Latest News

Popular Posts

চুঁচুড়ার চোখ আটকেছে কবিতার দেওয়ালে

চুঁচুড়ার চোখ আটকেছে কবিতার দেওয়ালে

Mysepik Webdesk: বাংলা বছরের একেবারে প্রথম দিনেই কবিতার দেওয়াল নামে একটি দেওয়াল উন্মোচন করে চুঁচুড়া লিটল ম্যাগাজিন মেলা কর্তৃপক্ষ। প্রায় দীর্ঘ ছ’বছর ধরে রাজ্যের লিটল ম্যাগাজিন মেলার তালিকায় জায়গা করেছে এই সংগঠন। মুলত তিন কাণ্ডারি। সম্পাদক শুভদীপ দে। কোষাধ্যক্ষ সন্দীপ রুদ্র। সভাপতি ধীমান ব্রহ্মচারী। চুঁচুড়া লিটল ম্যাগাজিন মেলা তার মহতি প্রচেষ্টা-ভালোবাসা ও অগাধ সাহিত্য প্রেমের পরিচয় বহন করছে। স্থানীয় হুগলি ডিস্ট্রিক্ট বক্সিং গ্রাউন্ডে এদের এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ইংরেজি বছরের প্রথম শনি ও রবিবার নিয়ম করেই এই মেলা হয়ে আসছে। তাই এই মেলার পাশাপাশি কবিতা-প্রেমী পাঠকদের জন্য ও নস্টালজিয়াকে উসকে দিতেই এই দেওয়াল ম্যাগাজিন যার আক্ষরিক নাম ‘কবিতার দেওয়াল’ নামে তৈরি হয়েছে। এবং প্রতি বাংলা মাসের পয়লা তারিখ দেওয়াল জুড়ে কবিতা আটকানো হয় বলে মেলা কমিটি সূত্রে খবর। এই দেওয়াল এবারে পয়লা বৈশাখে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন শহরের বিশিষ্ট কবি দীপক রায়, অসীম ভট্টাচার্য, সুজিৎ রেজ, প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায়, সৌম্য ঘোষ, মৃন্ময় ভট্টাচার্য, সৌম্য শুভ্র ঘোষ ও দেবাশিস রায়। এছাড়াও ছিলেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী অসীম সেন, সাহিত্য-প্রেমী সুদর্শন বসু সহ আরও অনেকে। প্রত্যেকেই এদিনের কবিতা পাঠে অংশ নেন।

আরও পড়ুন: অতিমারি: স্পর্শ, বৌদ্ধিক মুদ্রা ও শ্রুশ্রূষা

মেলার সম্পাদক শুভদীপ দে জানান, “এই কবিতার দেওয়াল আমাদের স্পর্ধা। জলে ভিজে যাবে, রোদে পুড়ে যাবে, তবুও আমরা আবার কবিতা আটকাব।” এছাড়াও মেলার কোষাধ্যক্ষ সন্দীপ রুদ্র বলেন, “আমাদের এই দেওয়াল শহরের সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রাণকেন্দ্র চুঁচুড়ার এই স্থানে অগণিত মানুষের নিত্য যাতায়াত, তাঁদেরও এই কবিতা তৃপ্তি  জোগাবে।” এই উদ্যোগে বেশ কিছু সংস্কৃতি সংগঠন যেমন লিটল ম্যাগাজিন, ‘যাচ্ছেতাই পত্রিকা’ ও ‘এবং অধ্যায়’ পত্রিকা-প্রকাশনী ও সেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জনস্বার্থ’র সহযোগিতা অপরিহার্য। এই দেওয়ালে কবিতা পাঠাতে গেলে শুধুমাত্র হাতে লেখা কবিতাই পাঠাতে হবে বলে জানা গেছে। প্রতি মাসেই মোটামুটি দশজন কবির হাতে লেখা কবিতার পাতা দিয়ে সাজানো হয়। এই দেওয়াল পত্রিকার আরও একটা বৈশিষ্ট্য, দেওয়ালের প্রচ্ছদ। এই শহরের বিশিষ্ট প্রচ্ছদ শিল্পী পলাশ বাগ প্রতিবারই তাঁর প্রচ্ছদ দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন শিল্পের রূপ। মেলা কমিটি থেকে জানা যায়, যেমন ভাবে একটা পত্রিকার প্রচ্ছদ থাকে, ঠিক তেমনই এখানে সেই প্রচ্ছদের র’কপিই প্রচ্ছদ নামাঙ্কিত স্থানে আটকানো হয়। শহরের বুকে এইরকম এক অভিনব সাহিত্য চর্চা বিশেষ আলোড়ন ফেলেছে।

আরও পড়ুন: পোকেমনের দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগত

শহরেরই বিশিষ্ট কবি অসীম ভট্টাচার্য বলেন, এই কবিতার দেওয়াল আমাদের সাহিত্য আবেগ। কবি দীপক রায় জানান, এই দেওয়ালের অভিনব ভাবনা আমাদের অনেক স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। গল্পকার নিত্যরঞ্জন দেবনাথ জানান, চুঁচুড়ার গর্ব আমাদের এই কবিতার দেওয়াল। কবি অতনু কুমার বসুর কথায়, আমাদের নস্টালজিয়া স্মরণ করিয়ে দেয়। কবি দেবাশিস রায় বলেন, আমরা সকলেই একে তিলে তিলে যত্ন নিচ্ছি। এভাবেই সাহিত্য-প্রেমীদের কাছে এই কবিতার দেওয়াল হয়েছে উঠেছে একটা সাহিত্য পীঠস্থান।

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

One thought on “চুঁচুড়ার চোখ আটকেছে কবিতার দেওয়ালে

  1. খুব ভালো একটা খবর।এভাবেও সাহিত্য চর্চা হচ্ছে জেলা স্তরে ও আমরা করতে পাচ্ছি এবং এই ধরণের খবর প্রকাশিত হওয়ায় আনন্দিত হচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *