‘ক্রিস, ক্রিস, আই লাভ ইউ’: বেলজিয়াম-রাশিয়া ম্যাচে এরিকসেনের ছায়া

Mysepik Webdesk: এটাই ফুটবল। রাজার খেলা। মনের খেলা। বন্ধুত্বের খেলা। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও সতীর্থের জন্য হৃদয় কেঁদে ওঠার খেলা। এমনই ঘটনা ঘটল শনিবার তৃতীয় ম্যাচে। তবে, তার আগে বেলজিয়াম-রাশিয়া ম্যাচ নিয়ে কিছু কথা বলে নেওয়া যাক। ইউরো কাপের অন্যতম ফেভারিট বেলজিয়াম ৩-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে রাশিয়াকে। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যাচে বেলজিয়ামের স্টার স্ট্রাইকার রোমালু লুকাকু ১০ এবং ৮৮ মিনিটে দু’টি গোল করেন। অন্য গোলটি টমাস ম্যুনিয়ের ৩৪ মিনিটে দেন। লুকাকুর দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রেও ম্যুনিয়ের সহায়তা ছিল। ইউরো কাপের ইতিহাসে ম্যুনিয়ের বিকল্প হিসাবে মাঠে নেমে প্রথমার্ধে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসাবে রেকর্ড গড়লেন। ২৯ বছরের ম্যুনিয়ের বেলজিয়াম দলের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র। তাঁর সর্বশেষ ৫টি ম্যাচে তিনি কোনও না কোনওভাবে ৫টি গোলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। গত পাঁচ ম্যাচে তিনি ২ গোল করেছেন এবং ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন। অন্যদিকে, বেলজিয়ামের জার্সি গায়ে ১৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১৯ গোল করে লুকাকু যেন এবারের ইউরোতে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিলেন।

আরও পড়ুন: আপাতত স্থিতিশীল এরিকসন: ড্যানিশ তারকার জন্য প্রার্থনায় গোটা ফুটবল বিশ্ব

বেলজিয়ামের তারকা ফুটবলার এডেন হ্যাজার্ড ৭২তম মিনিটে বিকল্প হিসাবে মাঠে নামেন। এটি হ্যাজার্ডের দলের রাশিয়ার বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় জয়। এর আগে, ‘রেড ডেভিল’রা (বেলজিয়াম) ২০১৯ সালের নভেম্বরে রাশিয়াকে ৪-১ এবং ২০১৯ মার্চে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছিল। এটি শেষ ছয় ম্যাচে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেলজিয়ামের পঞ্চম জয় ছিল। উভয় দলের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়েছিল। রাশিয়া তাদের হোম গ্রাউন্ড সেন্ট পিটার্সবার্গে শেষ ১৭ ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো গোলহীন রইল। বেলজিয়ামের হয়ে টানা দু’টি ইউরো কাপ টুর্নামেন্টে গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসাবে রেকর্ড গড়লেন লুকাকু। ২০১৬ ইউরো কাপেও গোল করেছিলেন তিনি। বেলজিয়ামের হয়ে ৯৪ ম্যাচে ৬২টি আন্তর্জাতিক গোল করেছেন লুকাকু।

আরও পড়ুন: কুস্তি: পোল্যান্ড ওপেনে কুস্তিগীর ভিনেশ ফোগাটের

গোটা ম্যাচে বেলজিয়ামের দাপট ছিল ঈর্ষণীয়। ৩-৪-৩ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন তাদের স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। ফর্মেশন দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, কতটা আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন মার্টিনেজের ছেলেরা। পুরো ম্যাচে লুকাকুরা নিজেদের মধ্যে পাস খেলেছিলেন ৭২২টি। যার মধ্যে সঠিক পাসের হার ৮৯ শতাংশ। বেলজিয়াম গোলমুখী শট নিয়েছে ৯টি। যার মধ্যে টার্গেটে ছিল ৪টি। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বল দখল রেখেছিলেন ৬৭ শতাংশ। উল্লেখ্য যে, বেলজিয়াম বনাম রাশিয়া ম্যাচের মধ্যেও শনিবারের ডেনমার্ক-ফিনল্যান্ড ম্যাচের রেশ ছিল। শনিবারের এই দ্বিতীয় ম্যাচে একটি থ্রোয়িং রিসিভ করার সময় মাঠের মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে যান ডেনমার্কের ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। সংজ্ঞা হারান তিনি। চিকিৎসকরা কৃত্রিম উপায়ে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ফেরানোর চেষ্টা করেন। মেডিক্যাল ইমারজেন্সিতে বহুক্ষণ বন্ধ থাকে ম্যাচ। সতীর্থকে হারানোর আশঙ্কায় ডেনমার্কের কয়েকজন ফুটবলারকে চোখের জল নিয়ে প্রার্থনা করতেও দেখা যায়। মাঠে উপস্থিত দর্শকরা সকলেই হতবাক এবং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় জ্ঞান ফেরে এরিকসেনের। এখন তিনি বিপদমুক্ত।

আরও পড়ুন: তুরস্ককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘পুনরুত্থানে’র স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইতালি

এহেন এরিকসেনকে নিয়ে খুবই উদ্বেগে ছিলেন লুকাকু। কারণ, লুকাকু এবং এরিকসেন ইন্টার মিলানের হয়ে একসঙ্গে খেলেন। এবার তাঁরা ইতালিয়ান সিরি এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা। রাশিয়া ম্যাচের ১০ মিনিটে প্রথম গোল করলেন লুকাকু, ক্যামেরার সামনে ছুটে গিয়ে তখন এরিকসেনের উদ্দেশ্যে বললেন— “ক্রিস, ক্রিস, ভালোবাসি তোমাকে।” এভাবেই প্রিয় সতীর্থের উদ্দেশে গোল উৎসর্গ করলেন তিনি। ম্যাচ শেষে এই তারকা ফুটবলার জানালেন যে, “খুব কঠিন একটা সময় ছিল। আমরা সবাই অনেক চোখের জল ফেলেছি ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে। ম্যাচের প্রতি মনোসংযোগ করা খুব কঠিন একটা ব্যাপার ছিল। আমি ক্রিশ্চিয়ানকে খুবই ভালোভাবে চিনি, জানি। ওর ছোট দু’টি সন্তান রয়েছে। ওদের ক্রিশ্চিয়ানকে দরকার। তাছাড়াও আমাদের ইন্টার মিলান দলেও ওকে প্রয়োজন। ওর জন্য সবারই খুব চিন্তা হচ্ছিল। দল জিতেছে বলে খুশি। তবে ক্রিশ্চিয়ানের কথাই ভাবছি শুধু। দ্রুত ওর সুস্থতা কামনা করি।”

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *