করোনার উৎস সন্ধানে যাওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের দেশে ঢুকতেই দিলো না চিন

Mysepik Webdesk: বার বার বিশেষজ্ঞদের একাংশ দাবি করে এসেছেন, চিনের ইউহান শহর থেকেই গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। শুধু তাই নয়, চিন সরকারের কাছে তথা গোটা বিশ্বের কাছে এই বিষয়টি প্রথম থেকেই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এসেছে হুবেই প্রশাসন। আর বর্তমানে তারই মাসুল গুনতে হচ্ছে গোটা বিশ্বকে। এই বিষয় নিয়ে আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ বারবার চিনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। মূলত সেই প্রাণঘাতী ভাইরাসের উৎস সন্ধানে জানুয়ারির গোড়াতেই ১০ জন বিশেষজ্ঞর একটি দলের যাওয়ার কথা ছিল ইউহানে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দলের দুই সদস্য চিনের উদ্দেশে রওনা দিলেও তাঁদের বেজিংয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ইউহানকে করোনার উৎসস্থল হিসেবে কিছুতেই মেনে নিতে চাইছে না কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত চিন।

আরও পড়ুন: করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের পরেও ইতালিতে আক্রান্ত এক ডাক্তার

Xi Jinping and the Future of CCP - Indian Defence Review

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে চিনে যেতে চাওয়া ওই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মিশনের নেতৃত্বে ছিলেন পশু-পাখির রোগ বিশেষজ্ঞ পিটার বেন এমবারেক। তিনি গত জুলাই মাসেও একবার চিনে গিয়ে এই বিষয়ে অনুসন্ধান করে এসেছেন। তবে সেটা ছিল মূল মিশনের প্রাক মিশন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বিভাগের প্রধান মাইকেল রায়ান জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যদের ইউহানের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তাঁদের মধ্যে দুই সদস্য ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছিলেন চিনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু শেষমুহূর্তে বেজিং তাদের চিনে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই একজন আমেরিকা ফিরে এসেছেন এবং অন্যজন তার নিজের দেশে ফিরে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কাতারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সৌদি আরব, উপসাগরীয় দেশগুলি বড় চুক্তির ঘোষণা করতে পারে

Dr Peter Ben Embarek introduction and key messages - YouTube

চিনের এই বিরূপ আচরণে কার্যত হতাশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রিয়েসুস। তিনি জানান, “আমরা আজ জানতে পেরেছি, আমাদের বিশেষজ্ঞ দলকে চিনে ঢোকার অনুমতি দেয়নি চিন প্রশাসন। বেজিংয়ের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়ে দিয়েছি, এই মিশন হু-এর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চিনের এই ধরণের পদক্ষেপে আমি অত্যন্ত হতাশ।” প্রসঙ্গত, প্রথমদিকে করোনা সংক্রমণের কথা গোপন রেখেছিল হুবেই প্রশাসন। স্থানীয় চিকিৎসকদের দাবি, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত হুবেইয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯১৮ জন। অথচ সরকারি পরিসংখ্যানে এর অর্ধেক দেখানো হয়েছিল। ফলে সরকারিভাবে আগে থেকে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *