পুজো রয়েছে, তার মধ্যে চাঁদুনি বাড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এই চাঁদুনি বাড়ির নামেই পাড়ার নামকরণ হয়েছে। আদতে এটি মুখার্জিদের বাড়ি। এই বাড়িতে বিখ্যাত কালীপুজো হয়। আদতে শক্তির আরাধক এই বাড়ির পূর্ব পুরুষেরা এই দুর্গাপুজোর সূচনা করেন।

আরও পড়ুন: বৈষ্ণব এবং শাক্ত মতের সমষ্টি বাগনান কল্যাণপুরের রায়বাড়ির পুজো

এ-বাড়ির আদি পুরুষ ছিলেন কাশীনাথ সার্বভৌম। শোনা যায়, তিনি ছিলেন চৈতন্যদেবের গৃহ শিক্ষক৷ তাঁর হাত ধরেই এই পুজোর সৃষ্টি। ৫০০ বছরের অধিক পুরনো এই পুজো। তৎকালীন দিনে শান্তিপুর ছিল শক্তি আরাধনা ও তন্ত্র সাধনার পিঠস্থান।

বাড়ির দুর্গা মূর্তিটি কাত্যায়নী মূর্তি। দেবী এখানে কাত্যায়নী রূপেই পূজিত হন। এই অপরূপ মূর্তিটি নির্মাণ করেন শ্রদ্ধেয় শিল্পী গোরাচাঁদ পাল মহাশয়।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি পুরস্কারজয়ী ফুলিয়ার বীরেন বসাকের বাড়ির দুর্গোৎসব বাড়ির পুজোয় থিমের ব্যবহার আনে প্রথম

আগে এই পুজো একটি আটচালা মন্দিরে হত। পরবর্তীতে ২০০ বছর আগে এই নতুন ভবন তৈরি হয় এবং সেখানেই এখনও পুজো হয়ে চলেছে।

দেবী এখানেও দশভুজা ও সাদা অশ্বমুখের সিংহাড়ুর। মূর্তির গায়ে শৈল্পিক কারুকার্য দেখার মতো। এই বাড়ির পুজোয় আছে কিছু নিজস্ব রীতি। এই পুজোয় হয় না সন্ধিপুজো। দশমীর রীতিতে বিসর্জনের আগে দেওয়া হয় পান্তা ভাত, দেওয়া হয় ইলিশ মাছের টক। সঙ্গে দেওয়া হয় গোটা মশলা। কন্যাসম উমার বিদায়ের পর কৈলাসে ফিরে যাতে রাঁধতে না হয়। এই কল্পনাতেই এসব দেওয়া।

বহু জ্ঞানী ব্যক্তির জন্ম হয়েছে এই পরিবারে৷ তাই উৎকর্ষতা ও বৈচিত্র্য বারবার বদল হয়েছে। তবু আজও এই বাড়ির দুর্গাপুজো স্বমহিমায় বিরাজমান।

ছবি: লেখক

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *