জাপানের পাশে চিন, অলিম্পিক আয়োজন ঘিরে উঠে আসা কিছু প্রশ্ন

Olympics

Mysepik Webdesk: সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও টোকিও অলিম্পিক গেমস নিয়ে চিন তার পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছে জাপানকে। চিন এমন সময়ে জাপানকে সমর্থন জানিয়েছে, যখন জাপানের বেশিরভাগ মানুষ অলিম্পিকের বিপক্ষে। এমনকী জাপান সরকার নিজেই করোনার মহামারির ক্রমবর্ধমান গতিকে কেন্দ্র করে এই ইভেন্টটি নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে। একইসঙ্গে, স্পনসররাও চিন্তিত। এমন পরিস্থিতিতে যাতে অলিম্পিক সফলভাবে আয়োজিত হয়ে সমাপ্তি ঘটতে পারে, সেই জন্য চিন সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা ঘোষণা করেছে।

আরও পড়ুন: ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়াম এবার টিকাকরণ কেন্দ্র

গত সপ্তাহে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) চেয়ারম্যান টমাস বেককে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি অলিম্পিকের সফল আয়োজনের পক্ষে তিনি সওয়াল করেন। তিনি অলিম্পিক গেমসের খেলোয়াড়দের সুরক্ষিত রাখার জন্য আইওসির কাছে একটি প্রস্তাব করেছিলেন, যাতে চিন তাদের তৈরি করোনার ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারে। শি জিনপিংয়ের এই উদ্যোগের পর থেকে জাপান এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে চিনের এই উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: অলিম্পিক পদকপ্রাপ্ত কুস্তিগীর সুশীল কুমারের বিরুদ্ধে অ-জামিনযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, চিন ও জাপানের সম্পর্ক সম্প্রতি খারাপ হয়েছে। ওয়াশিংটনে মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদা সুগার বৈঠকের পর আমেরিকা ও জাপানের জারি করা যৌথ বিবৃতিতে তাইওয়ানের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। যা চিন মোটেই সমর্থকের নজরে দেখেনি। যা নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন কড়া প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছিল। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর থেকে জাপান ও চিনের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি অবনতি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার এফএ কাপ চ্যাম্পিয়ন লিসেস্টার সিটি

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে যে, জিনপিং কি টোকিও অলিম্পিককে এই কারণে সমর্থন জানিয়েছেন যাতে আগামী বছর বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক গেমস বর্জনের দাবিটি বিঘ্নিত হতে পারে? যদিও জিনপিং এই উদ্যোগের মাধ্যমে এই বার্তা দিয়েছেন যে, তাঁরা খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পক্ষে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্ররা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চিনের শিনজিয়াং প্রদেশে বয়কট করার জন্য প্রচার চালাচ্ছে।

নিউইয়র্ক-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো হুয়াং ইয়ানজং হংকংয়ের সংবাদপত্র সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেছেন, ‘‘সম্পর্কের বিষয়ে উত্তেজনা সত্ত্বেও চিন অলিম্পিকে জাপানের পক্ষে সমর্থন নিয়েছে। এর ফলে এই সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে যে, চিন এই অলিম্পিকে তাদের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের একটি বিশাল দল পাঠাবে। বেজিং শীতকালীন অলিম্পিককে রাজনীতি প্রভাবমুক্ত করা খুবই কঠিন এই মুহূর্তে। বেজিং অলিম্পিক সম্পর্কে জাপান কী পন্থা গ্রহণ করবে, তা চিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন থেকেই তাদের তীক্ষ্ণ নজর দেওয়া শুরু করে দিয়েছে।” উল্লেখ্য যে, জাপানের টোকিওতে অলিম্পিক চলার কথা ২৩ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত।

চিনের এই সমর্থনের নেপথ্যে অন্য কারণ আছে বলে একাংশের ধারণা যে বাস্তবসম্মত, তা বলাই বাহুল্য। করোনাজনিত কারণে সারাবিশ্বে চিনের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ধাক্কা খেয়েছে। চিনা প্রশাসন অলিম্পিকের আসরে সাফল্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সেই ধাক্কা খাওয়া ভাবমূর্তি কিছুটা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট। এক্ষেত্রে যদি অলিম্পিক জাপান থেকে সরে যায়, তাহলে ভৌগোলিক নৈকট্য জনিত সুবিধালাভে চিনা খেলোয়াড়রা বঞ্চিত হবেন। তাই অনেকের মতে, জাপানকে অলিম্পিক আয়োজনে চিনা সাহায্যের আশ্বাসের নেপথ্যে চিন সরকারের এই গ্লোবাল ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার গোপন বাসনা বিদ্যমান।

চিনের এই সমর্থনের নেপথ্যে অন্য কারণ আছে বলে একাংশের ধারণা যে বাস্তবসম্মত, তা বলাই বাহুল্য। করোনাজনিত কারণে সারাবিশ্বে চিনের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ধাক্কা খেয়েছে। চিনা প্রশাসন অলিম্পিকের আসরে সাফল্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সেই ধাক্কা খাওয়া ভাবমূর্তি কিছুটা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট। এক্ষেত্রে যদি অলিম্পিক জাপান থেকে সরে যায়, তাহলে ভৌগোলিক নৈকট্য জনিত সুবিধালাভে চিনা খেলোয়াড়রা বঞ্চিত হবেন। তাই অনেকের মতে, জাপানকে অলিম্পিক আয়োজনে চিনা সাহায্যের আশ্বাসের নেপথ্যে চিন সরকারের এই গ্লোবাল ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার গোপন বাসনা বিদ্যমান।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *